শসা, লেবু, আদা বা পুদিনা মিশিয়ে তৈরি ডিটক্স পানি পান করলে শরীরের সব বিষাক্ত পদার্থ দূর হয়ে যায় এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে এটি কম ক্যালরিযুক্ত ও সতেজ একটি পানীয় হিসেবে ভালো বিকল্প হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরের স্বাভাবিক বর্জ্য অপসারণ, হজম ও পানিশূন্যতা প্রতিরোধে উপকার পাওয়া যায়।
ডিটক্স পানি নিয়ে অনেকের মধ্যে নানা ধরনের ধারণা প্রচলিত রয়েছে। কেউ মনে করেন, এটি ওজন কমায়, ত্বক উজ্জ্বল করে এবং শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের তথ্য বলছে, এসব উপকারের বেশির ভাগই সাধারণ পানি পান করার সঙ্গেও সম্পর্কিত।ডিটক্স পানি তৈরি করতে পানিতে বিভিন্ন ফল, সবজি বা ভেষজ উপাদান ভিজিয়ে রাখা হয়। লেবু-আদা, শসা-পুদিনা, তরমুজ-পুদিনা, কমলা-লেবু, স্ট্রবেরি-তুলসী এবং আপেল-দারুচিনি এর জনপ্রিয় কিছু সংমিশ্রণ। সাধারণত এতে ফলের রস বা পুরো ফল ব্যবহার করা হয় না।
এ কারণে ডিটক্স পানিতে ক্যালরির পরিমাণও তুলনামূলকভাবে কম থাকে। চিনি দেওয়া কোমল পানীয় বা অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত ফলের রসের পরিবর্তে এটি পান করলে দৈনিক ক্যালরি গ্রহণ কমতে পারে। তবে পানীয়টির উপকারকে কোনো ডিটক্স করার বিশেষ ক্ষমতা হিসেবে দেখা ঠিক নয়।ডিটক্স পানি তৈরি করাও বেশ সহজ। পছন্দের ফল, সবজি বা ভেষজ উপাদান ছোট করে কেটে ঠান্ডা কিংবা গরম পানিতে দিতে হয়।ঠান্ডা ডিটক্স পানি তৈরি করলে সাধারণত কয়েক ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে পান করা যায়।
ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও পানি কিছুটা সহায়ক হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করলে কিছু সময়ের জন্য বিপাকক্রিয়ার গতি বাড়তে পারে এবং ক্ষুধার অনুভূতিও কিছুটা কমতে পারে। খাবারের আগে পানি পান করলে কেউ কেউ তুলনামূলক কম খাবার খান। তবে এসব সুবিধা শুধু ডিটক্স পানির জন্য নয়, সাধারণ পানিতেও পাওয়া যায়।শরীরে পর্যাপ্ত পানি থাকলে বিভিন্ন বর্জ্য শরীর থেকে বের হতে এবং মল নরম রাখতে সহায়তা করে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধেও পানি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত পানি না পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্যের পাশাপাশি পেট ফাঁপা ও অস্বস্তির মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
পানিশূন্যতা মন-মেজাজ, মনোযোগ ও কর্মশক্তির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। শরীরে পানির ঘাটতি হলে মাথাব্যথা, ক্লান্তি বা মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সাধারণ পানি হোক বা স্বাদযুক্ত ডিটক্স পানি, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের অভ্যাস শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।ফল ও সবজিতে থাকা ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহায়তা করে। তবে পানিতে ফল বা সবজি ভিজিয়ে রাখলে যে পরিমাণ পুষ্টি পানিতে আসে, তা সীমিত হতে পারে। তাই ডিটক্স পানি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় এমন দাবি করার যথেষ্ট প্রমাণ নেই।
ডিটক্স পানিকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ধারণা হলো, এটি শরীরের জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ দূর করে। কিন্তু শরীরের বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কাজ করে। ডিটক্স পানি পান করে সেই প্রক্রিয়াকে দ্রুত বা আরও কার্যকর করা যায় এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ানোর ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে পর্যাপ্ত পানি পান করলে ত্বকের পানিশূন্যতা কমতে পারে। কিন্তু সাধারণ পানির তুলনায় ডিটক্স পানি ত্বককে বেশি উজ্জ্বল বা সুন্দর করে এমন শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায় না।
তাই ডিটক্স পানিকে শরীর পরিষ্কার করার কোনো জাদুকরি পানীয় হিসেবে না দেখে স্বাদযুক্ত ও কম ক্যালরির পানীয় হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। সাধারণ পানি একঘেয়ে মনে হলে লেবু, শসা, পুদিনা বা আদা মিশিয়ে পান করলে পানি খাওয়ার অভ্যাস বাড়তে পারে। চিনি দেওয়া পানীয়ের পরিবর্তে এটি বেছে নেওয়াই হতে পারে এর সবচেয়ে বাস্তব উপকার।





























