শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারানো দুই সেনাসদস্যের স্বজনরা মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে তাদের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন প্রধানমন্ত্রী। শোকের এই সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়।
সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দুই সেনাসদস্য প্রাণ দিয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি নিহত সেনাসদস্যদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং বলেন, এই কঠিন সময়ে সরকার তাদের পাশে রয়েছে। শুধু তাৎক্ষণিক সহযোগিতা নয়, ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি। সেনাসদস্যদের পরিবারের দেখভালে সরকার দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়।
শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারকে দেওয়া সহায়তা শুধু আর্থিক সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের স্থায়ী ঠিকানায় পরিবারের জন্য একটি করে বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নিহত সেনাসদস্যদের স্ত্রীদের চাকরির ব্যবস্থা করার উদ্যোগও নেওয়া হবে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় তাদের জন্য মাসিক ভাতা দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। এসব উদ্যোগ পরিবারগুলোর দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রায় সহায়তা করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ারিংয়ের সময় গোলা বিস্ফোরণে দুই সেনাসদস্য গুরুতরভাবে আহত হন এবং পরে তারা শহীদ হন। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেনাবাহিনী ও তাদের সহকর্মীদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। দায়িত্ব পালনকালে এমন প্রাণহানির ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
নিহত দুই সেনাসদস্য হলেন সৈনিক (অপারেটর) আবু বকর সিদ্দিক এবং সৈনিক (গানার) মো. তাসনিম রিফায়াত। তারা হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সামরিক প্রশিক্ষণ ও দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ট্যাংক ফায়ারিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের এই মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যরা আপনজন হারানোর গভীর শোকে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তাদের স্বজনদের সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।
শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারকে সহায়তার এই উদ্যোগে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। বাড়ি নির্মাণ, স্ত্রীদের চাকরি এবং সন্তানদের মাসিক ভাতার পরিকল্পনা পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎকে কিছুটা নিরাপদ করতে পারে। দেশের দায়িত্ব পালনে প্রাণ দেওয়া সেনাসদস্যদের পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এই আত্মত্যাগকে সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।



























