ঢাকা ০৮:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

এসআরবি বাংলাদেশ নামে নতুন বিশেষায়িত বাহিনী কার্যক্রম শুরু করেছে

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৭:২৪:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৫

নতুন নামে পরিবর্তন করা হয়েছে বাহিনীর লোগো। | ছবি: সংগৃহীত

এসআরবি বাংলাদেশ নামে নতুন বিশেষায়িত বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‍্যাবের পরিবর্তে পুলিশের অধীনে গঠিত এই বাহিনী বুধবার থেকে কাজ শুরু করে। বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখা বিষয়টি জানিয়েছে। নতুন বাহিনীর যাত্রার প্রথম দিনেই এর নাম ও লোগোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে র‍্যাবের দীর্ঘদিনের কার্যক্রমের পর নতুন কাঠামোয় বিশেষায়িত ইউনিটের যাত্রা শুরু হলো।

এসআরবি বাংলাদেশের নতুন নামের সঙ্গে লোগোতেও পরিবর্তন দেখা গেছে। বুধবারের সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রে ব্যবহৃত লোগোতে আগের নামের পরিবর্তে ‘এসআরবি বাংলাদেশ’ লেখা হয়েছে। তবে লোগোর মূল নকশা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও নতুন নামের লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। র‍্যাবের আগের ওয়েবসাইটেও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। সেখানে বড় করে ‘এসআরবি’ লেখা হয়েছে এবং যুক্ত হয়েছে নতুন লোগো। তবে ওয়েবসাইটের ইউআরএল আগের অবস্থাতেই রয়েছে।

নতুন বাহিনী গঠনের আইনি প্রক্রিয়াও এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ পাস হয়। এই আইনের মাধ্যমে র‍্যাবের বিদ্যমান আইনি কাঠামোর বিধান বাতিল করে পুলিশের অধীনে এসআরবি নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংসদে বিলটি পাসের পর মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। গেজেট প্রকাশের পর আইনটি কার্যকর হয় এবং পরদিন নতুন নামে বাহিনীর কার্যক্রম শুরু হয়।

সংসদে বিলটি পাসের সময় বিরোধী সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে কিছু বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল। বিশেষ করে নতুন বাহিনীতে র‍্যাবের জনবল, সম্পদ ও অন্যান্য উপকরণ স্থানান্তরের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, র‍্যাবের পরিবর্তে আধুনিক, পেশাদার, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের লক্ষ্যেই নতুন আইন করা হয়েছে। ফলে নতুন বাহিনীর কাঠামো নিয়ে সংসদে ভিন্নমতও দেখা গেছে।

এসআরবি বাংলাদেশের দায়িত্বের ক্ষেত্রও আইনে নির্ধারণ করা হয়েছে। জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য এই বিশেষায়িত ইউনিট কাজ করবে। একই সঙ্গে বাহিনীর ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও আইনি বিধান রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন বাহিনী পুলিশের অধীনে থেকে নির্দিষ্ট বিশেষায়িত দায়িত্ব পালনের কাঠামোয় কাজ করবে।

এসআরবি বাংলাদেশের কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত র‍্যাবের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের অবসান হয়েছে। নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে বাহিনীটি এখন পুলিশের অধীনে কাজ করবে। তবে প্রথম দিনেই নতুন নামের সঙ্গে আগের লোগোর মূল নকশা অপরিবর্তিত থাকায় বিষয়টি আলাদা করে নজরে এসেছে। সামনে নতুন বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামো, দায়িত্ব পালন ও কার্যক্রম কীভাবে এগোয়, তা নির্ভর করবে নতুন আইনের অধীনে নেওয়া প্রশাসনিক ও কার্যকরী পদক্ষেপের ওপর।

জনপ্রিয় সংবাদ

২০০ কোটির সিনেমার সাফল্যে আলোচনায় মামিথা বাইজু

এসআরবি বাংলাদেশ নামে নতুন বিশেষায়িত বাহিনী কার্যক্রম শুরু করেছে

Update Time : ০৭:২৪:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এসআরবি বাংলাদেশ নামে নতুন বিশেষায়িত বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‍্যাবের পরিবর্তে পুলিশের অধীনে গঠিত এই বাহিনী বুধবার থেকে কাজ শুরু করে। বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখা বিষয়টি জানিয়েছে। নতুন বাহিনীর যাত্রার প্রথম দিনেই এর নাম ও লোগোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে র‍্যাবের দীর্ঘদিনের কার্যক্রমের পর নতুন কাঠামোয় বিশেষায়িত ইউনিটের যাত্রা শুরু হলো।

এসআরবি বাংলাদেশের নতুন নামের সঙ্গে লোগোতেও পরিবর্তন দেখা গেছে। বুধবারের সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রে ব্যবহৃত লোগোতে আগের নামের পরিবর্তে ‘এসআরবি বাংলাদেশ’ লেখা হয়েছে। তবে লোগোর মূল নকশা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও নতুন নামের লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। র‍্যাবের আগের ওয়েবসাইটেও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। সেখানে বড় করে ‘এসআরবি’ লেখা হয়েছে এবং যুক্ত হয়েছে নতুন লোগো। তবে ওয়েবসাইটের ইউআরএল আগের অবস্থাতেই রয়েছে।

আরও পড়ুন  র‍্যাব ইতিহাস! আসছে এসআরবি, কতটা ক্ষমতাধর হবে নতুন বাহিনী?

নতুন বাহিনী গঠনের আইনি প্রক্রিয়াও এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ পাস হয়। এই আইনের মাধ্যমে র‍্যাবের বিদ্যমান আইনি কাঠামোর বিধান বাতিল করে পুলিশের অধীনে এসআরবি নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংসদে বিলটি পাসের পর মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। গেজেট প্রকাশের পর আইনটি কার্যকর হয় এবং পরদিন নতুন নামে বাহিনীর কার্যক্রম শুরু হয়।

আরও পড়ুন  শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা বাড়ানোর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

সংসদে বিলটি পাসের সময় বিরোধী সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে কিছু বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল। বিশেষ করে নতুন বাহিনীতে র‍্যাবের জনবল, সম্পদ ও অন্যান্য উপকরণ স্থানান্তরের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, র‍্যাবের পরিবর্তে আধুনিক, পেশাদার, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের লক্ষ্যেই নতুন আইন করা হয়েছে। ফলে নতুন বাহিনীর কাঠামো নিয়ে সংসদে ভিন্নমতও দেখা গেছে।

এসআরবি বাংলাদেশের দায়িত্বের ক্ষেত্রও আইনে নির্ধারণ করা হয়েছে। জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য এই বিশেষায়িত ইউনিট কাজ করবে। একই সঙ্গে বাহিনীর ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও আইনি বিধান রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন বাহিনী পুলিশের অধীনে থেকে নির্দিষ্ট বিশেষায়িত দায়িত্ব পালনের কাঠামোয় কাজ করবে।

আরও পড়ুন  বন্দর রক্ষা নিয়ে নতুন ঘোষণা, ১৫ আগস্ট নাগরিক কনভেনশন

এসআরবি বাংলাদেশের কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত র‍্যাবের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের অবসান হয়েছে। নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে বাহিনীটি এখন পুলিশের অধীনে কাজ করবে। তবে প্রথম দিনেই নতুন নামের সঙ্গে আগের লোগোর মূল নকশা অপরিবর্তিত থাকায় বিষয়টি আলাদা করে নজরে এসেছে। সামনে নতুন বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামো, দায়িত্ব পালন ও কার্যক্রম কীভাবে এগোয়, তা নির্ভর করবে নতুন আইনের অধীনে নেওয়া প্রশাসনিক ও কার্যকরী পদক্ষেপের ওপর।