লিপস্টিক কেনার সময় শুধু পছন্দের রং বা দাম দেখলেই হবে না, প্যাকেটের গায়ে থাকা উপকরণের তালিকাও দেখে নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে,কিছু লিপস্টিকে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট রাসায়নিক উপাদান ঠোঁটে শুষ্কতা, জ্বালা বা রঙের পরিবর্তনের মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সিসা, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়ামের মতো ধাতব উপাদান নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। তাই কেনার আগে উপকরণের তালিকা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
সাজগোজের অন্যতম জনপ্রিয় প্রসাধনী হলো লিপস্টিক। বাইরে বের হওয়ার আগে ঠোঁটে পছন্দের রং লাগালেই পুরো সাজে আসে ভিন্নতা। তবে নিয়মিত ব্যবহারের এই প্রসাধনীটি সরাসরি ঠোঁটের সংবেদনশীল ত্বকের সংস্পর্শে আসে। ফলে পণ্যের মান ও এতে ব্যবহৃত উপকরণ সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
অনেকের ঠোঁটে ধূমপানের অভ্যাস না থাকলেও কালচে ছোপ দেখা দিতে পারে।এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে এবং শুধু লিপস্টিককেই এর একমাত্র কারণ বলা যায় না। তবে দীর্ঘদিন নিম্নমানের বা ত্বকে অস্বস্তি তৈরি করে এমন প্রসাধনী ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা ভালো। কোনো পণ্য ব্যবহারের পর অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে সেটি ব্যবহার বন্ধ করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
লিপস্টিকে ব্যবহৃত রং ও অন্যান্য উপকরণ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। কিছু পণ্যে সিসা ও ক্রোমিয়ামের মতো ধাতব উপাদান থাকতে পারে। একইভাবে ক্যাডমিয়াম নিয়েও প্রসাধনীতে উপস্থিতি ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তাই লিপস্টিক কেনার সময় উপকরণের তালিকা ভালোভাবে পড়ে নেওয়া নিরাপদ অভ্যাস।
কিছু প্রতিবেদনে লিপস্টিকের উপকরণের তালিকায় সিসা, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, রেড ডাই ৪০ এবং ইয়ালো লেক ৫-এর মতো উপাদান থাকলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো উপাদানের নাম দেখলেই সেটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিপজ্জনক ধরে নেওয়ার বদলে পণ্যের অনুমোদন, প্রস্তুতকারক এবং ব্যবহারের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা ভালো। বিশ্বস্ত উৎস থেকে প্রসাধনী কেনাও গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু কম দাম দেখেই লিপস্টিক কেনা উচিত নয়। আবার বেশি দাম হলেই কোনো পণ্য অবশ্যই নিরাপদ এমনটিও ধরে নেওয়া ঠিক নয়। পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ডের পণ্য এবং সঠিক লেবেলযুক্ত প্রসাধনী বেছে নেওয়া যেতে পারে। কেনার আগে প্যাকেটের উপকরণ,মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও প্রস্তুতকারকের তথ্য দেখে নেওয়া উচিত।
লিপস্টিক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কিছু অভ্যাস মেনে চলা জরুরি। সারাদিন লিপস্টিক ব্যবহারের পর রাতে সেটি পরিষ্কার না করে ঘুমিয়ে পড়া ঠিক নয়। ঘুমানোর আগে ঠোঁট থেকে প্রসাধনী আলতোভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজিং লিপ বাম ব্যবহার করলে ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
লিপস্টিক ব্যবহারের আগে ঠোঁটের শুষ্কতা কমাতে উপযুক্ত লিপ বাম ব্যবহার করা যেতে পারে। দিনের বেলায় বাইরে থাকলে সূর্যের আলো থেকে সুরক্ষার জন্য SPF-যুক্ত লিপ বামও ব্যবহার করা যায়। তবে কোনো পণ্য ব্যবহারের পর জ্বালা, চুলকানি, ফুসকুড়ি বা অস্বস্তি হলে সেটি ব্যবহার না করাই ভালো। সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ম্যাট লিপস্টিক দীর্ঘসময় স্থায়ী হওয়ার কারণে অনেকের পছন্দের হলেও কিছু ধরনের ম্যাট ফর্মুলা ঠোঁটকে তুলনামূলক শুষ্ক অনুভব করাতে পারে। বিশেষ করে যাদের ঠোঁট আগে থেকেই শুষ্ক, তাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘসময় ব্যবহারে অস্বস্তি হতে পারে। তাই নিয়মিত ব্যবহারের জন্য নিজের ঠোঁটের ধরন অনুযায়ী পণ্য বেছে নেওয়া ভালো। ব্যবহারের মাঝে ঠোঁটকে পর্যাপ্ত আর্দ্র রাখাও জরুরি।
লিপস্টিক সাজগোজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এর ব্যবহারে সচেতনতা প্রয়োজন। শুধু রং বা দামের দিকে নজর না দিয়ে উপকরণের তালিকা, পণ্যের মান ও প্রস্তুতকারকের তথ্য যাচাই করা উচিত। ভালো মানের পণ্য ব্যবহার, রাতে লিপস্টিক পরিষ্কার করা এবং ঠোঁট আর্দ্র রাখার অভ্যাস উপকারী হতে পারে। সচেতনভাবে প্রসাধনী বেছে নিলেই সৌন্দর্যের পাশাপাশি ঠোঁটের যত্নও নিশ্চিত করা সম্ভব।
সংবাদ শিরোনাম :
লিপস্টিক কেনার আগে এই ৫ উপকরণ দেখুন, বিপদ এড়ান
-
ডেস্ক নিউজ - Update Time : ১১:৪৩:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- ৫১০
Tag :
ঠোঁট কালো হওয়ার কার ঠোঁটের যত্ন ম্যাট লিপস্টিক লিপস্টিক ব্যবহারের সতর্কতা লিপস্টিকের ক্ষতিকর উপাদান
জনপ্রিয় সংবাদ




























