ঢাকা ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ঈদুল আজহায় টানা ৭ দিনের ছুটি, খোলা থাকবে দুই দিন অফিস

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৭:০৬:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
  • ৫২৯

চিত্রঃ ঈদুল আজহায় সরকারি কর্মচারীদের টানা ৭ দিনের ছুটি

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘ ছুটির এ ঘোষণায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত সরকারি ছুটি কার্যকর থাকবে। এর ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা সাত দিনের ছুটি উপভোগ করার সুযোগ পাবেন। ঈদকে কেন্দ্র করে পরিবার নিয়ে বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতিও শুরু করেছেন অনেকে।

তবে দীর্ঘ ছুটি সমন্বয়ের অংশ হিসেবে ২৩ ও ২৪ মে সরকারি অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৩ মে সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস করতে হবে। সরকার মনে করছে, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রমে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে।প্রতি বছর ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া মানুষের চাপ বেড়ে যায়। দীর্ঘ ছুটির কারণে এবারও সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীচাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেকেই আগাম টিকিট সংগ্রহের প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

সরকারি ছুটির ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষও। অনেকের মতে, টানা ছুটি পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ করে দেবে। বিশেষ করে কর্মব্যস্ত জীবনে এমন দীর্ঘ বিরতি মানসিক স্বস্তি এনে দেয় বলেও মত দিয়েছেন অনেকে। অন্যদিকে একই মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬’-এর খসড়াও অনুমোদন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ এ নীতিমালার প্রস্তাব উত্থাপন করে। জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সরকার এ নীতিমালাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পাবলিক টয়লেট ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সারাদেশে স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত টয়লেট সুবিধা নিশ্চিত করাই এ নীতিমালার প্রধান উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিবেশগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। নীতিমালায় নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যবহারবান্ধব টয়লেট সুবিধা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ যেন সহজে টয়লেট ব্যবহার করতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

এছাড়া পাবলিক টয়লেট ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে রক্ষণাবেক্ষণ ও অর্থায়নের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকার মনে করছে, কার্যকর ব্যবস্থাপনা ছাড়া এসব সুবিধা দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব নয়। তাই নীতিমালায় পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নীতিমালার বাস্তবায়ন ও সময়োপযোগী সংস্কারের জন্য আলাদা কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনা হবে বলে জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহারের সচেতনতা তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

এজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে যেকোনো ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে নারীদের জন্য পৃথক টয়লেট নির্মাণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। একই সঙ্গে সব টয়লেটে সেফটি ট্যাংক নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে বর্জ্য কোনোভাবেই নদী, খাল-বিল বা জলাশয়ে গিয়ে পরিবেশ দূষণের কারণ না হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে অনেক পাবলিক টয়লেট এখনো অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নারী ও শিশুদের জন্য আলাদা সুবিধা না থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হয়। নতুন নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন তারা।একই সঙ্গে দীর্ঘ সরকারি ছুটির সিদ্ধান্ত দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঈদকে ঘিরে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের ভিড় বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সামাল দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে।

সরকারের এ দুই সিদ্ধান্ত—একদিকে টানা সরকারি ছুটি এবং অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যভিত্তিক নীতিমালা অনুমোদন—সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। এখন সিদ্ধান্তগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের দিকেই নজর সবার।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে যোগদান

ঈদুল আজহায় টানা ৭ দিনের ছুটি, খোলা থাকবে দুই দিন অফিস

Update Time : ০৭:০৬:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘ ছুটির এ ঘোষণায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত সরকারি ছুটি কার্যকর থাকবে। এর ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা সাত দিনের ছুটি উপভোগ করার সুযোগ পাবেন। ঈদকে কেন্দ্র করে পরিবার নিয়ে বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতিও শুরু করেছেন অনেকে।

তবে দীর্ঘ ছুটি সমন্বয়ের অংশ হিসেবে ২৩ ও ২৪ মে সরকারি অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৩ মে সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস করতে হবে। সরকার মনে করছে, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রমে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে।প্রতি বছর ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া মানুষের চাপ বেড়ে যায়। দীর্ঘ ছুটির কারণে এবারও সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীচাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেকেই আগাম টিকিট সংগ্রহের প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

আরও পড়ুন  শত শত কোটি টাকার টোল চুরি, রেগনাম নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

সরকারি ছুটির ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষও। অনেকের মতে, টানা ছুটি পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ করে দেবে। বিশেষ করে কর্মব্যস্ত জীবনে এমন দীর্ঘ বিরতি মানসিক স্বস্তি এনে দেয় বলেও মত দিয়েছেন অনেকে। অন্যদিকে একই মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬’-এর খসড়াও অনুমোদন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ এ নীতিমালার প্রস্তাব উত্থাপন করে। জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সরকার এ নীতিমালাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পাবলিক টয়লেট ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সারাদেশে স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত টয়লেট সুবিধা নিশ্চিত করাই এ নীতিমালার প্রধান উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিবেশগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। নীতিমালায় নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যবহারবান্ধব টয়লেট সুবিধা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ যেন সহজে টয়লেট ব্যবহার করতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  দেশে ঈদুল আজহা কবে জানা যাবে আগামীকাল সন্ধ্যায়

এছাড়া পাবলিক টয়লেট ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে রক্ষণাবেক্ষণ ও অর্থায়নের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকার মনে করছে, কার্যকর ব্যবস্থাপনা ছাড়া এসব সুবিধা দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব নয়। তাই নীতিমালায় পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নীতিমালার বাস্তবায়ন ও সময়োপযোগী সংস্কারের জন্য আলাদা কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনা হবে বলে জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহারের সচেতনতা তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

এজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে যেকোনো ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে নারীদের জন্য পৃথক টয়লেট নির্মাণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। একই সঙ্গে সব টয়লেটে সেফটি ট্যাংক নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে বর্জ্য কোনোভাবেই নদী, খাল-বিল বা জলাশয়ে গিয়ে পরিবেশ দূষণের কারণ না হয়।

আরও পড়ুন  বৈজ্ঞানিক হিসাব বলছে ঈদুল আজহার সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ করল আমিরাত

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে অনেক পাবলিক টয়লেট এখনো অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নারী ও শিশুদের জন্য আলাদা সুবিধা না থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হয়। নতুন নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন তারা।একই সঙ্গে দীর্ঘ সরকারি ছুটির সিদ্ধান্ত দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঈদকে ঘিরে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের ভিড় বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সামাল দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে।

সরকারের এ দুই সিদ্ধান্ত—একদিকে টানা সরকারি ছুটি এবং অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যভিত্তিক নীতিমালা অনুমোদন—সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। এখন সিদ্ধান্তগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের দিকেই নজর সবার।