ঢাকা ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে দুই ঘণ্টায় ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি, বিভিন্ন স্থানে পানি জমে দুর্ভোগ

ফার্মগেট এলাকা। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা এর কারণে আজ এক অবর্ণনীয়, চরম ভোগান্তিময় এবং ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে মেগাসিটি ঢাকার চিরচেনা স্বাভাবিক জনজীবন, যেখানে বিকেল চারটার পর শুরু হওয়া মাত্র দুই ঘণ্টার মুষলধারে বর্ষণে রাজপথ থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত সর্বত্রই থৈ থৈ পানিতে তলিয়ে গিয়ে তীব্র ট্রাফিক জ্যামের সৃষ্টি করেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোট ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার সিংহভাগই হয়েছে বিকালের মাত্র দুই ঘণ্টায় এবং এই আকস্মিক প্রবল বর্ষণের ফলে অফিস ছুটির পর ঘরমুখী হাজার হাজার কর্মজীবী মানুষকে যানবাহনের তীব্র সংকটে পড়ে ফার্মগেট ও মহাখালীর মতো ব্যস্ততম মোড়ে ঠায় দাঁড়িয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে দেখা গেছে।

টাঙ্গাইল থেকে আসা অনিমা রায়ের মতো দূরপাল্লার যাত্রীরা কল্যাণপুর পাম্পে নেমে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া দিয়েও একটি সিএনজি অটোরিকশা পেতে যেমন দীর্ঘ সময় অপেক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন, ঠিক তেমনি মাত্র আধা ঘণ্টার মণিপুরীপাড়ার পথটুকু পাড়ি দিতে বিভিন্ন এলাকার জলমগ্ন রাস্তার কারণে তাঁর পুরো দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে যা মহানগরের বর্তমান বেহাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তোলে।

নগরের তেজতুরী বাজার, কারওয়ান বাজার, কাঁঠালবাগান, মিরপুরের কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া এবং ধানমন্ডির মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো সামান্য বৃষ্টিতেই পুরোপুরি প্লাবিত হয়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ পথচারী ও ছোট ছোট যানবাহন চালকদের দীর্ঘক্ষণ কোমর পানিতে আটকে থেকে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে, যা বর্ষার শুরুতেই পুরো রাজধানীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার শোচনীয় অবস্থাকে নগ্নভাবে উন্মোচিত করেছে।

তৎকালীন উত্তর সিটির প্রশাসকদের বিপুল অর্থ ব্যয়ে জলজট মুক্ত ঢাকা গড়ার বড় বড় আশ্বাসের চরম ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশিষ্ট নগরবিশেষজ্ঞ ইকবাল হাবিব আজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন যে, বুড়িগঙ্গার মাত্র ৩০০ গজ দূরত্বের নিউমার্কেট এলাকা বা জাতীয় সংসদ ভবনের মতো সংবেদনশীল জোনে প্লাবন ঘটার মূল কারণ হলো প্রাকৃতিক নাব্যতা ও নিম্ন অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন না রেখে করা সম্পূর্ণ পরিকল্পনাহীন ভুল উন্নয়নমূলক কার্যক্রম।

এই তীব্র জলমগ্নতা দূর করতে এবং নগরবাসীর আসন্ন বর্ষা মৌসুমের নিত্যদিনের অবর্ণনীয় ভোগান্তি কমাতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং দুই সিটি কর্পোরেশনকে দ্রুত ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নেওয়ার পাশাপাশি ঢাকার চারপাশের ভরাট হয়ে যাওয়া খাল ও প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো অবিলম্বে পুনরুদ্ধার করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে দুই ঘণ্টায় ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি, বিভিন্ন স্থানে পানি জমে দুর্ভোগ

Update Time : ১১:৫৬:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

রাজধানীতে ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা এর কারণে আজ এক অবর্ণনীয়, চরম ভোগান্তিময় এবং ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে মেগাসিটি ঢাকার চিরচেনা স্বাভাবিক জনজীবন, যেখানে বিকেল চারটার পর শুরু হওয়া মাত্র দুই ঘণ্টার মুষলধারে বর্ষণে রাজপথ থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত সর্বত্রই থৈ থৈ পানিতে তলিয়ে গিয়ে তীব্র ট্রাফিক জ্যামের সৃষ্টি করেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোট ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার সিংহভাগই হয়েছে বিকালের মাত্র দুই ঘণ্টায় এবং এই আকস্মিক প্রবল বর্ষণের ফলে অফিস ছুটির পর ঘরমুখী হাজার হাজার কর্মজীবী মানুষকে যানবাহনের তীব্র সংকটে পড়ে ফার্মগেট ও মহাখালীর মতো ব্যস্ততম মোড়ে ঠায় দাঁড়িয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে দেখা গেছে।

আরও পড়ুন  ৫ দিনের পূর্বাভাস জানাল আবহাওয়া অফিস

টাঙ্গাইল থেকে আসা অনিমা রায়ের মতো দূরপাল্লার যাত্রীরা কল্যাণপুর পাম্পে নেমে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া দিয়েও একটি সিএনজি অটোরিকশা পেতে যেমন দীর্ঘ সময় অপেক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন, ঠিক তেমনি মাত্র আধা ঘণ্টার মণিপুরীপাড়ার পথটুকু পাড়ি দিতে বিভিন্ন এলাকার জলমগ্ন রাস্তার কারণে তাঁর পুরো দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে যা মহানগরের বর্তমান বেহাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তোলে।

আরও পড়ুন  ঢাকায় দুপুরের মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে

নগরের তেজতুরী বাজার, কারওয়ান বাজার, কাঁঠালবাগান, মিরপুরের কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া এবং ধানমন্ডির মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো সামান্য বৃষ্টিতেই পুরোপুরি প্লাবিত হয়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ পথচারী ও ছোট ছোট যানবাহন চালকদের দীর্ঘক্ষণ কোমর পানিতে আটকে থেকে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে, যা বর্ষার শুরুতেই পুরো রাজধানীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার শোচনীয় অবস্থাকে নগ্নভাবে উন্মোচিত করেছে।

তৎকালীন উত্তর সিটির প্রশাসকদের বিপুল অর্থ ব্যয়ে জলজট মুক্ত ঢাকা গড়ার বড় বড় আশ্বাসের চরম ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশিষ্ট নগরবিশেষজ্ঞ ইকবাল হাবিব আজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন যে, বুড়িগঙ্গার মাত্র ৩০০ গজ দূরত্বের নিউমার্কেট এলাকা বা জাতীয় সংসদ ভবনের মতো সংবেদনশীল জোনে প্লাবন ঘটার মূল কারণ হলো প্রাকৃতিক নাব্যতা ও নিম্ন অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন না রেখে করা সম্পূর্ণ পরিকল্পনাহীন ভুল উন্নয়নমূলক কার্যক্রম।

আরও পড়ুন  ৪ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা, থাকতে পারে বজ্রবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি

এই তীব্র জলমগ্নতা দূর করতে এবং নগরবাসীর আসন্ন বর্ষা মৌসুমের নিত্যদিনের অবর্ণনীয় ভোগান্তি কমাতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং দুই সিটি কর্পোরেশনকে দ্রুত ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নেওয়ার পাশাপাশি ঢাকার চারপাশের ভরাট হয়ে যাওয়া খাল ও প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো অবিলম্বে পুনরুদ্ধার করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।