ঢাকা ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন

নাশকতা আশঙ্কায় ৬ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন। ছবি: সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে দেশের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই মোতায়েন কার্যক্রম আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও ফরিদপুর জেলায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি মূলত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি হয়নি, তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের কিছু কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সরকারের কাছে এমন তথ্য রয়েছে যে, কিছু স্থানে মিছিল-মিটিং কিংবা সংগঠিত কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব কার্যক্রম পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আজ থেকেই সেনা মোতায়েন হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি, কিন্তু শৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে আমাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হয়।” তার মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম পদক্ষেপ গ্রহণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আওয়ামী লীগকে ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ মাফিয়া বাহিনী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন জেলায় তাদের কিছু অপতৎপরতার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, “আমাদের মনে হয়েছে তারা হয়তো একটি অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করতে পারে।” এই বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীকেও দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীকে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ হিসেবে মোতায়েন করা হচ্ছে। অর্থাৎ বেসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য তারা মাঠে থাকবে। প্রয়োজন হলে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

সেনা মোতায়েনের আওতায় ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর মেট্রো অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলাতেও সেনাসদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, এসব এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচি, জনসমাগম এবং সম্ভাব্য উত্তেজনার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে জেলাগুলো নির্বাচন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেনা মোতায়েনের উদ্দেশ্য কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করা নয়। বরং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধ করাই এর মূল লক্ষ্য। জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীগুলো সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সরকার ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নিতে চায়।

ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনীর পূর্ববর্তী মোতায়েনের বিষয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, গত ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে সেনাবাহিনী মোতায়েন ছিল। সেই মোতায়েনের উদ্দেশ্য ছিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা।

পরবর্তীতে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় গত ১৫ জুন সারাদেশ থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা হয়। তখন ধারণা করা হয়েছিল যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে এবং অতিরিক্ত বাহিনীর প্রয়োজন নেই।

তবে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা মূল্যায়নের পর সরকার আবারও সীমিত পরিসরে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবার সারা দেশে নয়, বরং নির্দিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল সময়গুলোতে এমন পদক্ষেপ অনেক দেশেই দেখা যায়। বিশেষ করে বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি, সমাবেশ বা বিতর্কিত ইস্যুকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে সরকারগুলো অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে থাকে।

তারা বলছেন, সেনা মোতায়েনের কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ের ওপর। পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।

অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ এটিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি মূল্যায়ন করছেন।

তবে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। তাদের মতে, যেকোনো ধরনের নাশকতা, সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতা প্রতিরোধ করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। জনগণের জানমাল রক্ষা এবং স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। এই সময়ে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এখন সব পক্ষের দৃষ্টি থাকবে এই নয় দিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দিকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন

Update Time : ০৩:১৮:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে দেশের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই মোতায়েন কার্যক্রম আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও ফরিদপুর জেলায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি মূলত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি হয়নি, তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের কিছু কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সরকারের কাছে এমন তথ্য রয়েছে যে, কিছু স্থানে মিছিল-মিটিং কিংবা সংগঠিত কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব কার্যক্রম পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আজ থেকেই সেনা মোতায়েন হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি, কিন্তু শৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে আমাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হয়।” তার মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম পদক্ষেপ গ্রহণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

আরও পড়ুন  সংসদে বিসিবি নিয়ে বিতর্ক, হাসনাতের মন্তব্যে পাল্টা জবাব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আওয়ামী লীগকে ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ মাফিয়া বাহিনী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন জেলায় তাদের কিছু অপতৎপরতার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, “আমাদের মনে হয়েছে তারা হয়তো একটি অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করতে পারে।” এই বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীকেও দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীকে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ হিসেবে মোতায়েন করা হচ্ছে। অর্থাৎ বেসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য তারা মাঠে থাকবে। প্রয়োজন হলে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

সেনা মোতায়েনের আওতায় ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর মেট্রো অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলাতেও সেনাসদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, এসব এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচি, জনসমাগম এবং সম্ভাব্য উত্তেজনার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে জেলাগুলো নির্বাচন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন  তারেক রহমান শ্রমিক খাতা নাম লেখানো: দেশ গড়ার আহ্বান দিলেন প্রধানমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেনা মোতায়েনের উদ্দেশ্য কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করা নয়। বরং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধ করাই এর মূল লক্ষ্য। জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীগুলো সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সরকার ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নিতে চায়।

ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনীর পূর্ববর্তী মোতায়েনের বিষয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, গত ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে সেনাবাহিনী মোতায়েন ছিল। সেই মোতায়েনের উদ্দেশ্য ছিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা।

পরবর্তীতে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় গত ১৫ জুন সারাদেশ থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা হয়। তখন ধারণা করা হয়েছিল যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে এবং অতিরিক্ত বাহিনীর প্রয়োজন নেই।

তবে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা মূল্যায়নের পর সরকার আবারও সীমিত পরিসরে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবার সারা দেশে নয়, বরং নির্দিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  সব দল বলতে কি আওয়ামী লীগকেও বোঝানো হয়েছে? প্রশ্ন সারজিসের

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল সময়গুলোতে এমন পদক্ষেপ অনেক দেশেই দেখা যায়। বিশেষ করে বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি, সমাবেশ বা বিতর্কিত ইস্যুকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে সরকারগুলো অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে থাকে।

তারা বলছেন, সেনা মোতায়েনের কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ের ওপর। পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।

অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ এটিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি মূল্যায়ন করছেন।

তবে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। তাদের মতে, যেকোনো ধরনের নাশকতা, সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতা প্রতিরোধ করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। জনগণের জানমাল রক্ষা এবং স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। এই সময়ে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এখন সব পক্ষের দৃষ্টি থাকবে এই নয় দিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দিকে।