বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও কিছুটা কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে ৩৫ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার। কয়েকদিন আগের তুলনায় এই রিজার্ভে সামান্য পতন লক্ষ্য করা গেছে।
সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রিজার্ভের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৭৩ কোটি ৬৬ লাখ ১০ হাজার ডলার। অন্যদিকে, আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে এই রিজার্ভের পরিমাণ ৩ হাজার ১১৮ কোটি ১০ লাখ ৬০ হাজার ডলার।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৭ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩৫ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে ছিল ৩১ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে উভয় হিসাবেই রিজার্ভ কিছুটা কমেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং ডলারের বাজার পরিস্থিতি রিজার্ভ ওঠানামার অন্যতম কারণ।
এর আগে ১৫ জুন দেশের রিজার্ভ ছিল ৩৫ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার। ১৪ জুন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তা ঋণ পাওয়ার পর রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যায়। ওই অর্থ যোগ হওয়ার ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ সাময়িকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের শুরুতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। মে ও এপ্রিল মাসেও ধীরে ধীরে রিজার্ভের পরিমাণ বাড়তে দেখা যায়। তবে এপ্রিল মাসে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধের কারণে রিজার্ভে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছিল।
বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ওপরে থাকলেও তা ধরে রাখা অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রপ্তানি আয়, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক সহায়তা প্রবাহ অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতে রিজার্ভ আরও স্থিতিশীল হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





























