দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ দেশের ১৫ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে মেঘাচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের একাধিক অঞ্চলে দমকা হাওয়া, ঝড়ো বাতাস এবং বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বর্ষা মৌসুম সক্রিয় থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের অস্থিতিশীল পরিবেশ যুক্ত হওয়ায় কোথাও কোথাও বজ্রসহ বৃষ্টির সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও ঝড়ো আবহাওয়া দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রবৃষ্টির সময় খোলা মাঠ, নদী বা জলাশয়ের আশপাশে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ সময় কৃষক, জেলে এবং নৌযান চালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। কারণ বজ্রপাত এবং আকস্মিক দমকা হাওয়া অনেক সময় প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
রাজধানী ঢাকাসহ মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই মেঘের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিনের বিভিন্ন সময়ে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এতে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও স্বাভাবিক জনজীবনে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও উপকূলীয় অঞ্চলেও আবহাওয়ার পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে উপকূলের নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সমুদ্র উত্তাল না থাকলেও ঝড়ো বাতাসের কারণে ছোট নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর অঞ্চলেও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। এসব অঞ্চলে মাঝে মাঝে মেঘের ঘনত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের বৃষ্টি আমন ধানের চারা ও অন্যান্য মৌসুমি ফসলের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টি বা ঝড়ো হাওয়া হলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই কৃষকদের আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী নতুন সতর্কবার্তা জারি করা হতে পারে। তাই সাধারণ মানুষকে নিয়মিত আবহাওয়ার আপডেট অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে যারা নদীপথে যাতায়াত করেন বা খোলা স্থানে কাজ করেন, তাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমানে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি থাকলেও পরিস্থিতি খারাপ হলে আরও উচ্চতর সতর্কতা দেওয়া হতে পারে। তাই আবহাওয়ার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।





























