প্রজেক্ট বর্ণমালার শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচির মাধ্যমে রাজধানীর তেজগাঁও বস্তির সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে ন্যাশনাল ব্রাইটেন অ্যাসোসিয়েশন (এনবিএ)। শিক্ষার আলো থেকে পিছিয়ে থাকা শিশুদের নিয়মিত পড়াশোনায় উৎসাহিত করা এবং তাদের শিক্ষাজীবন আরও সহজ করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রজেক্ট বর্ণমালার প্রধান উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শারমীন সুলতানা। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রজেক্ট বর্ণমালার চিফ মেন্টর এবং এনবিএর সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা তামজিদ মাহমুদ সিয়াম। এছাড়া সংগঠনের ২০ জনেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, হাতেখড়ি, নার্সারি ও শিশু শ্রেণি থেকে শুরু করে প্রথম থেকে সপ্তম-অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীর হাতে খাতা, কলম, পেন্সিল, রাবার, শার্পনারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। নতুন শিক্ষা উপকরণ পেয়ে শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শারমীন সুলতানা শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, শিক্ষা একজন শিশুর জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। নিয়মিত পড়াশোনা, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাও সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তিনি শিশুদের স্বপ্ন দেখতে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলস পরিশ্রম করার আহ্বান জানান।
পরে তামজিদ মাহমুদ সিয়াম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতা কখনোই একজন শিক্ষার্থীর মেধা ও সম্ভাবনার পথে বাধা হতে পারে না। সমাজের সচেতন মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বক্তব্য পর্ব শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে পর্যায়ক্রমে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শেষ অংশে প্রধান উপদেষ্টা স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় প্রজেক্ট বর্ণমালার চলমান কার্যক্রম, শিক্ষার মানোন্নয়ন, নতুন শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্তি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আয়োজকরা জানান, শুধু শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ নয়, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়মিত পাঠদান, নৈতিক শিক্ষা, সৃজনশীল কার্যক্রম এবং ব্যক্তিত্ব বিকাশেও কাজ করছে প্রজেক্ট বর্ণমালা। ভবিষ্যতে রাজধানীর আরও বিভিন্ন সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সমাজসেবামূলক এ উদ্যোগে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবীরা বলেন, প্রতিটি শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করা সামাজিক দায়িত্ব। শিশুদের মুখের হাসি ও শেখার আগ্রহই তাদের কাজের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। তারা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।




























