বলিউডের জনপ্রিয় অ্যাকশন হিরো টাইগার শ্রফের ওপর সম্প্রতি ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। তার গাড়িতে যে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছিল, সেটি নিছক কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না।

মুম্বাই পুলিশের নিবিড় তদন্তে প্রমাণ হয়েছে, এই হামলার নেপথ্যে ছিল একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের নিখুঁত ও বড় ধরনের পরিকল্পনা বা ‘বিগ প্ল্যান’। ঘটনার পর থেকে পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন পর্যন্ত এই হামলার সঙ্গে জড়িত দশজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

টাইগার শ্রফকে হত্যার এই কিলিং মিশনে অপরাধীরা অত্যন্ত সুচতুর একটি পদ্ধতি অবলম্বন করেছিল, যা পুলিশের ভাষায় ‘ডেড লেটার বক্স’ নামে পরিচিত। এই ডেড লেটার বক্স আসলে এমন এক অভিনব ব্যবস্থা, যেখানে কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় যাওয়ার আগেই সেখানে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বা অস্ত্র গোপনে রেখে আসা হয়।

পরবর্তীতে অন্য আরেকজন ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়ে সেখানে গিয়ে সেই জিনিসটি সংগ্রহ করে নিয়ে যান। এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, যিনি জিনিসটি রেখে যান এবং যিনি সেটি সংগ্রহ করেন, তাদের দুজনের সরাসরি দেখা হওয়ার কোনো প্রয়োজনই হয় না। টাইগার শ্রফের ক্ষেত্রেও ঠিক এমন বুদ্ধিমত্তাই অ্যাপ্লাই করা হয়েছিল।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এই কিলিং মিশনে যুক্ত অপরাধীদের সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র সরবরাহের বিশাল এক নেটওয়ার্কের নিবিড় যোগাযোগ ছিল। হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে একটি পিস্তল ও ২০ রাউন্ড কার্তুজ সংগ্রহ করেছিল অস্ত্র বহনকারীরা। এরপর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সেই প্রাণঘাতী অস্ত্র পৌঁছে দেওয়া হয় তাদের নির্ধারিত ‘ডেড লেটার বক্স’-এ।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেখান থেকেই অস্ত্র সংগ্রহ করে মূল কিলাররা। ধরা পড়ার ঝুঁকি এড়াতে পুরো চক্রটি নিজেদের মধ্যে সব ধরনের যোগাযোগ বজায় রেখেছিল সম্পূর্ণ এনক্রিপ্টেড চ্যাটের মাধ্যমে, যেন পুলিশ তাদের কথোপকথনের কোনো সূত্র ধরতে না পারে।

পুলিশের দাবি অনুযায়ী, এই স্পর্শকাতর মামলায় কুণাল ও সুমিত নামের দুই অভিযুক্ত অমৃতসরে গিয়ে ওই পিস্তল ও ২০ রাউন্ড কার্তুজ সংগ্রহ করেছিল। তাদের কাছে আগে থেকেই অস্ত্র সংগ্রহস্থলের গোপন তথ্য অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, রাধা ও ববিতা নামে দুই নারীকে এই অস্ত্র বহনের মতো বিপজ্জনক কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল।

তদন্তে আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত কুণাল ও অনিল পণ্ডিত নামে অপর এক ব্যক্তির মধ্যে এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ চলত। অস্ত্র সংগ্রহ করা এবং তা নিরাপদে মুম্বাইয়ে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে যাবতীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এই অ্যাপের মাধ্যমেই।

এই অবৈধ অস্ত্র পরিবহণের ব্যবস্থা করার জন্য কুণালকে নগদ ৭০ থেকে ৮০ হাজার রুপি দেওয়া হয়েছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। সেই অর্থের ভাগ থেকে অস্ত্র বহনকারী ওই দুই নারীকে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার রুপি পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।

গোটা ঘটনাটিকে একটি বিশাল ও সুসংগঠিত অপরাধ চক্রের সম্ভাব্য অপারেশন হিসেবেই বিবেচনা করছে মুম্বাই পুলিশ। এই চক্রের পেছনে আরও বড় কোনো প্রভাবশালী মাথা কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত রোববার (১৮ অক্টোবর) মুম্বাইয়ের পুষ্প নার্সি পার্কের কাছে ভয়াবহ এই হামলার শিকার হন অভিনেতা টাইগার শ্রফ। ওই দিন ফুটবল খেলা শেষে পার্ক থেকে নিজের গাড়িতে করে বেরিয়ে আসছিলেন তিনি। ঠিক এমন সময়ই আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা হামলাকারীরা তার গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি সাত রাউন্ড গুলি চালায়। এরপর আতঙ্ক ছড়িয়ে তারা দ্রুত মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।