ঢাকা ১১:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হাজিরা দিতে এসে জালনোটসহ ধরা পড়লেন মামলার আসামি Logo দিল্লিতে ১৬ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, সিজেপির কর্মসূচিতে ভোগান্তি Logo প্রিয়জনকে খুশি করতে উপহার বাছাইয়ে যেসব বিষয় রাখবেন গুরুত্বে Logo আতিফ আসলাম ঢাকায়, শুক্রবার কনসার্ট নিয়ে বড় সুখবর Logo পরীমণি বিশ্বকাপ ফাইনাল: ‘ফাইনালডাও বাতিল কইরা দে’ পোস্ট ভাইরাল Logo চন্দনাইশে আসহাব সিরাজ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক আলোচনা সভা Logo কর্টিসল ডিটক্স কি সত্যিই সম্ভব? জানুন বিশেষজ্ঞের মত Logo ধর্মেন্দ্র প্রধানকে কেন সরাচ্ছেন না মোদি? নেপথ্যের ৫ কারণ Logo নিজের মানসিক শক্তি ধরে রাখতে যে ৫ অভ্যাস জরুরি Logo হুতিদের নতুন হুমকি! পথ বদলাতে বাধ্য সৌদি তেলের ট্যাংকার

কর্টিসল ডিটক্স কি সত্যিই সম্ভব? জানুন বিশেষজ্ঞের মত

কর্টিসলের ভারসাম্য ধরে রাখতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

মানসিক চাপ, ঘুমের সমস্যা, সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগা কিংবা অকারণে উদ্বেগ—এসব সমস্যার জন্য অনেকেই এখন ‘কর্টিসল ডিটক্স’ করার কথা বলছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা পরামর্শও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্টিসল কোনো বিষাক্ত উপাদান নয়, তাই এটি শরীর থেকে বের করে দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও কিছু অভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে কর্টিসলের ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব, যা শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

কর্টিসল কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

কর্টিসল হলো অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে উৎপন্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন। একে সাধারণত স্ট্রেস হরমোন বলা হলেও এর কাজ শুধু মানসিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্টিসল—

  • শরীরের বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
  • রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
  • প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখে।
  • রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
  • শরীরকে চাপের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।
  • সকালে ঘুম থেকে উঠতে এবং সারাদিন শক্তি ধরে রাখতে সহায়তা করে।

স্বাভাবিকভাবে সকালে কর্টিসলের মাত্রা বেশি থাকে এবং রাতের দিকে ধীরে ধীরে কমে আসে। এই স্বাভাবিক ছন্দ বা সার্কাডিয়ান রিদমই সুস্থ জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কখন কর্টিসল সমস্যা তৈরি করে?

কর্টিসল নিজে কোনো ক্ষতিকর হরমোন নয়। সমস্যা হয় যখন দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে শরীরে এর মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন কর্টিসল বেশি থাকলে যেসব ঝুঁকি বাড়তে পারে—

  • ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া
  • শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ
  • হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
  • ত্বকের দ্রুত বার্ধক্য
  • উদ্বেগ ও বিষণ্নতার ঝুঁকি বৃদ্ধি

কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে গেলে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে

যদি নিচের কয়েকটি লক্ষণ দীর্ঘদিন ধরে থাকে, তাহলে কর্টিসলের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

  • পর্যাপ্ত ঘুমের পরও ক্লান্ত লাগা
  • ঘুমাতে বা টানা ঘুম ধরে রাখতে সমস্যা
  • উদ্বেগ ও খিটখিটে মেজাজ
  • পেটের চারপাশে চর্বি জমা
  • বারবার মিষ্টি বা ক্যাফেইন খেতে ইচ্ছা হওয়া
  • মনোযোগ কমে যাওয়া
  • ব্রণ বা ত্বকের প্রদাহ বেড়ে যাওয়া
  • ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া
  • নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক অনিয়ম

তবে এসব লক্ষণ অন্য অনেক রোগের কারণেও হতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

কর্টিসল ডিটক্স কি সত্যিই সম্ভব?

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, ‘কর্টিসল ডিটক্স’ শব্দটি বৈজ্ঞানিকভাবে পুরোপুরি সঠিক নয়।

কারণ—

  • কর্টিসল শরীরের জন্য অপরিহার্য একটি হরমোন।
  • এটি কোনো বিষাক্ত পদার্থ নয়।
  • তাই শরীর থেকে এটি বের করে দেওয়ার প্রয়োজন বা সুযোগ নেই।

বরং লক্ষ্য হওয়া উচিত কর্টিসলের স্বাভাবিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা। আর সেটি সম্ভব হয় স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে।

কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে যেসব অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে

১. নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস তৈরি করুন

ঘুমের অনিয়ম কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।

এজন্য—

  • প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান।
  • একই সময়ে ঘুম থেকে উঠুন।
  • ঘুমানোর আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ কম ব্যবহার করুন।
  • রাতে শান্ত পরিবেশে বিশ্রাম নিন।

২. নিয়মিত ব্যায়াম করুন, তবে অতিরিক্ত নয়

শরীরচর্চা কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে উল্টো কর্টিসল আরও বেড়ে যেতে পারে।

ভালো অভ্যাস হতে পারে—

  • প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা
  • যোগব্যায়াম
  • হালকা শক্তিবর্ধক ব্যায়াম
  • নিয়মিত স্ট্রেচিং

৩. মানসিক চাপ কমানোর অভ্যাস করুন

স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখতে প্রতিদিন কিছু সময় নিজের জন্য রাখুন।

উপকারী হতে পারে—

  • মেডিটেশন
  • গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম
  • মাইন্ডফুলনেস চর্চা
  • ডায়েরি লেখা
  • প্রয়োজন হলে কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি (CBT)

এসব অভ্যাস ধীরে ধীরে শরীরের স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া কমাতে সাহায্য করে।

৪. সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন

অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং রক্তে শর্করার হঠাৎ ওঠানামা কর্টিসল বাড়াতে পারে।

খাদ্যতালিকায় রাখুন—

  • পর্যাপ্ত প্রোটিন
  • আঁশযুক্ত খাবার
  • স্বাস্থ্যকর চর্বি
  • তাজা ফল
  • টক দই
  • বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার

অন্যদিকে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি এবং অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস কম খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে জীবনযাপনই সবচেয়ে কার্যকর

কর্টিসল কমানোর কোনো ম্যাজিক ডিটক্স নেই। বরং পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাদ্য এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই কর্টিসলের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ক্লান্তি, উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা বা অন্যান্য লক্ষণ থাকলে শুধু ইন্টারনেটের পরামর্শের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। কারণ অনেক সময় এসব লক্ষণের পেছনে অন্য শারীরিক বা হরমোনজনিত সমস্যাও থাকতে পারে।

কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে মনে রাখুন

  • কর্টিসল শরীরের প্রয়োজনীয় একটি হরমোন।
  • এটি ডিটক্স করা যায় না, তবে ভারসাম্যে রাখা যায়।
  • নিয়মিত ঘুম কর্টিসল নিয়ন্ত্রণের অন্যতম চাবিকাঠি।
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ কমাতে মেডিটেশন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম উপকারী।
  • সুষম খাদ্য ও নিয়মিত ব্যায়াম দীর্ঘমেয়াদে কর্টিসলের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
জনপ্রিয় সংবাদ

হাজিরা দিতে এসে জালনোটসহ ধরা পড়লেন মামলার আসামি

কর্টিসল ডিটক্স কি সত্যিই সম্ভব? জানুন বিশেষজ্ঞের মত

Update Time : ১০:০৯:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

মানসিক চাপ, ঘুমের সমস্যা, সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগা কিংবা অকারণে উদ্বেগ—এসব সমস্যার জন্য অনেকেই এখন ‘কর্টিসল ডিটক্স’ করার কথা বলছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা পরামর্শও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্টিসল কোনো বিষাক্ত উপাদান নয়, তাই এটি শরীর থেকে বের করে দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও কিছু অভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে কর্টিসলের ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব, যা শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

কর্টিসল কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

কর্টিসল হলো অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে উৎপন্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন। একে সাধারণত স্ট্রেস হরমোন বলা হলেও এর কাজ শুধু মানসিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্টিসল—

  • শরীরের বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
  • রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
  • প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখে।
  • রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
  • শরীরকে চাপের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।
  • সকালে ঘুম থেকে উঠতে এবং সারাদিন শক্তি ধরে রাখতে সহায়তা করে।

স্বাভাবিকভাবে সকালে কর্টিসলের মাত্রা বেশি থাকে এবং রাতের দিকে ধীরে ধীরে কমে আসে। এই স্বাভাবিক ছন্দ বা সার্কাডিয়ান রিদমই সুস্থ জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কখন কর্টিসল সমস্যা তৈরি করে?

কর্টিসল নিজে কোনো ক্ষতিকর হরমোন নয়। সমস্যা হয় যখন দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে শরীরে এর মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন কর্টিসল বেশি থাকলে যেসব ঝুঁকি বাড়তে পারে—

  • ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া
  • শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ
  • হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
  • ত্বকের দ্রুত বার্ধক্য
  • উদ্বেগ ও বিষণ্নতার ঝুঁকি বৃদ্ধি

কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে গেলে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে

যদি নিচের কয়েকটি লক্ষণ দীর্ঘদিন ধরে থাকে, তাহলে কর্টিসলের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

  • পর্যাপ্ত ঘুমের পরও ক্লান্ত লাগা
  • ঘুমাতে বা টানা ঘুম ধরে রাখতে সমস্যা
  • উদ্বেগ ও খিটখিটে মেজাজ
  • পেটের চারপাশে চর্বি জমা
  • বারবার মিষ্টি বা ক্যাফেইন খেতে ইচ্ছা হওয়া
  • মনোযোগ কমে যাওয়া
  • ব্রণ বা ত্বকের প্রদাহ বেড়ে যাওয়া
  • ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া
  • নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক অনিয়ম

তবে এসব লক্ষণ অন্য অনেক রোগের কারণেও হতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

কর্টিসল ডিটক্স কি সত্যিই সম্ভব?

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, ‘কর্টিসল ডিটক্স’ শব্দটি বৈজ্ঞানিকভাবে পুরোপুরি সঠিক নয়।

কারণ—

  • কর্টিসল শরীরের জন্য অপরিহার্য একটি হরমোন।
  • এটি কোনো বিষাক্ত পদার্থ নয়।
  • তাই শরীর থেকে এটি বের করে দেওয়ার প্রয়োজন বা সুযোগ নেই।

বরং লক্ষ্য হওয়া উচিত কর্টিসলের স্বাভাবিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা। আর সেটি সম্ভব হয় স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে।

কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে যেসব অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে

১. নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস তৈরি করুন

ঘুমের অনিয়ম কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।

এজন্য—

  • প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান।
  • একই সময়ে ঘুম থেকে উঠুন।
  • ঘুমানোর আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ কম ব্যবহার করুন।
  • রাতে শান্ত পরিবেশে বিশ্রাম নিন।

২. নিয়মিত ব্যায়াম করুন, তবে অতিরিক্ত নয়

শরীরচর্চা কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে উল্টো কর্টিসল আরও বেড়ে যেতে পারে।

ভালো অভ্যাস হতে পারে—

  • প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা
  • যোগব্যায়াম
  • হালকা শক্তিবর্ধক ব্যায়াম
  • নিয়মিত স্ট্রেচিং

৩. মানসিক চাপ কমানোর অভ্যাস করুন

স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখতে প্রতিদিন কিছু সময় নিজের জন্য রাখুন।

উপকারী হতে পারে—

  • মেডিটেশন
  • গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম
  • মাইন্ডফুলনেস চর্চা
  • ডায়েরি লেখা
  • প্রয়োজন হলে কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি (CBT)

এসব অভ্যাস ধীরে ধীরে শরীরের স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া কমাতে সাহায্য করে।

৪. সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন

অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং রক্তে শর্করার হঠাৎ ওঠানামা কর্টিসল বাড়াতে পারে।

খাদ্যতালিকায় রাখুন—

  • পর্যাপ্ত প্রোটিন
  • আঁশযুক্ত খাবার
  • স্বাস্থ্যকর চর্বি
  • তাজা ফল
  • টক দই
  • বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার

অন্যদিকে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি এবং অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস কম খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে জীবনযাপনই সবচেয়ে কার্যকর

কর্টিসল কমানোর কোনো ম্যাজিক ডিটক্স নেই। বরং পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাদ্য এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই কর্টিসলের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ক্লান্তি, উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা বা অন্যান্য লক্ষণ থাকলে শুধু ইন্টারনেটের পরামর্শের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। কারণ অনেক সময় এসব লক্ষণের পেছনে অন্য শারীরিক বা হরমোনজনিত সমস্যাও থাকতে পারে।

কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে মনে রাখুন

  • কর্টিসল শরীরের প্রয়োজনীয় একটি হরমোন।
  • এটি ডিটক্স করা যায় না, তবে ভারসাম্যে রাখা যায়।
  • নিয়মিত ঘুম কর্টিসল নিয়ন্ত্রণের অন্যতম চাবিকাঠি।
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ কমাতে মেডিটেশন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম উপকারী।
  • সুষম খাদ্য ও নিয়মিত ব্যায়াম দীর্ঘমেয়াদে কর্টিসলের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে।