ঢাকা ০৩:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী, কী আলোচনা?

ওয়াশিংটন সফরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি। ছবি: সংগৃহীত

প্রথম বিদেশ সফরে আগামী সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি। এক সপ্তাহের এই সফরে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সফরের মূল লক্ষ্য হবে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আকর্ষণ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং জ্বালানি খাতে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা।

ইরাক সরকারের মুখপাত্র হায়দার আল-আবুদি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমন্ত্রণে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

চলতি বছর ট্রাম্পের সমর্থনে ক্ষমতায় আসা আল-জাইদি এমন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছেন, যখন ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার জন্য বাগদাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বেড়েছে। অতীতে এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় হামলার অভিযোগ রয়েছে।

সফরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করাই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হবে বলে জানিয়েছে ইরাকি সরকার। বিশেষ করে তেল, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সরকারি মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে রাষ্ট্রের হাতে অস্ত্রের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা জরুরি। এ কারণে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার পরিকল্পনায় সরকার অটল থাকলেও কয়েকটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরোধিতার মুখে পড়তে হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই প্রভাবশালী মিত্রের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে চলার চেষ্টা করছে তেলসমৃদ্ধ ইরাক। কিন্তু যুদ্ধ, দুর্বল অবকাঠামো, ভঙ্গুর জনসেবা, দুর্নীতি এবং অর্থনৈতিক সংকট দেশটির পুনর্গঠনের পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরাক তেল খাতে কয়েকটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করেছে। ওয়াশিংটন সফরে আরও কয়েকটি সমঝোতা স্মারক ও বিনিয়োগ চুক্তি সই হতে পারে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধির বিনিময়ে প্রতিদিন পাঁচ লাখ ব্যারেল তেল জমা রেখে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এদিকে, আল-জাইদি সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরাকের তেল রাজস্বের নগদ অর্থ পাঠানো শুরু করেছে। এর আগে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার চাপের অংশ হিসেবে চলতি বছরের শুরুতে ওয়াশিংটন সাময়িকভাবে ওই অর্থ পাঠানো স্থগিত করেছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী, কী আলোচনা?

Update Time : ১১:৪৬:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

প্রথম বিদেশ সফরে আগামী সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি। এক সপ্তাহের এই সফরে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সফরের মূল লক্ষ্য হবে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আকর্ষণ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং জ্বালানি খাতে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা।

ইরাক সরকারের মুখপাত্র হায়দার আল-আবুদি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমন্ত্রণে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

চলতি বছর ট্রাম্পের সমর্থনে ক্ষমতায় আসা আল-জাইদি এমন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছেন, যখন ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার জন্য বাগদাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বেড়েছে। অতীতে এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় হামলার অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন  যেকোনো সময় হামলার শঙ্কা! বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

সফরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করাই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হবে বলে জানিয়েছে ইরাকি সরকার। বিশেষ করে তেল, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সরকারি মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে রাষ্ট্রের হাতে অস্ত্রের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা জরুরি। এ কারণে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার পরিকল্পনায় সরকার অটল থাকলেও কয়েকটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরোধিতার মুখে পড়তে হচ্ছে।

আরও পড়ুন  ট্রাম্পের এফ-৩৫ পরিকল্পনায় ক্ষুব্ধ নেতানিয়াহু, তুরস্ককে কড়া বার্তা

দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই প্রভাবশালী মিত্রের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে চলার চেষ্টা করছে তেলসমৃদ্ধ ইরাক। কিন্তু যুদ্ধ, দুর্বল অবকাঠামো, ভঙ্গুর জনসেবা, দুর্নীতি এবং অর্থনৈতিক সংকট দেশটির পুনর্গঠনের পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরাক তেল খাতে কয়েকটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করেছে। ওয়াশিংটন সফরে আরও কয়েকটি সমঝোতা স্মারক ও বিনিয়োগ চুক্তি সই হতে পারে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধির বিনিময়ে প্রতিদিন পাঁচ লাখ ব্যারেল তেল জমা রেখে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

আরও পড়ুন  তাজমহল কি একসময় মন্দির ছিল? নতুন বিতর্কে কী বলছে ইতিহাস

এদিকে, আল-জাইদি সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরাকের তেল রাজস্বের নগদ অর্থ পাঠানো শুরু করেছে। এর আগে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার চাপের অংশ হিসেবে চলতি বছরের শুরুতে ওয়াশিংটন সাময়িকভাবে ওই অর্থ পাঠানো স্থগিত করেছিল।