নতুন অর্থবছরে আয়করের নতুন কাঠামো কার্যকর হওয়ায় করদাতাদের জন্য এসেছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। সরকার করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করলেও পরবর্তী ধাপে করহার দ্বিগুণ করায় নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের একটি বড় অংশের ওপর করের চাপ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
আগে বছরে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত ছিল। নতুন ব্যবস্থায় সেই সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ বছরে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হলে কোনো আয়কর দিতে হবে না। মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় এই সিদ্ধান্তকে স্বস্তিদায়ক বলা হলেও এর পরের করস্লাবে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৪ লাখ টাকার পরবর্তী ৩ লাখ টাকা আয়ের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। অথচ গত অর্থবছরে একই স্তরে করহার ছিল মাত্র ৫ শতাংশ। ফলে করমুক্ত সীমা কিছুটা বাড়লেও দ্বিতীয় ধাপে করহার দ্বিগুণ হওয়ায় মধ্যম আয়ের অনেক করদাতার প্রকৃত করের পরিমাণ বেড়ে যাবে।
অন্যদিকে, উচ্চ আয়ের করদাতাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ করস্লাবে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। আগের মতোই সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে। যদিও আগামী অর্থবছর থেকে সর্বোচ্চ করহার ৩৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে চলতি বছরে উচ্চ আয়ের ব্যক্তিরা তুলনামূলকভাবে কিছুটা সুবিধা পাচ্ছেন বলে বিশ্লেষকদের মত।
এ বিষয়ে সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ন্যূনতম করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল মূল্যস্ফীতির প্রভাব থেকে সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়া। তবে দ্বিতীয় স্লাবে করহার দ্বিগুণ হওয়ায় নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের উল্লেখযোগ্য অংশের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ তৈরি হতে পারে।
সরকারের নতুন বাজেটে একদিকে বিভিন্ন খাতে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে করজালের আওতাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রাজস্ব আদায় বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে। তবে নতুন আয়করের নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের ফলে সাধারণ করদাতাদের ওপর এর প্রভাব কতটা পড়ে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।



























