জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২.২২ শতাংশ, যা আগের দুই প্রান্তিকের তুলনায় আরও কম। ফলে টানা তিন প্রান্তিক ধরে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির গতি নিম্নমুখী রয়েছে।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.৯৬ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) তা কমে ৩.০৩ শতাংশে নেমে আসে। আর তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) প্রবৃদ্ধি আরও কমে ২.২২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে ব্যবসা-বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা, বিনিয়োগের ধীরগতি এবং উৎপাদন কার্যক্রমে চাপের কারণে অর্থনীতির গতি কমেছে। এছাড়া আগের বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ধীরগতির প্রভাবও এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ০.২৮ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শিল্প উৎপাদন কমেছে। অন্যদিকে কৃষি খাতে ১.৭৪ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৩.৫২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে কিছুটা সহায়তা করেছে।
এর আগে বিবিএস প্রকাশিত সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের সার্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪.১৪ শতাংশ। তবে সর্বশেষ ত্রৈমাসিকের তথ্য বলছে, অর্থনৈতিক কার্যক্রমে এখনো প্রত্যাশিত গতি ফিরে আসেনি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানো এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে আগামী প্রান্তিকগুলোতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমেছে—এই ধারা থেকে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পারে।


























