ঢাকা ০২:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হাশিমপুর এম.এ.কে.ইউ স্কুল এন্ড কলেজে “শিক্ষার মান উন্নয়ন শীর্ষক আলোচনা ও প্রাক্তন কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা” অনুষ্ঠিত Logo নেইল পলিশ ছেড়ে জেল পলিশ কেন জনপ্রিয় হচ্ছে? Logo বরিশালে সাংবাদিক পুলকের মরদেহ, পাশে মিলল ৫ চিরকুট Logo কুষ্টিয়ায় পদ্মার পানি বাড়ায় পানিবন্দী ৬০ হাজার মানুষ Logo নাচ নিয়ে অপমান, সেই কথাই ক্যাটরিনাকে বদলে দেয় Logo মুক্তির আগেই ৬০০ কোটি টাকার অগ্রিম টিকিট বিক্রি করে রেকর্ড গড়ল ‘অ্যাভেঞ্জার্স ডুমসডে’ Logo নিলামে উঠছে প্রিন্সেস ডায়ানার সেই বিখ্যাত রিভেঞ্জ ড্রেস Logo সৌদি যুবরাজের হুথি হামলার অনুরোধ, ট্রাম্পের না Logo শনিবার টানা ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় Logo মোদির সঙ্গে পেজেশকিয়ানের বৈঠক, জোর নৌপথ নিরাপত্তায়

বাংলাদেশের টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক, গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:০৩:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ৬৩৪

গবেষণায় বাংলাদেশের বিভিন্ন টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত।

বাংলাদেশের টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও)। এক বছরব্যাপী পরিচালিত একটি গবেষণায় দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা যায়, এর মধ্যে ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। গবেষকদের মতে, এটি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ—উভয়ের জন্যই উদ্বেগের বিষয়।

ইএসডিওর প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫টি টুথপেস্টের মধ্যে ২২টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও ভারতের কয়েকটি আমদানিকৃত টুথপেস্টেও এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। সর্বোচ্চ ৩২০টি কণা পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লোরাইড জেল টুথপেস্টে।

গবেষণায় আরও দেখা যায়, ক্লোজআপ রেড হট, ক্লোজআপ মেনথল ফ্রেশ, কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা, সিগন্যাল গ্রিন টি, পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট, হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার এবং সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্ট-এও তুলনামূলক বেশি মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। তবে জেনফ্রেশ, প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি এবং কোডোমো অরেঞ্জসহ মোট আটটি নমুনায় কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।

শিশুদের জন্য বাজারে থাকা ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। গবেষকরা জানান, বর্তমানে বাজারে থাকা কোনো টুথপেস্টের মোড়কে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা ব্যবহৃত সিনথেটিক পলিমারের তথ্য উল্লেখ করা হয় না। ফলে ভোক্তারা সচেতনভাবে পণ্য বেছে নেওয়ার সুযোগ পান না এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকিও কঠিন হয়ে পড়ে।

গবেষণার অংশ হিসেবে দেশের ২ হাজার ৭৬০ জনের ওপর একটি জরিপ চালানো হয়। এতে দেখা যায়, প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিষয়টি আগে কখনও শোনেননি। মাত্র ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে সচেতন বলে জানিয়েছেন। একই জরিপে দেখা গেছে, ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ নিয়মিত টুথপেস্ট ব্যবহার করেন এবং সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ব্র্যান্ড হিসেবে উঠে এসেছে মেডিপ্লাস, এরপর রয়েছে ক্লোজআপ, পেপসোডেন্ট ও কোলগেট।

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) জানিয়েছে, তারা ২০১৯ সাল থেকেই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, প্রয়োজনে টুথপেস্টের মানদণ্ড হালনাগাদ করা হবে। ইএসডিওর মতে, বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে এটিই প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং দেশে এখনো এ বিষয়ে নির্দিষ্ট মানদণ্ড, পরীক্ষার পদ্ধতি বা বাধ্যতামূলক লেবেলিং নীতি নেই।

গবেষকদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, টুথপেস্ট থেকে নির্গত মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিবেশে ছড়িয়ে শেষ পর্যন্ত খাদ্য ও পানির মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় শ্বাসতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, হৃদ্‌রোগ, স্নায়ুতন্ত্র ও প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হলেও, এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাশিমপুর এম.এ.কে.ইউ স্কুল এন্ড কলেজে “শিক্ষার মান উন্নয়ন শীর্ষক আলোচনা ও প্রাক্তন কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা” অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক, গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য

Update Time : ১১:০৩:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও)। এক বছরব্যাপী পরিচালিত একটি গবেষণায় দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা যায়, এর মধ্যে ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। গবেষকদের মতে, এটি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ—উভয়ের জন্যই উদ্বেগের বিষয়।

ইএসডিওর প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫টি টুথপেস্টের মধ্যে ২২টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও ভারতের কয়েকটি আমদানিকৃত টুথপেস্টেও এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। সর্বোচ্চ ৩২০টি কণা পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লোরাইড জেল টুথপেস্টে।

আরও পড়ুন  'ফাইবারম্যাক্সিং’ এখন নতুন ট্রেন্ড

গবেষণায় আরও দেখা যায়, ক্লোজআপ রেড হট, ক্লোজআপ মেনথল ফ্রেশ, কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা, সিগন্যাল গ্রিন টি, পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট, হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার এবং সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্ট-এও তুলনামূলক বেশি মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। তবে জেনফ্রেশ, প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি এবং কোডোমো অরেঞ্জসহ মোট আটটি নমুনায় কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।

শিশুদের জন্য বাজারে থাকা ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। গবেষকরা জানান, বর্তমানে বাজারে থাকা কোনো টুথপেস্টের মোড়কে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা ব্যবহৃত সিনথেটিক পলিমারের তথ্য উল্লেখ করা হয় না। ফলে ভোক্তারা সচেতনভাবে পণ্য বেছে নেওয়ার সুযোগ পান না এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকিও কঠিন হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন  ঢাকার নদীতে প্রতিদিন ৩৩০ টন বর্জ্য ফেলছে ৪২৪টি উৎস

গবেষণার অংশ হিসেবে দেশের ২ হাজার ৭৬০ জনের ওপর একটি জরিপ চালানো হয়। এতে দেখা যায়, প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিষয়টি আগে কখনও শোনেননি। মাত্র ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে সচেতন বলে জানিয়েছেন। একই জরিপে দেখা গেছে, ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ নিয়মিত টুথপেস্ট ব্যবহার করেন এবং সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ব্র্যান্ড হিসেবে উঠে এসেছে মেডিপ্লাস, এরপর রয়েছে ক্লোজআপ, পেপসোডেন্ট ও কোলগেট।

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) জানিয়েছে, তারা ২০১৯ সাল থেকেই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, প্রয়োজনে টুথপেস্টের মানদণ্ড হালনাগাদ করা হবে। ইএসডিওর মতে, বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে এটিই প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং দেশে এখনো এ বিষয়ে নির্দিষ্ট মানদণ্ড, পরীক্ষার পদ্ধতি বা বাধ্যতামূলক লেবেলিং নীতি নেই।

আরও পড়ুন  অবাক করা তথ্য: ক্যানসার রোগীরা আসলে কী কারণে মারা যাচ্ছেন?

গবেষকদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, টুথপেস্ট থেকে নির্গত মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিবেশে ছড়িয়ে শেষ পর্যন্ত খাদ্য ও পানির মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় শ্বাসতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, হৃদ্‌রোগ, স্নায়ুতন্ত্র ও প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হলেও, এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।