ঢাকা ০২:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চন্দনাইশে অবৈধ গ্যাসের গুদামে প্রশাসনের হানাঃ খালি গ্যাস সিলিন্ডার ও সরঞ্জাম জব্দ Logo ঢাবি ভর্তি আবেদন শুরু ১১ নভেম্বর: প্রকাশ হলো ভর্তি পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ সূচি Logo প্রবাসী আয় কমার কারণ কী? Logo গলায় পারফিউম স্প্রে কি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়? জানুন বিশেষজ্ঞদের মতামত Logo বিওয়াইডি গাড়ি বিক্রিতে দারুণ উল্লম্ফন, জুলাইয়ে বেড়েছে ২২% Logo মৌসুমী ও ওমর সানীর বিয়ের গল্প Logo ঘোমটা পরে ওমর সানীর বাসায় হাজির মৌসুমী, জানুন সেই দিনের গল্প Logo এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল: ১২ কেজির নতুন দাম ১,৫৯৮ টাকা Logo জঙ্গি নাটক মামলা শুনানিতে প্রসিকিউটরের বক্তব্য Logo বিটিএস গ্র্যামি বয়কট: চমকপ্রদ সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কী কারণ?

প্রবাসী আয় কমার কারণ কী?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:২৭:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১৩

টানা দুই মাস ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে প্রবাসী আয়। ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসী আয় কমার কারণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে অর্থনৈতিক অঙ্গনে। টানা ছয় মাস ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসার পর গত জুন ও জুলাই—দুই মাসই সেই ধারাবাহিকতা ভেঙেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে দেশে এসেছে ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার প্রবাসী আয়, যা আগের মাসের তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচেই রয়েছে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস হলো প্রবাসী আয়। আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখা এবং ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই টানা দুই মাস প্রবাসী আয় কমে যাওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ব্যাংকিং খাত ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার। যদিও আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ১৫.৪ শতাংশ বেশি, তবে টানা ছয় মাসের ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিকতা বজায় থাকেনি।

এর আগে মে মাসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার, এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার, মার্চে প্রায় ৩৭৫ কোটি ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার এবং গত বছরের ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার দেশে এসেছিল। ফলে ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত টানা ছয় মাস রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলারের ওপরে ছিল।

কেন কমল প্রবাসী আয়?

ব্যাংকারদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ব্যাংকগুলো প্রবাসী আয়ের ডলার বেশি দামে কিনছিল। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নজরদারি বাড়ানোর পর ব্যাংকগুলোর মধ্যে ডলার কেনার প্রতিযোগিতা কিছুটা কমে যায়। এর প্রভাব রেমিট্যান্স প্রবাহেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের অস্থিরতাও প্রবাসী আয়ের ওপর প্রভাব ফেলছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়লে প্রবাসীদের আয়, অর্থ পাঠানোর ধরণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে পরিবর্তন আসতে পারে।

রিজার্ভ নিয়ে সতর্ক অর্থনীতিবিদরা

দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি আরও জটিল হলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়তে পারে। তাই এখনই রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় সতর্ক থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা সুদের হার কমানোর ক্ষেত্রে ধীরে এগোনোর পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে ডলারের বাজারে নতুন চাপ তৈরি না হয়।

তবে এর মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি নীতি সুদহার কমিয়েছে, যা কার্যকর হয়েছে আগস্টের শুরু থেকে। বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রভাব আগামী কয়েক মাসে অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্পষ্ট হতে পারে।

বর্তমানে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ প্রবাসী আয় সংগ্রহে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বজায় রাখতে প্রণোদনা ও সেবার মান আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

চন্দনাইশে অবৈধ গ্যাসের গুদামে প্রশাসনের হানাঃ খালি গ্যাস সিলিন্ডার ও সরঞ্জাম জব্দ

প্রবাসী আয় কমার কারণ কী?

Update Time : ১১:২৭:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

প্রবাসী আয় কমার কারণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে অর্থনৈতিক অঙ্গনে। টানা ছয় মাস ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসার পর গত জুন ও জুলাই—দুই মাসই সেই ধারাবাহিকতা ভেঙেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে দেশে এসেছে ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার প্রবাসী আয়, যা আগের মাসের তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচেই রয়েছে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস হলো প্রবাসী আয়। আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখা এবং ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই টানা দুই মাস প্রবাসী আয় কমে যাওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ব্যাংকিং খাত ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে।

আরও পড়ুন  দুবছর কঠিন সময় যাবে, সবাইকে কষ্ট করতে হবে : অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার। যদিও আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ১৫.৪ শতাংশ বেশি, তবে টানা ছয় মাসের ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিকতা বজায় থাকেনি।

এর আগে মে মাসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার, এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার, মার্চে প্রায় ৩৭৫ কোটি ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার এবং গত বছরের ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার দেশে এসেছিল। ফলে ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত টানা ছয় মাস রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলারের ওপরে ছিল।

আরও পড়ুন  বাংলা কিউআর: ১ জুলাই থেকে সহজ ক্যাশলেস লেনদেনের যুগ

কেন কমল প্রবাসী আয়?

ব্যাংকারদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ব্যাংকগুলো প্রবাসী আয়ের ডলার বেশি দামে কিনছিল। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নজরদারি বাড়ানোর পর ব্যাংকগুলোর মধ্যে ডলার কেনার প্রতিযোগিতা কিছুটা কমে যায়। এর প্রভাব রেমিট্যান্স প্রবাহেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের অস্থিরতাও প্রবাসী আয়ের ওপর প্রভাব ফেলছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়লে প্রবাসীদের আয়, অর্থ পাঠানোর ধরণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে পরিবর্তন আসতে পারে।

রিজার্ভ নিয়ে সতর্ক অর্থনীতিবিদরা

দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি আরও জটিল হলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়তে পারে। তাই এখনই রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় সতর্ক থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা সুদের হার কমানোর ক্ষেত্রে ধীরে এগোনোর পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে ডলারের বাজারে নতুন চাপ তৈরি না হয়।

আরও পড়ুন  আজকের বিনিময় হার: গুরুত্বপূর্ণ ডলার স্থির, কমল ইউরো-পাউন্ড

তবে এর মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি নীতি সুদহার কমিয়েছে, যা কার্যকর হয়েছে আগস্টের শুরু থেকে। বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রভাব আগামী কয়েক মাসে অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্পষ্ট হতে পারে।

বর্তমানে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ প্রবাসী আয় সংগ্রহে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বজায় রাখতে প্রণোদনা ও সেবার মান আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।