চট্টগ্রাম গিয়ে একদিনেই ঘুরে আসতে পারবেন যে ৬ সমুদ্রসৈকতে
চট্টগ্রাম ভ্রমণে গেলে একদিনেই ঘুরে আসতে পারেন নগরী ও আশপাশের ছয়টি দৃষ্টিনন্দন সমুদ্রসৈকত থেকে। জনপ্রিয় পতেঙ্গা থেকে শুরু করে পারকি, গুলিয়াখালী, বাঁশখালী, বাঁশবাড়িয়া ও আকিলপুর—প্রতিটি সৈকতের রয়েছে আলাদা সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য। স্বল্প সময়ে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে এসব স্থান হতে পারে দারুণ গন্তব্য।
বন্দরনগরী চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম বড় নগরী, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকদের আকর্ষণ করে আসছে। পাহাড়, নদী ও সমুদ্র—প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্যের পাশাপাশি এখানকার সমুদ্রসৈকতগুলোও পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। একদিনের ভ্রমণে এসব সৈকতের কয়েকটি সহজেই ঘুরে দেখা সম্ভব।
পতেঙ্গা সৈকত চট্টগ্রাম নগরী থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও মনোরম পরিবেশের কারণে এটি চট্টগ্রামের সবচেয়ে পরিচিত সৈকতগুলোর একটি। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নেভাল একাডেমি ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে যাতায়াতও বেশ সুবিধাজনক।
সৈকতের সৌন্দর্য বাড়াতে নির্মিত দীর্ঘ ওয়াকওয়ে পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে। বালুকাময় সৈকতে ঘোরার পাশাপাশি ওয়াকওয়েতে বসে বন্দরে থাকা ছোট-বড় জাহাজ এবং সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। সন্ধ্যার পর ওয়াকওয়ে ও জাহাজে আলো জ্বলে উঠলে পরিবেশ আরও মনোরম হয়ে ওঠে। আশপাশের অস্থায়ী দোকান থেকে পাওয়া যায় নানা ধরনের স্ট্রিট ফুড।
পারকি সৈকত আনোয়ারা উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত। চট্টগ্রাম নগরী থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের এই সৈকত বিস্তৃত বালুকাময় প্রান্তর ও আশপাশের ঝোপঝাড়ের জন্য জনপ্রিয়। তুলনামূলক নিরিবিলি পরিবেশে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে পারকি হতে পারে ভালো একটি গন্তব্য।
সীতাকুণ্ড উপজেলার গুলিয়াখালী সৈকত চট্টগ্রাম নগরী থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে। ম্যানগ্রোভ বনভূমি ও সবুজ ঘাসে ঢাকা এই সৈকতের প্রাকৃতিক দৃশ্য অন্যগুলোর তুলনায় বেশ ব্যতিক্রমী। ছোট ছোট খালের মতো জলপথ ও সবুজে ঘেরা পরিবেশ দেখে মনে হয়, যেন অসংখ্য ছোট দ্বীপ একসঙ্গে মিশে আছে।
গুলিয়াখালীতে সূর্যাস্ত উপভোগের পাশাপাশি পাশের খাল দিয়ে নৌকা ভ্রমণের সুযোগও রয়েছে। সীতাকুণ্ডে বাস থেকে নেমে সিএনজি বা অটোরিকশায় করে সহজেই সৈকতে যাওয়া যায়। ফলে চট্টগ্রামের বাইরে থেকে আসা পর্যটকদের জন্যও জায়গাটি বেশ সুবিধাজনক।
বাঁশখালী সৈকত চট্টগ্রাম নগরী থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সৈকত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নিরিবিলি পরিবেশের জন্য পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। খানখানাবাদ, কদমরসুল, বাহারছড়া, রতনপুর, কাটারিয়া ও গন্দামারা—বাঁশখালীর বিভিন্ন সৈকত পয়েন্টের মধ্যে কয়েকটি বেশ পরিচিত।
বালুকাময় সৈকত, উঁচু ঢেউ ও চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য এখানে ভ্রমণকারীদের আকর্ষণ করে। বহদ্দারহাট অথবা শাহ আমানত ব্রিজ এলাকা থেকে বাসে বাঁশখালীর গুনাগারি গিয়ে সেখান থেকে সিএনজি অটোরিকশায় বিভিন্ন পয়েন্টে যাওয়া যায়।
সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া সৈকত চট্টগ্রাম নগরী থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে। একসময় এখানকার কাঠের জেটি ছিল অন্যতম আকর্ষণ। পরবর্তী সময়ে বালুকাময় সৈকত, ঝোপঝাড় ও প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের কাছে জায়গাটিকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে।
নগরীর একে খান ইন্টারসেকশন থেকে বাসে বাঁশবাড়িয়া বাজারে গিয়ে সেখান থেকে সিএনজি অটোরিকশায় সৈকতে যাওয়া যায়। অন্যদিকে, আকিলপুর সৈকত চট্টগ্রামের নতুন পর্যটন গন্তব্যগুলোর একটি। ছোট কুমিরা এলাকায় অবস্থিত এই সৈকত নগরী থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে।
আকিলপুরে বিস্তৃত বালুরাশি খুব বেশি না থাকলেও বাঁকানো বাঁধ ও কংক্রিটের ব্লকগুলো এর আলাদা বৈশিষ্ট্য তৈরি করেছে। একে খান ইন্টারসেকশন থেকে বাসে ছোট কুমিরা গিয়ে সেখান থেকে সিএনজি অটোরিকশায় আকিলপুর সৈকতে যাওয়া যায়। তাই একদিনের অবসরে চট্টগ্রামের সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে এসব সৈকত হতে পারে দারুণ ভ্রমণ পরিকল্পনা।
























