ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নতুন উপজেলায় সাতকানিয়ার ৬ ইউনিয়নের সাথে দোহাজারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে: এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদ Logo চন্দনাইশে গাছবাড়ীয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বাস উপহারের ঘোষণা এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদের Logo ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন পেল বিকাশ-রবিসহ চার প্রতিষ্ঠান Logo সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে ঘুষ, আদালতে দুই কর্মচারীর জবানবন্দি Logo মরিয়মের মৃত্যু মামলায় গাজী নজরুল ফের ৪ দিনের রিমান্ডে Logo থানার দরজা ভেঙে পালাল কিশোর গ্যাংয়ের ১৭ সদস্য Logo নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর ঘিরে উত্তেজনা, মামদানির হুমকির পর কী হতে পারে Logo গাজার পুনর্গঠনে ২৪৫ কোটি ডলারের পরিকল্পনা ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদের Logo শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন আর নেই, ছয় দশকের সাহিত্যজীবনের অবসান Logo ৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ

মরক্কোকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার দাবি, তীব্র বিতর্ক

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০২:১৯:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৩৮

মরক্কোকে বিশ্বকাপ আয়োজন থেকে বাদ দেওয়ার দাবি উঠেছে স্পেনে। ছবি: সংগৃহীত

মরক্কো বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে স্পেনে নতুন করে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক দেশগুলোর একটি মরক্কোকে আয়োজকের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছেন স্পেনের ক্ষমতাসীন বামপন্থী জোটের কয়েকজন সংসদ সদস্য। তাদের অভিযোগ, মরক্কোর বর্তমান আর্থসামাজিক, নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তাই দেশটিকে বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে স্পেন সরকারের কাছে নতুন করে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

২০৩০ সালের বিশ্বকাপটি হতে যাচ্ছে বিশেষ একটি আসর। বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের মূল আয়োজক হিসেবে রয়েছে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। তবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজনের অংশ হিসেবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতেও একটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজন করেছিল উরুগুয়ে। শতবর্ষ উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোকে এই বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

তবে আয়োজক হিসেবে মরক্কোর অবস্থান নিয়ে সম্প্রতি স্পেনের পার্লামেন্টে আপত্তি জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন জোটের তিনটি রাজনৈতিক দলের ডেপুটিরা। তারা স্পেন সরকারকে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মরক্কোকে যৌথ আয়োজকের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। শুধু স্পেনেই নয়, পর্তুগালের ক্ষমতাসীন লিবরা পার্টিও একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে পর্তুগাল সরকার ও দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

মরক্কো বিশ্বকাপ নিয়ে বিতর্কের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে সামনে এসেছে অভিবাসন ইস্যু। স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতা সীমান্তে সাম্প্রতিক সময়ে মরক্কো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রবেশের চেষ্টা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়কে কেন্দ্র করে মানব পাচারকারীরা এমন তথ্য ছড়িয়ে দেয় যে, স্পেনে পৌঁছাতে পারলেই সেখানে বসবাসের সুযোগ পাওয়া যাবে। এই গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর মাত্র এক দিনের মধ্যে হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেউতা সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৬০ থেকে ৮০ হাজার মরক্কোর নাগরিক সমুদ্রপথে সেউতা সীমান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরে তাদের বেশিরভাগই মরক্কোতে ফিরে গেলেও এই ঘটনায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর সামনে আসে। স্পেনের বামপন্থী রাজনীতিকদের দাবি, একটি দেশের পরিস্থিতি কতটা কঠিন হলে এত বিপুলসংখ্যক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেন, এই ঘটনা সেটিই প্রকাশ করে। তাদের মতে, এমন পরিস্থিতি বিশ্বকাপ আয়োজনের মতো আন্তর্জাতিক মর্যাদার একটি অনুষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নতুন করে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এদিকে ২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজন নিয়ে স্পেন ও পর্তুগালের রাজনৈতিক মহলে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক এখন কোথায় গিয়ে থামে, সেদিকেই নজর ফুটবল বিশ্বের। আয়োজক দেশ পরিবর্তনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ফিফার। তবে রাজনৈতিক চাপ ও মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। মরক্কো বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব ধরে রাখতে পারবে কি না, নাকি স্পেনের এই দাবি আরও বড় আকার নেবে—তা সময়ই বলে দেবে। আপাতত ২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ নিয়ে এই বিতর্ক আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন উপজেলায় সাতকানিয়ার ৬ ইউনিয়নের সাথে দোহাজারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে: এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদ

মরক্কোকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার দাবি, তীব্র বিতর্ক

Update Time : ০২:১৯:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

মরক্কো বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে স্পেনে নতুন করে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক দেশগুলোর একটি মরক্কোকে আয়োজকের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছেন স্পেনের ক্ষমতাসীন বামপন্থী জোটের কয়েকজন সংসদ সদস্য। তাদের অভিযোগ, মরক্কোর বর্তমান আর্থসামাজিক, নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তাই দেশটিকে বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে স্পেন সরকারের কাছে নতুন করে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

২০৩০ সালের বিশ্বকাপটি হতে যাচ্ছে বিশেষ একটি আসর। বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের মূল আয়োজক হিসেবে রয়েছে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। তবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজনের অংশ হিসেবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতেও একটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজন করেছিল উরুগুয়ে। শতবর্ষ উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোকে এই বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্র-ইরান প্রথম দফার বৈঠকে 'আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি', দাবি মধ্যস্থতাকারীদের

তবে আয়োজক হিসেবে মরক্কোর অবস্থান নিয়ে সম্প্রতি স্পেনের পার্লামেন্টে আপত্তি জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন জোটের তিনটি রাজনৈতিক দলের ডেপুটিরা। তারা স্পেন সরকারকে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মরক্কোকে যৌথ আয়োজকের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। শুধু স্পেনেই নয়, পর্তুগালের ক্ষমতাসীন লিবরা পার্টিও একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে পর্তুগাল সরকার ও দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

মরক্কো বিশ্বকাপ নিয়ে বিতর্কের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে সামনে এসেছে অভিবাসন ইস্যু। স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতা সীমান্তে সাম্প্রতিক সময়ে মরক্কো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রবেশের চেষ্টা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়কে কেন্দ্র করে মানব পাচারকারীরা এমন তথ্য ছড়িয়ে দেয় যে, স্পেনে পৌঁছাতে পারলেই সেখানে বসবাসের সুযোগ পাওয়া যাবে। এই গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর মাত্র এক দিনের মধ্যে হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেউতা সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেন।

আরও পড়ুন  প্রথমবার বিশ্বকাপে উঠে চমকে দিল কেপ ভার্দে

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৬০ থেকে ৮০ হাজার মরক্কোর নাগরিক সমুদ্রপথে সেউতা সীমান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরে তাদের বেশিরভাগই মরক্কোতে ফিরে গেলেও এই ঘটনায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর সামনে আসে। স্পেনের বামপন্থী রাজনীতিকদের দাবি, একটি দেশের পরিস্থিতি কতটা কঠিন হলে এত বিপুলসংখ্যক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেন, এই ঘটনা সেটিই প্রকাশ করে। তাদের মতে, এমন পরিস্থিতি বিশ্বকাপ আয়োজনের মতো আন্তর্জাতিক মর্যাদার একটি অনুষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নতুন করে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন  রাজাউল্লাহর রেকর্ডে চমক, অভিষেকেই ইতিহাস

এদিকে ২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজন নিয়ে স্পেন ও পর্তুগালের রাজনৈতিক মহলে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক এখন কোথায় গিয়ে থামে, সেদিকেই নজর ফুটবল বিশ্বের। আয়োজক দেশ পরিবর্তনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ফিফার। তবে রাজনৈতিক চাপ ও মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। মরক্কো বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব ধরে রাখতে পারবে কি না, নাকি স্পেনের এই দাবি আরও বড় আকার নেবে—তা সময়ই বলে দেবে। আপাতত ২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ নিয়ে এই বিতর্ক আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।