ঢাকা ০৮:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্ম-বর্ণ নয়, বড় পরিচয় আমরা বাংলাদেশি: খাদ্যমন্ত্রী

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৭:১২:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫২৫

জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। ছবি: সংগৃহীত

আমরা বাংলাদেশি-ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ নয়, এটিই আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেছেন, দেশে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও ঐক্য ধরে রাখতে হবে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ী প্রাঙ্গণে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, মানুষের আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও সহযোগিতার কারণেই তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। মানুষের এই ভালোবাসার প্রতিদান দিতে তিনি তাদের পাশে থেকে কাজ করতে চান। জনগণের প্রতি নিজের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই তিনি সেই দায় কিছুটা হলেও কমাতে চান বলে উল্লেখ করেন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতে তারা যেভাবে পাশে ছিলেন, এখনো আছেন এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকবেন-এটাই তার প্রত্যাশা। তিনি বলেন, সুখের সময়ে তাকে না ডাকলেও চলবে, তবে দুঃখের সময়ে ডাকলে তিনি মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করবেন।

মানিকগঞ্জের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়টি তুলে ধরে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, এই জেলায় হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য সবাইকে ধরে রাখতে হবে। ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি দেশের নাগরিক হিসেবে সবার মধ্যে ঐক্যের জায়গাটি আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রত্যেক নাগরিককে সমানভাবে দেখার নীতি থাকা উচিত। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান- ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ করা উচিত নয়। সবার বড় পরিচয় হলো তারা বাংলাদেশি। দেশের ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে মানুষের অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক আনন্দের পরিবেশ তাকে ভালো লেগেছে। পরে তিনি শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ী পূজা উদযাপন কমিটিকে এক লাখ টাকা অনুদান দেন। একই সঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি প্রণব কুমার সিকদার। বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট সুনীল কুমার, শ্রী কালীপদ ঘোষ, অনিল কুমার ও রঞ্জিত কুমার দে। অনুষ্ঠানে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মানিকগঞ্জের বেউথা মসজিদ প্রাঙ্গণ ও বেউথা-আন্ধারমানিক সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন খাদ্যমন্ত্রী। এ সময় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের জন্য বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

খাদ্যমন্ত্রী দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষকে বেশি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান। একই দিনে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা এবং পরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি সামাজিক সম্প্রীতি ও পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ধর্ম-বর্ণ নয়, বড় পরিচয় আমরা বাংলাদেশি: খাদ্যমন্ত্রী

Update Time : ০৭:১২:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আমরা বাংলাদেশি-ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ নয়, এটিই আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেছেন, দেশে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও ঐক্য ধরে রাখতে হবে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ী প্রাঙ্গণে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, মানুষের আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও সহযোগিতার কারণেই তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। মানুষের এই ভালোবাসার প্রতিদান দিতে তিনি তাদের পাশে থেকে কাজ করতে চান। জনগণের প্রতি নিজের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই তিনি সেই দায় কিছুটা হলেও কমাতে চান বলে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন  চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতে তারা যেভাবে পাশে ছিলেন, এখনো আছেন এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকবেন-এটাই তার প্রত্যাশা। তিনি বলেন, সুখের সময়ে তাকে না ডাকলেও চলবে, তবে দুঃখের সময়ে ডাকলে তিনি মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করবেন।

মানিকগঞ্জের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়টি তুলে ধরে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, এই জেলায় হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য সবাইকে ধরে রাখতে হবে। ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি দেশের নাগরিক হিসেবে সবার মধ্যে ঐক্যের জায়গাটি আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রত্যেক নাগরিককে সমানভাবে দেখার নীতি থাকা উচিত। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান- ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ করা উচিত নয়। সবার বড় পরিচয় হলো তারা বাংলাদেশি। দেশের ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন  আজ শুভ জন্মাষ্টমী

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে মানুষের অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক আনন্দের পরিবেশ তাকে ভালো লেগেছে। পরে তিনি শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ী পূজা উদযাপন কমিটিকে এক লাখ টাকা অনুদান দেন। একই সঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি প্রণব কুমার সিকদার। বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট সুনীল কুমার, শ্রী কালীপদ ঘোষ, অনিল কুমার ও রঞ্জিত কুমার দে। অনুষ্ঠানে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন  নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ শতাধিক পরিবারের পাশে এবিজি ফাউন্ডেশন

অনুষ্ঠান শেষে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মানিকগঞ্জের বেউথা মসজিদ প্রাঙ্গণ ও বেউথা-আন্ধারমানিক সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন খাদ্যমন্ত্রী। এ সময় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের জন্য বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

খাদ্যমন্ত্রী দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষকে বেশি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান। একই দিনে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা এবং পরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি সামাজিক সম্প্রীতি ও পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।