ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

নেইমারের মাঠ ক্ষোভে পালমেইরাসের কড়া খোঁচা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:১৯:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১৬

চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন নেইমার। ছবি: সংগৃহীত

নেইমারকে ঘিরে ম্যাচের পর যতটা আলোচনা হওয়ার কথা ছিল তাঁর চোট নিয়ে, তার চেয়ে বেশি আলোচনা এখন সান্তোসের মাঠ নিয়ে। ব্রাজিলিয়ান কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পালমেইরাসের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে সান্তোস। তবে প্রথম লেগে ৩-০ গোলে হেরে যাওয়ায় দুই ম্যাচ মিলিয়ে ৩-০ ব্যবধানে বিদায় নিতে হয়েছে নেইমারদের। এর মধ্যে ম্যাচের প্রথমার্ধেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন নেইমার। একই সময়ে চোটের কারণে বেরিয়ে যান আলভারো বারেয়াল ও লুকাস ভেরিসিমোও। মাঠ ছাড়ার সময় নেইমারকে কাঁদতেও দেখা যায়। সব মিলিয়ে ম্যাচটি সান্তোসের জন্য হয়ে ওঠে হতাশার এক রাত।

ম্যাচ শেষে সান্তোসের ঘরের মাঠ ভিলা বেলমিরোর অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেইমার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বক্তব্যে ছিল হতাশা ও ব্যঙ্গের সুর। মাঠের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের উদ্দেশে প্রথমে অভিনন্দন জানান তিনি। পরে নিজের ক্ষোভ স্পষ্ট করে বলেন, ম্যাচের আগের দিন মাঠে কাজ করা হয়েছিল এবং পুরো মাঠে তৈরি হয়েছিল গর্ত। তাঁর মতে, এমন অবস্থার মাঠে খেলতে গিয়ে প্রতিপক্ষের পাশাপাশি নিজেদের মাঠের সঙ্গেও লড়াই করতে হয়েছে। মাঠের এই অবস্থা খেলোয়াড়দের শারীরিকভাবে বাড়তি চাপের মধ্যে ফেলেছে বলেও মনে করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।

নেইমারের অভিযোগের সবচেয়ে বড় জায়গা ছিল চোট। তাঁর দাবি, মাঠের বেহাল দশার কারণে খেলোয়াড়দের স্বাভাবিকভাবে দৌড়ানো ও শরীরের ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রথমার্ধেই সান্তোসের তিন খেলোয়াড় চোট নিয়ে মাঠ ছাড়ায় তাঁর ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। নেইমারের বক্তব্য ছিল, এমন মাঠে খেললে চোটের ঝুঁকি বাড়াটাই স্বাভাবিক। নিজের হতাশা প্রকাশ করতে গিয়ে মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও কড়া ভাষা ব্যবহার করেন তিনি। ম্যাচ হারার কষ্টের সঙ্গে যোগ হয় সতীর্থদের একের পর এক মাঠ ছাড়ার হতাশাও।

তবে নেইমারের এই অভিযোগ চুপচাপ মেনে নেয়নি পালমেইরাস। সুযোগ বুঝে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন এক জবাব দিয়েছে ক্লাবটি, যা মুহূর্তেই আলোচনার জন্ম দেয়। নিজেদের মাঠ নুবাঙ্ক পারকের উদাহরণ টেনে পালমেইরাস জানায়, সেখানে প্রতিদিন মাঠের যত্ন নেওয়া হয়। ফলে মাঠের ঘাস থাকে সমান ও গর্তমুক্ত। শুধু প্রতিপক্ষের জন্য নয়, নিজেদের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার জন্যও ভালো মাঠ নিশ্চিত করার কথা তুলে ধরে তারা। পুরো বক্তব্যে ছিল স্পষ্ট ব্যঙ্গ—নেইমারের অভিযোগের সরাসরি উত্তর না দিলেও বার্তাটি যে তাঁকেই উদ্দেশ করে, তা বুঝতে কারও অসুবিধা হয়নি।

পালমেইরাসের খোঁচার সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল চোটের প্রসঙ্গ। নিজেদের মাঠের ভালো রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে দলের খেলোয়াড়দের কম চোটে পড়ার বিষয়টিও সামনে আনে তারা। গত কয়েক বছরে ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-তে নিজেদের খেলোয়াড়দের চোটের রেকর্ড নিয়েও আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছে ক্লাবটি। অর্থাৎ, ভালো মাঠ শুধু সুন্দর দেখানোর জন্য নয়, খেলোয়াড়দের নিরাপদে খেলানোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ—এটাই ছিল পালমেইরাসের বক্তব্য। এরপর আরও এক ধাপ এগিয়ে তারা কার্যত নেইমারকে পরামর্শ দেওয়ার ভঙ্গিতে জানায়, খারাপ মাঠের সমাধান খুব সহজ—ভালো মাঠ তৈরি করতে হবে।

ঘটনার মধ্যে ফুটবলের আরেকটি বড় বাস্তবতাও সামনে এসেছে। একটি ম্যাচের ফল বদলে দিতে না পারলেও মাঠের মান খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ও নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে। সান্তোসের জন্য পরিস্থিতি এমনিতেই কঠিন। পালমেইরাসের কাছে ব্রাজিলিয়ান কাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পাশাপাশি লিগেও তারা স্বস্তিতে নেই। পয়েন্ট তালিকায় ১৪ নম্বরে থাকা দলটি অবনমন অঞ্চল থেকে মাত্র চার পয়েন্ট দূরে। ফলে নেইমারের চোট, মাঠ নিয়ে বিতর্ক এবং দলের ফল—সব মিলিয়ে সান্তোসের সামনে এখন একাধিক চাপ। আর মাঠ নিয়ে নেইমার-পালমেইরাসের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সেই চাপের মধ্যেই যোগ করেছে নতুন উত্তাপ।

জনপ্রিয় সংবাদ

দীর্ঘসময় ইতালির ক্ষমতায় থাকা মেলোনিকে মোদীর শুভেচ্ছা, বার্তায় যা লিখেছেন

নেইমারের মাঠ ক্ষোভে পালমেইরাসের কড়া খোঁচা

Update Time : ০৮:১৯:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেইমারকে ঘিরে ম্যাচের পর যতটা আলোচনা হওয়ার কথা ছিল তাঁর চোট নিয়ে, তার চেয়ে বেশি আলোচনা এখন সান্তোসের মাঠ নিয়ে। ব্রাজিলিয়ান কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পালমেইরাসের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে সান্তোস। তবে প্রথম লেগে ৩-০ গোলে হেরে যাওয়ায় দুই ম্যাচ মিলিয়ে ৩-০ ব্যবধানে বিদায় নিতে হয়েছে নেইমারদের। এর মধ্যে ম্যাচের প্রথমার্ধেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন নেইমার। একই সময়ে চোটের কারণে বেরিয়ে যান আলভারো বারেয়াল ও লুকাস ভেরিসিমোও। মাঠ ছাড়ার সময় নেইমারকে কাঁদতেও দেখা যায়। সব মিলিয়ে ম্যাচটি সান্তোসের জন্য হয়ে ওঠে হতাশার এক রাত।

ম্যাচ শেষে সান্তোসের ঘরের মাঠ ভিলা বেলমিরোর অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেইমার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বক্তব্যে ছিল হতাশা ও ব্যঙ্গের সুর। মাঠের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের উদ্দেশে প্রথমে অভিনন্দন জানান তিনি। পরে নিজের ক্ষোভ স্পষ্ট করে বলেন, ম্যাচের আগের দিন মাঠে কাজ করা হয়েছিল এবং পুরো মাঠে তৈরি হয়েছিল গর্ত। তাঁর মতে, এমন অবস্থার মাঠে খেলতে গিয়ে প্রতিপক্ষের পাশাপাশি নিজেদের মাঠের সঙ্গেও লড়াই করতে হয়েছে। মাঠের এই অবস্থা খেলোয়াড়দের শারীরিকভাবে বাড়তি চাপের মধ্যে ফেলেছে বলেও মনে করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।

আরও পড়ুন  ১০ নম্বর জার্সি কার, নেইমার নাকি ভিনি

নেইমারের অভিযোগের সবচেয়ে বড় জায়গা ছিল চোট। তাঁর দাবি, মাঠের বেহাল দশার কারণে খেলোয়াড়দের স্বাভাবিকভাবে দৌড়ানো ও শরীরের ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রথমার্ধেই সান্তোসের তিন খেলোয়াড় চোট নিয়ে মাঠ ছাড়ায় তাঁর ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। নেইমারের বক্তব্য ছিল, এমন মাঠে খেললে চোটের ঝুঁকি বাড়াটাই স্বাভাবিক। নিজের হতাশা প্রকাশ করতে গিয়ে মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও কড়া ভাষা ব্যবহার করেন তিনি। ম্যাচ হারার কষ্টের সঙ্গে যোগ হয় সতীর্থদের একের পর এক মাঠ ছাড়ার হতাশাও।

আরও পড়ুন  হীরক জয়ন্তীর আনন্দ দ্বিগুণ করার সুযোগ ইংল্যান্ডের সামনে

তবে নেইমারের এই অভিযোগ চুপচাপ মেনে নেয়নি পালমেইরাস। সুযোগ বুঝে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন এক জবাব দিয়েছে ক্লাবটি, যা মুহূর্তেই আলোচনার জন্ম দেয়। নিজেদের মাঠ নুবাঙ্ক পারকের উদাহরণ টেনে পালমেইরাস জানায়, সেখানে প্রতিদিন মাঠের যত্ন নেওয়া হয়। ফলে মাঠের ঘাস থাকে সমান ও গর্তমুক্ত। শুধু প্রতিপক্ষের জন্য নয়, নিজেদের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার জন্যও ভালো মাঠ নিশ্চিত করার কথা তুলে ধরে তারা। পুরো বক্তব্যে ছিল স্পষ্ট ব্যঙ্গ—নেইমারের অভিযোগের সরাসরি উত্তর না দিলেও বার্তাটি যে তাঁকেই উদ্দেশ করে, তা বুঝতে কারও অসুবিধা হয়নি।

পালমেইরাসের খোঁচার সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল চোটের প্রসঙ্গ। নিজেদের মাঠের ভালো রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে দলের খেলোয়াড়দের কম চোটে পড়ার বিষয়টিও সামনে আনে তারা। গত কয়েক বছরে ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-তে নিজেদের খেলোয়াড়দের চোটের রেকর্ড নিয়েও আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছে ক্লাবটি। অর্থাৎ, ভালো মাঠ শুধু সুন্দর দেখানোর জন্য নয়, খেলোয়াড়দের নিরাপদে খেলানোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ—এটাই ছিল পালমেইরাসের বক্তব্য। এরপর আরও এক ধাপ এগিয়ে তারা কার্যত নেইমারকে পরামর্শ দেওয়ার ভঙ্গিতে জানায়, খারাপ মাঠের সমাধান খুব সহজ—ভালো মাঠ তৈরি করতে হবে।

আরও পড়ুন  মেসির অবসরের বিষয়ে বোমা ফাটালেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস

ঘটনার মধ্যে ফুটবলের আরেকটি বড় বাস্তবতাও সামনে এসেছে। একটি ম্যাচের ফল বদলে দিতে না পারলেও মাঠের মান খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ও নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে। সান্তোসের জন্য পরিস্থিতি এমনিতেই কঠিন। পালমেইরাসের কাছে ব্রাজিলিয়ান কাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পাশাপাশি লিগেও তারা স্বস্তিতে নেই। পয়েন্ট তালিকায় ১৪ নম্বরে থাকা দলটি অবনমন অঞ্চল থেকে মাত্র চার পয়েন্ট দূরে। ফলে নেইমারের চোট, মাঠ নিয়ে বিতর্ক এবং দলের ফল—সব মিলিয়ে সান্তোসের সামনে এখন একাধিক চাপ। আর মাঠ নিয়ে নেইমার-পালমেইরাসের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সেই চাপের মধ্যেই যোগ করেছে নতুন উত্তাপ।