দেশের ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এই ঋণ মওকুফ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতা কৃষকদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রোববার জাতীয় সংসদে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিরোধী দলের জামায়াতে ইসলামী সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া কৃষকদের ঋণ সুদসহ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এই কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের ব্যাংকের কাছে থাকা মোট ১ হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা সরকার পরিশোধ করেছে। ফলে ক্ষুদ্র অঙ্কের কৃষিঋণ নিয়ে যেসব কৃষক দীর্ঘদিন ধরে দায়ের মধ্যে ছিলেন, তাদের ওই ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত করা হয়েছে।
সরকারের এই কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির আওতায় দেশের সব উপজেলার কৃষক সুবিধা পেয়েছেন। অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট জেলা বা অঞ্চলের মধ্যে কর্মসূচিটি সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। সারাদেশের বিভিন্ন এলাকার ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতা কৃষকদের এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।
কৃষিখাতের সঙ্গে যুক্ত ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা হিসেবে কাজ করে। তবে আয় ও উৎপাদন পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এসব ঋণ পরিশোধ করা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সুদসহ এই ঋণ মওকুফের ফলে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের ওপর আর্থিক চাপ কমার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে জাতীয় সংসদে চুয়াডাঙ্গা জেলার করদাতার সংখ্যা নিয়েও তথ্য দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে জেলাটিতে টিআইএনধারী করদাতার সংখ্যা ৭২ হাজার ৪৬৩ জন। এর মধ্যে ২০২৫-২৬ করবর্ষে রিটার্ন দাখিল করেছেন ২১ হাজার ৫৬৭ জন।
কৃষিঋণ মওকুফের এই উদ্যোগের ফলে দেশের লাখো কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া ১৪ লাখের বেশি কৃষকের সুদসহ ঋণ মওকুফ এবং ব্যাংকের পাওনা হিসেবে ১ হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা পরিশোধের তথ্যটি কৃষকদের জন্য সরকারের বড় আর্থিক সহায়তার চিত্র তুলে ধরছে।


























