ঢাকা ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের আগ্রহ এবার বিগ ব্যাশে

আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের বিগ ব্যাশে বিনিয়োগের আগ্রহ

বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন ক্রিকেট লিগে বিনিয়োগ করা আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের নজর এখন অস্ট্রেলিয়ার এই জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার দিকে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) ইতোমধ্যে লিগের কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ সুযোগকে কেন্দ্র করে আইপিএলের কয়েকটি দলের মালিক এবং ভারতের অন্য বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের বিষয়টি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার জানা রয়েছে। পুরো মালিকানা বিক্রির প্রক্রিয়াটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাণিজ্যিক ব্যাংক রেইন গ্রুপকে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দলের মালিকানা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর আগে ইংল্যান্ডের দ্য হান্ড্রেডের দলগুলোর মালিকানা বিক্রির প্রক্রিয়াতেও রেইন গ্রুপ কাজ করেছিল।

আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের বিদেশি টি-টোয়েন্টি লিগে বিনিয়োগ নতুন কোনো বিষয় নয়। ইতোমধ্যে তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল), দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএলটি২০ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেট (এমএলসি)-এর বিভিন্ন দলে বিনিয়োগ করেছেন। ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশেও তাদের আগ্রহকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মালিকানা বিস্তারের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে বিগ ব্যাশকে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের জন্য বড় আর্থিক সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন। তার দৃষ্টিতে, এই বিনিয়োগ শুধু ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আর্থিক মূল্য বাড়ানোর বিষয় নয়; এর মাধ্যমে বিগ ব্যাশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম, ব্র্যান্ড মূল্য ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতাও বাড়তে পারে।

তবে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের পাশাপাশি মালিকানা কাঠামো নিয়ে কিছু জটিলতাও রয়েছে। বর্তমানে মেলবোর্ন রেনেগেডসের ১০০ শতাংশ মালিকানা বিক্রির জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এই দলটি কিনতে চাইলে কোনো বিনিয়োগকারী পুরো ফ্র্যাঞ্চাইজির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন। তবে এর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে—বিদ্যমান সমর্থকগোষ্ঠীর ওপর মালিকানা হস্তান্তরের সুবিধা থাকবে না। ফলে নতুন মালিককে দলটির ব্র্যান্ড ও সমর্থকদের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তুলতে হতে পারে।

অন্যদিকে, ভবিষ্যতে হোবার্ট হারিকেন্সপার্থ স্করচার্সের মতো আরও কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজিতে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ আসতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রে মালিকানার সর্বোচ্চ ৪৯ শতাংশ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করলেও ফ্র্যাঞ্চাইজির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকবে না।

এখানেই আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের সঙ্গে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার স্বার্থের বড় পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। আইপিএলের দলগুলোর মালিকেরা সাধারণত নিজেদের বিনিয়োগ করা ফ্র্যাঞ্চাইজির ওপর উল্লেখযোগ্য বা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে আগ্রহী। কিন্তু ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া গুরুত্বপূর্ণ কিছু দলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চায়। ফলে বিনিয়োগের আগ্রহ থাকলেও মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের শর্ত নিয়ে সম্ভাব্য ক্রেতাদের আপত্তি তৈরি হয়েছে।

বিগ ব্যাশে বেসরকারি বিনিয়োগের এই উদ্যোগ সফল হলে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন অর্থের প্রবাহ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়লে দলগুলোর বিপণন, খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনা, ব্র্যান্ডিং ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে বিনিয়োগকারীরা কতটা নিয়ন্ত্রণ পাবেন এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত মালিকানা কাঠামোতে কতটা ছাড় দেবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের আগ্রহ এবার বিগ ব্যাশে

Update Time : ০৯:৪৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন ক্রিকেট লিগে বিনিয়োগ করা আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের নজর এখন অস্ট্রেলিয়ার এই জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার দিকে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) ইতোমধ্যে লিগের কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ সুযোগকে কেন্দ্র করে আইপিএলের কয়েকটি দলের মালিক এবং ভারতের অন্য বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের বিষয়টি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার জানা রয়েছে। পুরো মালিকানা বিক্রির প্রক্রিয়াটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাণিজ্যিক ব্যাংক রেইন গ্রুপকে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দলের মালিকানা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর আগে ইংল্যান্ডের দ্য হান্ড্রেডের দলগুলোর মালিকানা বিক্রির প্রক্রিয়াতেও রেইন গ্রুপ কাজ করেছিল।

আরও পড়ুন  বাবর ছিটকে গেলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট থেকে

আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের বিদেশি টি-টোয়েন্টি লিগে বিনিয়োগ নতুন কোনো বিষয় নয়। ইতোমধ্যে তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল), দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএলটি২০ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেট (এমএলসি)-এর বিভিন্ন দলে বিনিয়োগ করেছেন। ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশেও তাদের আগ্রহকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মালিকানা বিস্তারের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে বিগ ব্যাশকে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের জন্য বড় আর্থিক সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন। তার দৃষ্টিতে, এই বিনিয়োগ শুধু ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আর্থিক মূল্য বাড়ানোর বিষয় নয়; এর মাধ্যমে বিগ ব্যাশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম, ব্র্যান্ড মূল্য ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতাও বাড়তে পারে।

তবে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের পাশাপাশি মালিকানা কাঠামো নিয়ে কিছু জটিলতাও রয়েছে। বর্তমানে মেলবোর্ন রেনেগেডসের ১০০ শতাংশ মালিকানা বিক্রির জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এই দলটি কিনতে চাইলে কোনো বিনিয়োগকারী পুরো ফ্র্যাঞ্চাইজির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন। তবে এর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে—বিদ্যমান সমর্থকগোষ্ঠীর ওপর মালিকানা হস্তান্তরের সুবিধা থাকবে না। ফলে নতুন মালিককে দলটির ব্র্যান্ড ও সমর্থকদের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তুলতে হতে পারে।

আরও পড়ুন  অস্ট্রেলিয়ার মাঠে সাড়ে ৭ বছরে সেরা বাংলাদেশ, নতুন রেকর্ড

অন্যদিকে, ভবিষ্যতে হোবার্ট হারিকেন্সপার্থ স্করচার্সের মতো আরও কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজিতে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ আসতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রে মালিকানার সর্বোচ্চ ৪৯ শতাংশ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করলেও ফ্র্যাঞ্চাইজির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকবে না।

এখানেই আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের সঙ্গে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার স্বার্থের বড় পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। আইপিএলের দলগুলোর মালিকেরা সাধারণত নিজেদের বিনিয়োগ করা ফ্র্যাঞ্চাইজির ওপর উল্লেখযোগ্য বা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে আগ্রহী। কিন্তু ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া গুরুত্বপূর্ণ কিছু দলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চায়। ফলে বিনিয়োগের আগ্রহ থাকলেও মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের শর্ত নিয়ে সম্ভাব্য ক্রেতাদের আপত্তি তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন  হাসানের ৭ উইকেট, কেন্টের জয়

বিগ ব্যাশে বেসরকারি বিনিয়োগের এই উদ্যোগ সফল হলে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন অর্থের প্রবাহ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়লে দলগুলোর বিপণন, খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনা, ব্র্যান্ডিং ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে বিনিয়োগকারীরা কতটা নিয়ন্ত্রণ পাবেন এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত মালিকানা কাঠামোতে কতটা ছাড় দেবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।