ঢাকা ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রুমিন ফারহানা: সংসদে গালাগালির অভিযোগ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:০৮:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫২১

সংসদে বক্তব্য দিচ্ছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। ছবি: সংগৃহীত

রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেছেন, জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে। বুধবার ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল নিয়ে আলোচনার সময় ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার প্রসঙ্গ বৃহস্পতিবারের অধিবেশনে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, সংসদে কোনো বিল বা সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ যদি না থাকে, তাহলে সংসদে থাকার অর্থ কী? রুমিন বলেন, তাঁর বক্তব্যের কোনো অংশ নিয়ে আপত্তি থাকলে বক্তব্য শেষ হওয়ার পর দাঁড়িয়ে তার জবাব দেওয়া যেত। কিন্তু বক্তব্য চলাকালে এবং পরে যে ধরনের আচরণের মুখোমুখি হয়েছেন, তা কোনো গণতান্ত্রিক সংসদের পরিবেশের সঙ্গে যায় না।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, আগের দিনের অভিজ্ঞতা তাঁকে হতাশ করেছে। তাঁর ভাষ্য, আশপাশের সংসদ সদস্যদের কাছ থেকেই তিনি অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুনেছেন। এ ধরনের আচরণ সংসদীয় রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বক্তব্যের সময় সরকারি দলের সদস্যদের হইচই করতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সদস্যদের থামার ইঙ্গিত দেন। পরে স্পিকার বলেন, সংসদে বাক্‌স্বাধীনতার পক্ষে তিনি। সরকারি দল বা বিরোধী দলের কোনো সদস্য বক্তব্য দেওয়ার সময় অন্য পক্ষের বাধা দেওয়া উচিত নয়। আগের দিনের ঘটনা আর না টেনে ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর আহ্বান জানান তিনি এবং রুমিনের অনুভূতির প্রতিও সম্মান জানান।

স্পিকারের বক্তব্যের পর নিজের অবস্থান আরও পরিষ্কার করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, সংসদে সরকারি দল, বিরোধী দল এবং স্বতন্ত্র সদস্য—সবারই ভিন্নমত থাকতে পারে। সেই মত প্রকাশের অধিকারও সবার থাকা উচিত। তাঁর মতে, গণতন্ত্র শুধু ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংসদে নিজেদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে তুলে ধরার সুযোগও থাকতে হবে। তাই কোনো বক্তব্য পছন্দ না হলে তার রাজনৈতিক বা তথ্যভিত্তিক জবাব দেওয়াই সংসদীয় সংস্কৃতির অংশ হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

২০১৮ সালের সংসদের অভিজ্ঞতার কথাও এদিন তুলে ধরেন রুমিন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সেই সংসদে বিএনপির পক্ষে একা দাঁড়িয়ে কথা বলার সময়ও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। তাঁর ক্ষোভ, বহু মানুষের প্রাণের বিনিময়ে ভোটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের পরও যদি সংসদীয় আচরণে মৌলিক পরিবর্তন না আসে, তাহলে শুধু বিরোধী দল হিসেবে বসে থেকে ভোট দেওয়ার কোনো অর্থ থাকে না। তাঁর বক্তব্যে মূলত সংসদে ভিন্নমতের প্রতি সম্মান এবং রাজনৈতিক সহনশীলতার প্রয়োজনীয়তাই উঠে আসে।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিলের আলোচনার মধ্যেই র‍্যাব বিলুপ্তির প্রসঙ্গ তোলেন রুমিন ফারহানা। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশের অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে র‍্যাব বিলুপ্তির বিষয়ে একসময় ঐকমত্য ছিল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের বিভিন্ন পর্যায়ের উদ্বেগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। র‍্যাবের পরিবর্তে যে নতুন সংস্থা গঠন করা হচ্ছে, সেটি যেন শুধু নাম ও পোশাক বদলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি। নতুন বাহিনীর তদন্তব্যবস্থা, আটক করার প্রক্রিয়া এবং আটকাদেশের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আহ্বান জানান। তবে আলোচনার বিষয় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন হওয়ায় স্পিকার তাঁকে থামিয়ে দেন।

সবশেষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন রুমিন ফারহানা। অতীতে বিভিন্নভাবে মানুষকে হয়রানি, নির্যাতন ও ভয়ভীতির মধ্যে পড়তে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আর দেখতে চান না। পুলিশ, র‍্যাব বা অন্য কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনী যেন দলীয় প্রভাবের বাইরে থেকে আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে জন্য সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা চান তিনি। তাঁর বক্তব্যের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোনো সদস্যের অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যের প্রাসঙ্গিক জবাব দিতে তিনি রাজি নন। আগের দিনের বিলটি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল এবং রুমিনের উত্থাপিত কিছু বিষয় ওই বিলের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না বলেই প্রশ্ন উঠেছিল বলে জানান তিনি। ফলে দিনের আলোচনায় একদিকে উঠে আসে সংসদে ভিন্নমতের পরিবেশ, অন্যদিকে সামনে আসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংসদীয় আচরণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

জনপ্রিয় সংবাদ

রুমিন ফারহানা: সংসদে গালাগালির অভিযোগ

Update Time : ১০:০৮:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেছেন, জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে। বুধবার ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল নিয়ে আলোচনার সময় ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার প্রসঙ্গ বৃহস্পতিবারের অধিবেশনে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, সংসদে কোনো বিল বা সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ যদি না থাকে, তাহলে সংসদে থাকার অর্থ কী? রুমিন বলেন, তাঁর বক্তব্যের কোনো অংশ নিয়ে আপত্তি থাকলে বক্তব্য শেষ হওয়ার পর দাঁড়িয়ে তার জবাব দেওয়া যেত। কিন্তু বক্তব্য চলাকালে এবং পরে যে ধরনের আচরণের মুখোমুখি হয়েছেন, তা কোনো গণতান্ত্রিক সংসদের পরিবেশের সঙ্গে যায় না।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, আগের দিনের অভিজ্ঞতা তাঁকে হতাশ করেছে। তাঁর ভাষ্য, আশপাশের সংসদ সদস্যদের কাছ থেকেই তিনি অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুনেছেন। এ ধরনের আচরণ সংসদীয় রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বক্তব্যের সময় সরকারি দলের সদস্যদের হইচই করতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সদস্যদের থামার ইঙ্গিত দেন। পরে স্পিকার বলেন, সংসদে বাক্‌স্বাধীনতার পক্ষে তিনি। সরকারি দল বা বিরোধী দলের কোনো সদস্য বক্তব্য দেওয়ার সময় অন্য পক্ষের বাধা দেওয়া উচিত নয়। আগের দিনের ঘটনা আর না টেনে ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর আহ্বান জানান তিনি এবং রুমিনের অনুভূতির প্রতিও সম্মান জানান।

আরও পড়ুন  পরকীয়া প্রেমিকাসহ স্ত্রীর হাতে ধরা, পদ হারালেন জামায়াত নেতা

স্পিকারের বক্তব্যের পর নিজের অবস্থান আরও পরিষ্কার করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, সংসদে সরকারি দল, বিরোধী দল এবং স্বতন্ত্র সদস্য—সবারই ভিন্নমত থাকতে পারে। সেই মত প্রকাশের অধিকারও সবার থাকা উচিত। তাঁর মতে, গণতন্ত্র শুধু ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংসদে নিজেদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে তুলে ধরার সুযোগও থাকতে হবে। তাই কোনো বক্তব্য পছন্দ না হলে তার রাজনৈতিক বা তথ্যভিত্তিক জবাব দেওয়াই সংসদীয় সংস্কৃতির অংশ হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

২০১৮ সালের সংসদের অভিজ্ঞতার কথাও এদিন তুলে ধরেন রুমিন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সেই সংসদে বিএনপির পক্ষে একা দাঁড়িয়ে কথা বলার সময়ও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। তাঁর ক্ষোভ, বহু মানুষের প্রাণের বিনিময়ে ভোটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের পরও যদি সংসদীয় আচরণে মৌলিক পরিবর্তন না আসে, তাহলে শুধু বিরোধী দল হিসেবে বসে থেকে ভোট দেওয়ার কোনো অর্থ থাকে না। তাঁর বক্তব্যে মূলত সংসদে ভিন্নমতের প্রতি সম্মান এবং রাজনৈতিক সহনশীলতার প্রয়োজনীয়তাই উঠে আসে।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রামে এলডিপি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন সহস্রাধিক নেতাকর্মী।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিলের আলোচনার মধ্যেই র‍্যাব বিলুপ্তির প্রসঙ্গ তোলেন রুমিন ফারহানা। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশের অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে র‍্যাব বিলুপ্তির বিষয়ে একসময় ঐকমত্য ছিল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের বিভিন্ন পর্যায়ের উদ্বেগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। র‍্যাবের পরিবর্তে যে নতুন সংস্থা গঠন করা হচ্ছে, সেটি যেন শুধু নাম ও পোশাক বদলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি। নতুন বাহিনীর তদন্তব্যবস্থা, আটক করার প্রক্রিয়া এবং আটকাদেশের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আহ্বান জানান। তবে আলোচনার বিষয় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন হওয়ায় স্পিকার তাঁকে থামিয়ে দেন।

আরও পড়ুন  চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার

সবশেষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন রুমিন ফারহানা। অতীতে বিভিন্নভাবে মানুষকে হয়রানি, নির্যাতন ও ভয়ভীতির মধ্যে পড়তে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আর দেখতে চান না। পুলিশ, র‍্যাব বা অন্য কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনী যেন দলীয় প্রভাবের বাইরে থেকে আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে জন্য সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা চান তিনি। তাঁর বক্তব্যের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোনো সদস্যের অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যের প্রাসঙ্গিক জবাব দিতে তিনি রাজি নন। আগের দিনের বিলটি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল এবং রুমিনের উত্থাপিত কিছু বিষয় ওই বিলের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না বলেই প্রশ্ন উঠেছিল বলে জানান তিনি। ফলে দিনের আলোচনায় একদিকে উঠে আসে সংসদে ভিন্নমতের পরিবেশ, অন্যদিকে সামনে আসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংসদীয় আচরণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।