ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাংলাদেশের উন্নয়নে জাতিসংঘের আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায় সরকার Logo সৌরজগতের বাইরে বহির্গ্রহ থেকে রেডিও সংকেত শনাক্ত Logo মাত্র ৭ দিনে মনোযোগ বাড়াবেন যেভাবে, জানুন সহজ কৌশল Logo দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এমপি জসীমের নেতৃত্বে চন্দনাইশে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ Logo নতুন উপজেলায় সাতকানিয়ার ৬ ইউনিয়নের সাথে দোহাজারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে: এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদ Logo চন্দনাইশে গাছবাড়ীয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বাস উপহারের ঘোষণা এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদের Logo ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন পেল বিকাশ-রবিসহ চার প্রতিষ্ঠান Logo সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে ঘুষ, আদালতে দুই কর্মচারীর জবানবন্দি Logo মরিয়মের মৃত্যু মামলায় গাজী নজরুল ফের ৪ দিনের রিমান্ডে Logo থানার দরজা ভেঙে পালাল কিশোর গ্যাংয়ের ১৭ সদস্য

দুই বছর পর পুকুর খুঁড়ে মিলল মা-ছেলের কঙ্কাল, নোয়াখালীতে গ্রেপ্তার ৩

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:৪৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
  • ৫৫৯

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে পুকুর খুঁড়ে মা-ছেলের কঙ্কাল উদ্ধার করছে সিআইডি। ছবি: সংগৃহীত

দুই বছর পর পুকুর খুঁড়ে মিলল মা-ছেলের কঙ্কাল—নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিআইডি পুকুরের মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করেছে মা কমলা বেগম ও তার ছেলে নোমানের কঙ্কাল। এ ঘটনায় নিহত নারীর দুই সৎ ছেলে ও এক নাতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) বিকেলে জয়াগ গ্রামের আবু আমিনের বাড়ির পুকুরে পানি সেচ দিয়ে ভেকু মেশিনের সাহায্যে খননকাজ চালানো হয়। পরে পুকুরের নিচে চাপা দেওয়া অবস্থায় মা ও ছেলের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায় এবং পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে কমলা বেগম ও তার ৯ বছরের ছেলে নোমানকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর শুকনো মৌসুমে পুকুরের মধ্যে তাদের মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে গুম করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তদন্তের একপর্যায়ে নিহত নারীর দুই সৎ ছেলে রাজু ও সাগর এবং নাতি টিপুকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডি পুকুরে খনন চালিয়ে কঙ্কাল দুটি উদ্ধার করে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

সিআইডি নোয়াখালীর অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রাইছুল ইসলাম জানান, প্রথমে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে সোনাইমুড়ী থানায় একটি জিআর মামলা রেকর্ড করা হয়। সেই মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুকুর খুঁড়ে মা-ছেলের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া কঙ্কালগুলো ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কমলা বেগম দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের মধ্যে ছিলেন। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একাধিকবার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। তবে এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

এদিকে দুই বছর পর পুকুর খুঁড়ে মিলল মা-ছেলের কঙ্কাল—এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসীও এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের উন্নয়নে জাতিসংঘের আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায় সরকার

দুই বছর পর পুকুর খুঁড়ে মিলল মা-ছেলের কঙ্কাল, নোয়াখালীতে গ্রেপ্তার ৩

Update Time : ১২:৪৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

দুই বছর পর পুকুর খুঁড়ে মিলল মা-ছেলের কঙ্কাল—নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিআইডি পুকুরের মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করেছে মা কমলা বেগম ও তার ছেলে নোমানের কঙ্কাল। এ ঘটনায় নিহত নারীর দুই সৎ ছেলে ও এক নাতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) বিকেলে জয়াগ গ্রামের আবু আমিনের বাড়ির পুকুরে পানি সেচ দিয়ে ভেকু মেশিনের সাহায্যে খননকাজ চালানো হয়। পরে পুকুরের নিচে চাপা দেওয়া অবস্থায় মা ও ছেলের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায় এবং পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন  রায়পুরায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে কমলা বেগম ও তার ৯ বছরের ছেলে নোমানকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর শুকনো মৌসুমে পুকুরের মধ্যে তাদের মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে গুম করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তদন্তের একপর্যায়ে নিহত নারীর দুই সৎ ছেলে রাজু ও সাগর এবং নাতি টিপুকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডি পুকুরে খনন চালিয়ে কঙ্কাল দুটি উদ্ধার করে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন  ১৩ বছর পর জোড়া খুনের মামলার রায়, একজনের ফাঁসি

সিআইডি নোয়াখালীর অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রাইছুল ইসলাম জানান, প্রথমে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে সোনাইমুড়ী থানায় একটি জিআর মামলা রেকর্ড করা হয়। সেই মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুকুর খুঁড়ে মা-ছেলের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া কঙ্কালগুলো ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কমলা বেগম দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের মধ্যে ছিলেন। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একাধিকবার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। তবে এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

আরও পড়ুন  মাদক আইন ২০২৬: মৃত্যুদণ্ডের নতুন বিধান নিয়ে বিস্ময়কর ৭ প্রশ্ন

এদিকে দুই বছর পর পুকুর খুঁড়ে মিলল মা-ছেলের কঙ্কাল—এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসীও এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।