ঢাকা ০৭:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হারিকেলা রাজ্য: চট্টগ্রামের প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস Logo চট্টগ্রামের পুরোনো নাম: শেতগাং থেকে চট্টগ্রামের ইতিহাস Logo চট্টগ্রামে এক দিনের ভ্রমণ: ঘুরে দেখুন সেরা ৭ দর্শনীয় স্থান Logo গ্রেপ্তার এড়াতে চেহারা বদলেছিলেন ডেভিড ইমন, তবু শেষ রক্ষা হয়নি Logo ৪২ বছর বয়সে মাতৃত্বের স্বাদ পেলেন কারিশমা তান্না Logo চন্দনাইশে বন্যার পানিতে ভেসে গেল মৎস্যচাষি জেলে টিটু দাশের স্বপ্ন Logo জন্মদিনে ফিরে দেখা ববিতা, যে ১২টি তথ্য হয়তো জানেন না Logo একটি কভার গান বদলে দিয়েছে তাঁদের পথচলা, যেভাবে শুরু হয়েছিল যাত্রা Logo ‘গুলশানের চামেলি’তে নতুন রূপে বাঁধন, থাকছে শক্তিশালী নারী চরিত্র Logo গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে গান জমা দেবে না বিটিএস, বিস্মিত ভক্তরা

বিয়ের ৩০ কুসংস্কার ও ভ্রান্ত রীতি

বিয়ে

বিয়েকে ঘিরে সমাজে প্রচলিত নানা কুসংস্কার, অনৈসলামিক রীতি ও হিন্দুয়ানি প্রথা নিয়ে একটি বিস্তারিত আলোচনা সামনে এসেছে। এতে বলা হয়েছে বিয়ের নামে বহু এমন কাজ করা হয়, যা ইসলামি শরিয়তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এসব প্রথা বিয়েকে বরকতহীন করে তোলে এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়। নিচে এসব বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হলো।

বর্তমান সমাজে বিয়েকে কেন্দ্র করে বহু কুসংস্কার ও ভ্রান্ত রীতি প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই এগুলোকে বিয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে থাকেন। অথচ ইসলামে বিয়ে সহজ, সরল ও কম ব্যয়বহুল রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব ভ্রান্ত ধারণা সমাজে জটিলতা সৃষ্টি করছে।

বিয়ের আগে পাত্রী দেখার ক্ষেত্রে অনেক সময় শরিয়তবিরোধী পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। পাত্র ছাড়া অন্য পুরুষদের পাত্রী দেখাকে স্বাভাবিক মনে করা হয়। অথচ ইসলাম এ বিষয়ে সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। পাত্রী দেখার অনুমতি কেবল পাত্র ও নির্দিষ্ট মাহরামদের জন্য।

গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানকে ঘিরে নাচ-গান ও বেপর্দা পরিবেশ তৈরি করা হয়। এটি অনেক ক্ষেত্রে অশালীনতার দিকে নিয়ে যায়। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এমন পরিবেশ সম্পূর্ণ পরিহারযোগ্য। বিয়ের আনন্দ অবশ্যই শালীনতার মধ্যে থাকা উচিত।

বিয়েতে অতিরিক্ত জাঁকজমক ও ব্যয়বহুল আয়োজন একটি সাধারণ প্রবণতা হয়ে উঠেছে। অনেকে ঋণ ও সুদের মাধ্যমে এসব আয়োজন করে থাকেন। অথচ ইসলাম অল্প ব্যয়ের বিয়েকে বরকতময় বলে ঘোষণা করেছে। অপচয় ও ঋণগ্রস্ততা থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।

নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রায় স্বাভাবিক দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। একসাথে আড্ডা, গান-বাজনা ও অবাধ চলাফেরা শরিয়তবিরোধী। এতে পর্দা লঙ্ঘিত হয় এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। ইসলাম এ ধরনের পরিবেশকে নিরুৎসাহিত করে।

সমাজে যৌতুক প্রথা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কনের পরিবারকে চাপ দিয়ে অর্থ ও সম্পদ আদায় করা হয়। এতে অনেক পরিবার ঋণগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ইসলাম যৌতুককে স্পষ্টভাবে হারাম ঘোষণা করেছে।

বিয়েতে গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারের প্রচলনও ব্যাপক। অনেকেই এটিকে আনন্দের অংশ মনে করে। তবে ইসলামি বিধান অনুযায়ী এ ধরনের বিনোদন অনুচিত। বিয়ের আনন্দ নৈতিকতার সীমার মধ্যে হওয়া উচিত।

“উকিল বাপ” নামে এক ধরনের সামাজিক সম্পর্ক তৈরি করা হয়। এতে পর্দার বিধান অনেক সময় উপেক্ষিত হয়। অনেকে এটিকে প্রকৃত অভিভাবকের বিকল্প মনে করে। অথচ শরিয়তে নির্দিষ্ট অভিভাবকই বিয়ের দায়িত্বে থাকেন।

বিয়ের অনুষ্ঠানে পাত্রকে সোনার আংটি পরানোর রীতি চালু আছে। এটিকে মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু ইসলাম পুরুষের জন্য সোনার ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। এটি শরিয়তসম্মত নয়।

মোহরকে অনেকেই শুধু আনুষ্ঠানিক বিষয় হিসেবে মনে করেন। অনেক ক্ষেত্রে এটি আদায়ও করা হয় না। অথচ মোহর স্ত্রীর অধিকার এবং তা আদায় করা বাধ্যতামূলক। এটি ক্ষমা করানোর প্রথাও সঠিক নয়।

বিয়ের গোসল নামে একটি সামাজিক রীতি প্রচলিত আছে। যেখানে বরকে আনুষ্ঠানিকভাবে গোসল করানো হয়। এতে অনেক সময় অশালীনতা ও বেপর্দা দেখা যায়। ইসলাম এ ধরনের রীতিকে সমর্থন করে না।

শ্যালিকা দ্বারা বরকে হাত ধোওয়ানোর রেওয়াজও প্রচলিত। এটি পর্দা লঙ্ঘনের একটি রূপ হিসেবে বিবেচিত। ইসলামে বেগানা নারীর সাথে এমন ঘনিষ্ঠতা অনুমোদিত নয়। তাই এটি পরিহার করা জরুরি।

নির্দিষ্ট দিন-তারিখকে বিয়ের জন্য অশুভ মনে করার প্রবণতা রয়েছে। এতে কুসংস্কারের প্রকাশ ঘটে। ইসলামে কোনো দিনকে অশুভ বলা হয়নি। সব দিনই আল্লাহর সৃষ্টি।

বিয়েতে কদমবুসি করার রীতি অনেক এলাকায় প্রচলিত। এটি সম্মান প্রদর্শনের নামে করা হয়। কিন্তু ইসলাম এতে উৎসাহ দেয় না। বরং বিনয়ের ভিন্ন পদ্ধতি শিক্ষা দেয়।

বরযাত্রী নিয়ে জোরপূর্বক বা সামাজিক চাপে যাওয়ার রেওয়াজও আছে। এতে অনেক সময় কনের পরিবারকে চাপের মুখে পড়তে হয়। এটি আর্থিক ও সামাজিক বোঝা সৃষ্টি করে। ইসলাম এ ধরনের চাপকে সমর্থন করে না।

পালাক্রমে কনের মুখ দেখানোর মতো অনুচিত রীতিও দেখা যায়। এতে পর্দা লঙ্ঘনের সুযোগ তৈরি হয়। বিয়ের পরেও এমন আচরণ শরিয়তসম্মত নয়। এটি সম্পূর্ণভাবে পরিহারযোগ্য।

বিয়ের অনুষ্ঠানে সালামি গ্রহণকে অনেকেই বাধ্যতামূলক মনে করেন। এটি একটি সামাজিক কুসংস্কারে পরিণত হয়েছে। ইসলাম এটিকে প্রয়োজনীয় অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক বিষয়।

ওলিমা বা বিয়ের দাওয়াতকে অনেক সময় লোক দেখানোর মাধ্যমে পরিণত করা হয়। এতে অপচয় ও প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। অথচ ওলিমা হওয়া উচিত সুন্নাহ পালনের উদ্দেশ্যে। সাদামাটা আয়োজনই উত্তম।

বিয়ের কারণে অনেকেই ফরজ ইবাদতেও গাফিলতি করেন। নামাজ ও অন্যান্য দায়িত্ব অবহেলিত হয়। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক প্রবণতা। ইসলামে ইবাদতের আগে কোনো অনুষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া যায় না।

বিয়ের অনুষ্ঠানে বেগানা নারীদের অবাধ চলাফেরা দেখা যায়। এতে পর্দা লঙ্ঘিত হয়। এটি সামাজিকভাবে স্বাভাবিক হলেও ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। শালীনতা রক্ষা করা জরুরি।

তিনবার ইজাব-কবুল পড়ানোর প্রচলনও রয়েছে। অনেকে এটিকে বাধ্যতামূলক মনে করেন। অথচ একবার ইজাব-কবুলেই বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়। অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই।

বিয়ের পর দাঁড়িয়ে সালাম দেওয়ার রীতি অনেক এলাকায় আছে। এটিকে বাধ্যতামূলক মনে করা হয়। ইসলাম এতে কোনো নির্দেশনা দেয়নি। এটি সম্পূর্ণ সামাজিক প্রথা।

বরযাত্রার আগে কবর জিয়ারতকে কেউ কেউ নিয়ম বানিয়ে ফেলেন। এটি বিয়ের সাথে সম্পর্কিত নয়। কবর জিয়ারত আলাদা ইবাদত। এটিকে বিয়ের অংশ বানানো সঠিক নয়।

বিয়ের পর বরকে অন্দর মহলে এনে অশালীন খেলাধুলার রীতি রয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অনুচিত ও গর্হিত কাজ। ইসলাম এমন আচরণকে সমর্থন করে না। শালীনতা বজায় রাখা আবশ্যক।

ইফতারি বা উপহার পাঠানোকে অনেক এলাকায় বাধ্যতামূলক করা হয়। এতে অনেক পরিবার আর্থিক চাপে পড়ে। এটি সামাজিক চাপের একটি রূপ। ইসলাম এমন বাধ্যবাধকতা দেয় না।

কনেকে গাড়ি থেকে কোলে করে নামানোর রীতি প্রচলিত আছে। এটি অনেক সময় বেপর্দা ও অনুচিত আচরণের কারণ হয়। ইসলামে এমন কাজের অনুমোদন নেই। সম্মান প্রদর্শন শালীনভাবে করা উচিত।

সবশেষে বলা যায়, বিয়েকে সহজ ও সুন্নাহসম্মত রাখা জরুরি। কুসংস্কার ও ভ্রান্ত রীতি বর্জন করা সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম বিয়েকে সহজ করতে উৎসাহিত করেছে। তাই এসব প্রথা থেকে দূরে থাকা আবশ্যক।

জনপ্রিয় সংবাদ

হারিকেলা রাজ্য: চট্টগ্রামের প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস

বিয়ের ৩০ কুসংস্কার ও ভ্রান্ত রীতি

Update Time : ০৭:৪০:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

বিয়েকে ঘিরে সমাজে প্রচলিত নানা কুসংস্কার, অনৈসলামিক রীতি ও হিন্দুয়ানি প্রথা নিয়ে একটি বিস্তারিত আলোচনা সামনে এসেছে। এতে বলা হয়েছে বিয়ের নামে বহু এমন কাজ করা হয়, যা ইসলামি শরিয়তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এসব প্রথা বিয়েকে বরকতহীন করে তোলে এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়। নিচে এসব বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হলো।

বর্তমান সমাজে বিয়েকে কেন্দ্র করে বহু কুসংস্কার ও ভ্রান্ত রীতি প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই এগুলোকে বিয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে থাকেন। অথচ ইসলামে বিয়ে সহজ, সরল ও কম ব্যয়বহুল রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব ভ্রান্ত ধারণা সমাজে জটিলতা সৃষ্টি করছে।

বিয়ের আগে পাত্রী দেখার ক্ষেত্রে অনেক সময় শরিয়তবিরোধী পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। পাত্র ছাড়া অন্য পুরুষদের পাত্রী দেখাকে স্বাভাবিক মনে করা হয়। অথচ ইসলাম এ বিষয়ে সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। পাত্রী দেখার অনুমতি কেবল পাত্র ও নির্দিষ্ট মাহরামদের জন্য।

গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানকে ঘিরে নাচ-গান ও বেপর্দা পরিবেশ তৈরি করা হয়। এটি অনেক ক্ষেত্রে অশালীনতার দিকে নিয়ে যায়। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এমন পরিবেশ সম্পূর্ণ পরিহারযোগ্য। বিয়ের আনন্দ অবশ্যই শালীনতার মধ্যে থাকা উচিত।

বিয়েতে অতিরিক্ত জাঁকজমক ও ব্যয়বহুল আয়োজন একটি সাধারণ প্রবণতা হয়ে উঠেছে। অনেকে ঋণ ও সুদের মাধ্যমে এসব আয়োজন করে থাকেন। অথচ ইসলাম অল্প ব্যয়ের বিয়েকে বরকতময় বলে ঘোষণা করেছে। অপচয় ও ঋণগ্রস্ততা থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।

নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রায় স্বাভাবিক দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। একসাথে আড্ডা, গান-বাজনা ও অবাধ চলাফেরা শরিয়তবিরোধী। এতে পর্দা লঙ্ঘিত হয় এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। ইসলাম এ ধরনের পরিবেশকে নিরুৎসাহিত করে।

আরও পড়ুন  ক্রিপ্টো লেনদেন কি হারাম? বিস্তারিত জানালেন তাকি উসমানি

সমাজে যৌতুক প্রথা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কনের পরিবারকে চাপ দিয়ে অর্থ ও সম্পদ আদায় করা হয়। এতে অনেক পরিবার ঋণগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ইসলাম যৌতুককে স্পষ্টভাবে হারাম ঘোষণা করেছে।

বিয়েতে গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারের প্রচলনও ব্যাপক। অনেকেই এটিকে আনন্দের অংশ মনে করে। তবে ইসলামি বিধান অনুযায়ী এ ধরনের বিনোদন অনুচিত। বিয়ের আনন্দ নৈতিকতার সীমার মধ্যে হওয়া উচিত।

“উকিল বাপ” নামে এক ধরনের সামাজিক সম্পর্ক তৈরি করা হয়। এতে পর্দার বিধান অনেক সময় উপেক্ষিত হয়। অনেকে এটিকে প্রকৃত অভিভাবকের বিকল্প মনে করে। অথচ শরিয়তে নির্দিষ্ট অভিভাবকই বিয়ের দায়িত্বে থাকেন।

বিয়ের অনুষ্ঠানে পাত্রকে সোনার আংটি পরানোর রীতি চালু আছে। এটিকে মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু ইসলাম পুরুষের জন্য সোনার ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। এটি শরিয়তসম্মত নয়।

মোহরকে অনেকেই শুধু আনুষ্ঠানিক বিষয় হিসেবে মনে করেন। অনেক ক্ষেত্রে এটি আদায়ও করা হয় না। অথচ মোহর স্ত্রীর অধিকার এবং তা আদায় করা বাধ্যতামূলক। এটি ক্ষমা করানোর প্রথাও সঠিক নয়।

বিয়ের গোসল নামে একটি সামাজিক রীতি প্রচলিত আছে। যেখানে বরকে আনুষ্ঠানিকভাবে গোসল করানো হয়। এতে অনেক সময় অশালীনতা ও বেপর্দা দেখা যায়। ইসলাম এ ধরনের রীতিকে সমর্থন করে না।

শ্যালিকা দ্বারা বরকে হাত ধোওয়ানোর রেওয়াজও প্রচলিত। এটি পর্দা লঙ্ঘনের একটি রূপ হিসেবে বিবেচিত। ইসলামে বেগানা নারীর সাথে এমন ঘনিষ্ঠতা অনুমোদিত নয়। তাই এটি পরিহার করা জরুরি।

আরও পড়ুন  ইসলাম কী বলে, স্ত্রীর টাকা-কার অধিকার?

নির্দিষ্ট দিন-তারিখকে বিয়ের জন্য অশুভ মনে করার প্রবণতা রয়েছে। এতে কুসংস্কারের প্রকাশ ঘটে। ইসলামে কোনো দিনকে অশুভ বলা হয়নি। সব দিনই আল্লাহর সৃষ্টি।

বিয়েতে কদমবুসি করার রীতি অনেক এলাকায় প্রচলিত। এটি সম্মান প্রদর্শনের নামে করা হয়। কিন্তু ইসলাম এতে উৎসাহ দেয় না। বরং বিনয়ের ভিন্ন পদ্ধতি শিক্ষা দেয়।

বরযাত্রী নিয়ে জোরপূর্বক বা সামাজিক চাপে যাওয়ার রেওয়াজও আছে। এতে অনেক সময় কনের পরিবারকে চাপের মুখে পড়তে হয়। এটি আর্থিক ও সামাজিক বোঝা সৃষ্টি করে। ইসলাম এ ধরনের চাপকে সমর্থন করে না।

পালাক্রমে কনের মুখ দেখানোর মতো অনুচিত রীতিও দেখা যায়। এতে পর্দা লঙ্ঘনের সুযোগ তৈরি হয়। বিয়ের পরেও এমন আচরণ শরিয়তসম্মত নয়। এটি সম্পূর্ণভাবে পরিহারযোগ্য।

বিয়ের অনুষ্ঠানে সালামি গ্রহণকে অনেকেই বাধ্যতামূলক মনে করেন। এটি একটি সামাজিক কুসংস্কারে পরিণত হয়েছে। ইসলাম এটিকে প্রয়োজনীয় অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক বিষয়।

ওলিমা বা বিয়ের দাওয়াতকে অনেক সময় লোক দেখানোর মাধ্যমে পরিণত করা হয়। এতে অপচয় ও প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। অথচ ওলিমা হওয়া উচিত সুন্নাহ পালনের উদ্দেশ্যে। সাদামাটা আয়োজনই উত্তম।

বিয়ের কারণে অনেকেই ফরজ ইবাদতেও গাফিলতি করেন। নামাজ ও অন্যান্য দায়িত্ব অবহেলিত হয়। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক প্রবণতা। ইসলামে ইবাদতের আগে কোনো অনুষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া যায় না।

আরও পড়ুন  ইসলামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের চূড়ান্ত আইনি বিধান এবং ৫টি অজানা তথ্য

বিয়ের অনুষ্ঠানে বেগানা নারীদের অবাধ চলাফেরা দেখা যায়। এতে পর্দা লঙ্ঘিত হয়। এটি সামাজিকভাবে স্বাভাবিক হলেও ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। শালীনতা রক্ষা করা জরুরি।

তিনবার ইজাব-কবুল পড়ানোর প্রচলনও রয়েছে। অনেকে এটিকে বাধ্যতামূলক মনে করেন। অথচ একবার ইজাব-কবুলেই বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়। অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই।

বিয়ের পর দাঁড়িয়ে সালাম দেওয়ার রীতি অনেক এলাকায় আছে। এটিকে বাধ্যতামূলক মনে করা হয়। ইসলাম এতে কোনো নির্দেশনা দেয়নি। এটি সম্পূর্ণ সামাজিক প্রথা।

বরযাত্রার আগে কবর জিয়ারতকে কেউ কেউ নিয়ম বানিয়ে ফেলেন। এটি বিয়ের সাথে সম্পর্কিত নয়। কবর জিয়ারত আলাদা ইবাদত। এটিকে বিয়ের অংশ বানানো সঠিক নয়।

বিয়ের পর বরকে অন্দর মহলে এনে অশালীন খেলাধুলার রীতি রয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অনুচিত ও গর্হিত কাজ। ইসলাম এমন আচরণকে সমর্থন করে না। শালীনতা বজায় রাখা আবশ্যক।

ইফতারি বা উপহার পাঠানোকে অনেক এলাকায় বাধ্যতামূলক করা হয়। এতে অনেক পরিবার আর্থিক চাপে পড়ে। এটি সামাজিক চাপের একটি রূপ। ইসলাম এমন বাধ্যবাধকতা দেয় না।

কনেকে গাড়ি থেকে কোলে করে নামানোর রীতি প্রচলিত আছে। এটি অনেক সময় বেপর্দা ও অনুচিত আচরণের কারণ হয়। ইসলামে এমন কাজের অনুমোদন নেই। সম্মান প্রদর্শন শালীনভাবে করা উচিত।

সবশেষে বলা যায়, বিয়েকে সহজ ও সুন্নাহসম্মত রাখা জরুরি। কুসংস্কার ও ভ্রান্ত রীতি বর্জন করা সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম বিয়েকে সহজ করতে উৎসাহিত করেছে। তাই এসব প্রথা থেকে দূরে থাকা আবশ্যক।