ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ভালো ঘুমের জন্য ৬ কার্যকর অভ্যাস, জেনে নিন আজই

শরীর ও মনকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করতে প্রতিদিন একই ধরনের একটি শান্ত রুটিন অনুসরণ করতে পারেন

বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রা, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার এবং অনিয়মিত রুটিনের কারণে অনেকেই রাতে ভালোভাবে ঘুমাতে পারেন না। কেউ দীর্ঘ সময় বিছানায় শুয়েও ঘুমাতে পারেন না, আবার কারও মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম শুধু শরীরের ক্লান্তি দূর করে না, বরং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ঘুমের মান উন্নত করতে দৈনন্দিন জীবনে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কেন ভালো ঘুম এত গুরুত্বপূর্ণ?

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শুধু সারাদিন ক্লান্তি নয়, দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক অবসাদের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। অন্যদিকে, নিয়মিত ভালো ঘুম স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি, মনোযোগ ধরে রাখা, কর্মক্ষমতা উন্নত করা এবং শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়তা করে।

ভালো ঘুমের জন্য যেসব অভ্যাস গড়ে তুলবেন

১. প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমান ও জাগুন

  • ছুটির দিনেও ঘুমের রুটিন পরিবর্তন করবেন না।
  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান।
  • একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন।
  • এতে শরীরের জৈবঘড়ি (Body Clock) স্বাভাবিক থাকে এবং দ্রুত ঘুম আসে।

২. ঘুমের পরিবেশ আরামদায়ক রাখুন

ভালো ঘুমের জন্য শোবার ঘরের পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • ঘর অন্ধকার ও শান্ত রাখুন।
  • ঘরের তাপমাত্রা কিছুটা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করুন।
  • প্রয়োজন হলে ব্ল্যাকআউট পর্দা বা ইয়ারপ্লাগ ব্যবহার করুন।
  • আরামদায়ক বিছানা ও বালিশ ব্যবহার করলে গভীর ঘুমে সহায়তা করে।

৩. ঘুমানোর আগে স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করুন

বিশেষজ্ঞরা ঘুমানোর অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে মোবাইল, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ কিংবা টেলিভিশন ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন।

  • এসব ডিভাইসের ব্লু লাইট মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়।
  • ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়।
  • রাতে ফোন স্ক্রল করার অভ্যাস ধীরে ধীরে কমানো উচিত।

৪. বিকেলের পর ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন

কফি, চা, কোমল পানীয় এবং এনার্জি ড্রিংকে থাকা ক্যাফেইন শরীরে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে।

তাই—

  • বিকেল বা সন্ধ্যার পর কফি পান না করাই ভালো।
  • ঘুমানোর আগে চা বা এনার্জি ড্রিংকও এড়িয়ে চলুন।
  • চাইলে হারবাল টি বা ক্যাফেইনমুক্ত পানীয় বেছে নিতে পারেন।

৫. ঘুমের আগে শান্ত একটি রুটিন তৈরি করুন

প্রতিদিন একই ধরনের একটি শান্ত রুটিন শরীর ও মনকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করে।

যেমন—

  • হালকা গরম পানিতে গোসল করা।
  • বই পড়া।
  • মৃদু সুরের গান শোনা।
  • ধ্যান বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন করা।

এতে মস্তিষ্ক বুঝতে পারে যে এখন বিশ্রামের সময়।

৬. ঘুম না এলে বিছানায় পড়ে থাকবেন না

অনেকেই ঘুম না এলেও দীর্ঘ সময় বিছানায় শুয়ে থাকেন। এতে উদ্বেগ আরও বেড়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—

  • ২০ মিনিটের মধ্যে ঘুম না এলে বিছানা ছেড়ে উঠুন।
  • মৃদু আলোয় বই পড়ুন অথবা শান্ত সঙ্গীত শুনুন।
  • ঘুমের ভাব এলে আবার বিছানায় ফিরে যান।

ভালো ঘুম মানেই সুস্থ জীবন

ভালো ঘুম কোনো বিলাসিতা নয়, বরং সুস্থ জীবনের অন্যতম ভিত্তি। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে সতেজ রাখার পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও বিষণ্নতার ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই আজ থেকেই ছোট ছোট কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলুন। নিয়মিত ও মানসম্মত ঘুম আপনার দৈনন্দিন জীবনকে আরও কর্মক্ষম, প্রাণবন্ত এবং সুস্থ করে তুলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাইকোর্টে একদিনে ২ হাজার ৪১১ পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি, বিশেষ কার্যক্রমে দ্রুত বিচার

ভালো ঘুমের জন্য ৬ কার্যকর অভ্যাস, জেনে নিন আজই

Update Time : ০৮:৪৩:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রা, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার এবং অনিয়মিত রুটিনের কারণে অনেকেই রাতে ভালোভাবে ঘুমাতে পারেন না। কেউ দীর্ঘ সময় বিছানায় শুয়েও ঘুমাতে পারেন না, আবার কারও মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম শুধু শরীরের ক্লান্তি দূর করে না, বরং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ঘুমের মান উন্নত করতে দৈনন্দিন জীবনে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কেন ভালো ঘুম এত গুরুত্বপূর্ণ?

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শুধু সারাদিন ক্লান্তি নয়, দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক অবসাদের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। অন্যদিকে, নিয়মিত ভালো ঘুম স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি, মনোযোগ ধরে রাখা, কর্মক্ষমতা উন্নত করা এবং শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়তা করে।

ভালো ঘুমের জন্য যেসব অভ্যাস গড়ে তুলবেন

১. প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমান ও জাগুন

  • ছুটির দিনেও ঘুমের রুটিন পরিবর্তন করবেন না।
  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান।
  • একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন।
  • এতে শরীরের জৈবঘড়ি (Body Clock) স্বাভাবিক থাকে এবং দ্রুত ঘুম আসে।
আরও পড়ুন  প্রেশার কুকারে তেজপাতা দিলে কি বিস্ফোরণ হতে পারে?

২. ঘুমের পরিবেশ আরামদায়ক রাখুন

ভালো ঘুমের জন্য শোবার ঘরের পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • ঘর অন্ধকার ও শান্ত রাখুন।
  • ঘরের তাপমাত্রা কিছুটা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করুন।
  • প্রয়োজন হলে ব্ল্যাকআউট পর্দা বা ইয়ারপ্লাগ ব্যবহার করুন।
  • আরামদায়ক বিছানা ও বালিশ ব্যবহার করলে গভীর ঘুমে সহায়তা করে।

৩. ঘুমানোর আগে স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করুন

বিশেষজ্ঞরা ঘুমানোর অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে মোবাইল, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ কিংবা টেলিভিশন ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন।

  • এসব ডিভাইসের ব্লু লাইট মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়।
  • ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়।
  • রাতে ফোন স্ক্রল করার অভ্যাস ধীরে ধীরে কমানো উচিত।
আরও পড়ুন  গভীর ঘুমের উপায়: চিকিৎসকের কার্যকর পরামর্শ

৪. বিকেলের পর ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন

কফি, চা, কোমল পানীয় এবং এনার্জি ড্রিংকে থাকা ক্যাফেইন শরীরে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে।

তাই—

  • বিকেল বা সন্ধ্যার পর কফি পান না করাই ভালো।
  • ঘুমানোর আগে চা বা এনার্জি ড্রিংকও এড়িয়ে চলুন।
  • চাইলে হারবাল টি বা ক্যাফেইনমুক্ত পানীয় বেছে নিতে পারেন।

৫. ঘুমের আগে শান্ত একটি রুটিন তৈরি করুন

প্রতিদিন একই ধরনের একটি শান্ত রুটিন শরীর ও মনকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করে।

যেমন—

  • হালকা গরম পানিতে গোসল করা।
  • বই পড়া।
  • মৃদু সুরের গান শোনা।
  • ধ্যান বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন করা।

এতে মস্তিষ্ক বুঝতে পারে যে এখন বিশ্রামের সময়।

৬. ঘুম না এলে বিছানায় পড়ে থাকবেন না

অনেকেই ঘুম না এলেও দীর্ঘ সময় বিছানায় শুয়ে থাকেন। এতে উদ্বেগ আরও বেড়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন  সন্তানের অবাধ্য কথাবার্তা সামলানোর উপায়

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—

  • ২০ মিনিটের মধ্যে ঘুম না এলে বিছানা ছেড়ে উঠুন।
  • মৃদু আলোয় বই পড়ুন অথবা শান্ত সঙ্গীত শুনুন।
  • ঘুমের ভাব এলে আবার বিছানায় ফিরে যান।

ভালো ঘুম মানেই সুস্থ জীবন

ভালো ঘুম কোনো বিলাসিতা নয়, বরং সুস্থ জীবনের অন্যতম ভিত্তি। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে সতেজ রাখার পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও বিষণ্নতার ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই আজ থেকেই ছোট ছোট কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলুন। নিয়মিত ও মানসম্মত ঘুম আপনার দৈনন্দিন জীবনকে আরও কর্মক্ষম, প্রাণবন্ত এবং সুস্থ করে তুলতে পারে।