ছাত্রাবাসে ধর্ষণ অভিযোগ ঘিরে কুষ্টিয়া শহরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে শহরের একটি ছাত্রাবাসে নিয়ে গিয়ে চার দিন আটকে রেখে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকালে কৌশলে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে সাহায্য চাইলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার লক্ষীখোলা গ্রামের বাসিন্দা রাফিউজ্জামান রবিন নামে এক যুবক ওই তরুণীকে শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার একটি ছাত্রাবাসে নিয়ে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তাকে জিম্মি করে টানা কয়েক দিন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তাকে বাইরে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি পরিচয় গোপন রাখতে তার ব্যাগে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও নষ্ট করে ফেলা হয়। দীর্ঘ চার দিন সুযোগের অপেক্ষায় থাকার পর সোমবার সকালে তিনি কৌশলে ছাত্রাবাস থেকে বের হয়ে রাস্তায় এসে স্থানীয়দের কাছে সাহায্য চান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, তরুণীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মেডিকেল পরীক্ষা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, যৌন নির্যাতনের অভিযোগ থাকায় তাকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। চিকিৎসা প্রতিবেদন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত রাফিউজ্জামান রবিনকে আটক করেছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ছাত্রাবাসে ধর্ষণ অভিযোগ-এর প্রতিটি দিক গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের ঘটনা সমাজে উদ্বেগ সৃষ্টি করলেও দ্রুত আইনি পদক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।




























