ঢাকা ০৯:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ধোপাছড়ি চিড়িংঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হলেন সমাজসেবক মীর কুতুব উদ্দিন Logo ‘এনফিল্ড পল্টারগাইস্ট’: ইংল্যান্ডের রহস্যময় বাড়ির ভয়ংকর ঘটনা Logo পথের পাঁচালী: নোলানকে স্তম্ভিত করা সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী সৃষ্টি Logo ভারি বৃষ্টির সতর্কতা: আগামী ২৪ ঘণ্টায় যেসব অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির ঝুঁকি বেশি Logo গ্যাংনাম স্টাইল ইউটিউব ভিউ: অবিশ্বাস্য ৬০০ কোটি ভিউয়ের নতুন মাইলফলক Logo নারায়ণগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, নিখোঁজ স্বামী Logo ২৪ বছরেও মেরামত হয়নি চন্দনাইশ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বানু বাপের বাড়ি রাস্তা ও ড্রেনঃ সড়কে বেহাল দশা: ড্রেনের ময়লায় দুর্গন্ধ, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ Logo হামে মৃত্যু আটশ, আক্রান্ত ১২ হাজারের বেশি Logo চা শিল্প উন্নয়ন: বড় সহায়তার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo কম খরচে বাউবিতে ব্যাচেলর-মাস্টার্স, নেই বয়সের বাধা

নারায়ণগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, নিখোঁজ স্বামী

সিদ্ধিরগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নিখোঁজ স্বামীকে খুঁজছে পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে তানিয়া আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই তার স্বামী মো. সোহাগ ওরফে জুলহাস (২৭) নিখোঁজ রয়েছেন। পুলিশ তাকে খুঁজছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জালকুড়ি পশ্চিমপাড়া মাদবরবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তানিয়া আক্তার পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার পূর্বশেতা এলাকার শাহ আলমের মেয়ে। তার মা রাহিমা বেগম আগে থেকেই মারা গেছেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে তানিয়ার সঙ্গে সোহাগের বিয়ে হয়। তারা সিদ্ধিরগঞ্জে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং তানিয়া স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, সকালে সোহাগ তার মামাতো বোন নাছিমার কাছে বাসার চাবি দিয়ে বলেন, তানিয়া ভোর ৭টার দিকে গার্মেন্টসে কাজে চলে গেছেন। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নাছিমা বাসায় গিয়ে বাইরে তালাবদ্ধ অবস্থা দেখতে পান। চাবি দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলে তিনি তানিয়াকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই আতিকুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর থেকেই তানিয়ার স্বামী সোহাগের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পুলিশ তার অবস্থান শনাক্তে প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছে এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ চালাচ্ছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রিপোর্ট পাওয়ার পর এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। স্বামী নিখোঁজ থাকায় তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। ঘটনার সব দিক—পারিবারিক বিরোধ, অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো কারণ—খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয়

  1. মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন।
  2. ঘটনার আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো পারিবারিক বিরোধ ছিল কি না।
  3. সোহাগ কেন বাসার চাবি আত্মীয়ের কাছে দিয়ে নিজে নিখোঁজ হলেন।
  4. বাসার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড বিশ্লেষণ।
  5. প্রতিবেশী ও স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার সময়রেখা (timeline) যাচাই।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি রহস্যজনক মৃত্যু হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ধোপাছড়ি চিড়িংঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হলেন সমাজসেবক মীর কুতুব উদ্দিন

নারায়ণগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, নিখোঁজ স্বামী

Update Time : ০৭:১৬:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে তানিয়া আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই তার স্বামী মো. সোহাগ ওরফে জুলহাস (২৭) নিখোঁজ রয়েছেন। পুলিশ তাকে খুঁজছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জালকুড়ি পশ্চিমপাড়া মাদবরবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তানিয়া আক্তার পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার পূর্বশেতা এলাকার শাহ আলমের মেয়ে। তার মা রাহিমা বেগম আগে থেকেই মারা গেছেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে তানিয়ার সঙ্গে সোহাগের বিয়ে হয়। তারা সিদ্ধিরগঞ্জে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং তানিয়া স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন  আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ৬ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, সকালে সোহাগ তার মামাতো বোন নাছিমার কাছে বাসার চাবি দিয়ে বলেন, তানিয়া ভোর ৭টার দিকে গার্মেন্টসে কাজে চলে গেছেন। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নাছিমা বাসায় গিয়ে বাইরে তালাবদ্ধ অবস্থা দেখতে পান। চাবি দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলে তিনি তানিয়াকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই আতিকুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন  স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু: মেঘনায় গোসলে নেমে প্রাণ গেল ২ জনের

ঘটনার পর থেকেই তানিয়ার স্বামী সোহাগের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পুলিশ তার অবস্থান শনাক্তে প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছে এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ চালাচ্ছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রিপোর্ট পাওয়ার পর এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। স্বামী নিখোঁজ থাকায় তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। ঘটনার সব দিক—পারিবারিক বিরোধ, অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো কারণ—খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  চন্দনাইশে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা, আহত ৫ ও গ্রেপ্তার ২

তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয়

  1. মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন।
  2. ঘটনার আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো পারিবারিক বিরোধ ছিল কি না।
  3. সোহাগ কেন বাসার চাবি আত্মীয়ের কাছে দিয়ে নিজে নিখোঁজ হলেন।
  4. বাসার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড বিশ্লেষণ।
  5. প্রতিবেশী ও স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার সময়রেখা (timeline) যাচাই।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি রহস্যজনক মৃত্যু হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।