ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গান গাওয়া কেন ভালো লাগে? জানুন স্বাস্থ্যের উপকারিতা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:৫১:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ৫৩১

গান গাওয়া মন ও শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। | ছবি: সংগৃহীত

অনেকেই লক্ষ্য করেছেন, একা ঘরে গান গাওয়া, গাড়িতে প্রিয় গান চালিয়ে গলা মেলানো কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে কারাওকেতে গান করার পর মন অনেক ভালো লাগে। কিন্তু এই ভালো লাগার পেছনে শুধু আনন্দ নয়, রয়েছে বৈজ্ঞানিক কারণও।

গবেষণা বলছে, গান গাওয়ার উপকারিতা শুধু মানসিক প্রশান্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি শরীরের হরমোন, স্নায়ুতন্ত্র এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে গান গাওয়ার সময় মানুষের শরীর ও মস্তিষ্কে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে তা নিয়ে গবেষণা করছেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, গান গাওয়া স্ট্রেস কমাতে, মন ভালো করতে এবং মানুষের মধ্যে সামাজিক সংযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।

গান গাওয়া কমায় মানসিক চাপ

গান গাওয়ার অন্যতম বড় উপকারিতা হলো এটি শরীরের স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা কমাতে পারে। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, একা গান গাওয়া কিংবা দলবদ্ধভাবে গান করার পর মানুষের লালার নমুনায় কর্টিসলের পরিমাণ কমে যায়।

এর পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো গান গাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাস। গান করার সময় দীর্ঘ সময় ধরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে হয়, যা শরীরের ভেগাস নার্ভকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে।

ভেগাস নার্ভ শরীরের বিশ্রাম ও হজম প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। এটি হৃদস্পন্দন ধীর করতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শরীরকে শান্ত অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

তাই গান গাওয়ার জন্য বড় কোনো মঞ্চ প্রয়োজন নেই। শাওয়ারে একা গান করা কিংবা গাড়িতে বসে প্রিয় গান গাওয়াও একই ধরনের প্রশান্তি দিতে পারে।

গান গাওয়া শরীরের প্রাকৃতিক ব্যথানাশক বাড়াতে পারে

গান গাওয়ার সময় শরীরে এন্ডোরফিন নামের একটি হরমোন নিঃসৃত হতে পারে, যা প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, গান গাওয়া, নাচ এবং ড্রাম বাজানোর মতো কার্যক্রমের পর মানুষের ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা বেড়েছে। তবে শুধু গান শোনার ক্ষেত্রে একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি।

এছাড়া গান গাওয়ার সঙ্গে অক্সিটোসিন হরমোনের সম্পর্ক নিয়েও গবেষণা হয়েছে। এই হরমোন মানুষের মধ্যে বিশ্বাস ও সামাজিক বন্ধন তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

যদিও অক্সিটোসিনের প্রভাব নিয়ে সব গবেষণার ফল একই নয়, তবে একসঙ্গে গান গাওয়ার পর মানুষ সাধারণত বেশি আনন্দিত এবং অন্যদের সঙ্গে বেশি সংযুক্ত অনুভব করেন।

গান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে

গান গাওয়ার উপকারিতা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।

একটি ছোট গবেষণায় ক্যানসার রোগী ও তাদের যত্ন নেওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে গান গাওয়ার সেশন আয়োজন করা হয়। এতে দেখা যায়, গান করার পর তাদের মেজাজ ভালো হয়েছে এবং লালার মধ্যে কিছু রোগ প্রতিরোধকারী উপাদানের পরিবর্তন দেখা গেছে।

গবেষকরা বলছেন, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণা। তবে দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত স্ট্রেস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করতে পারে, তাই স্ট্রেস কমানোর মাধ্যমে গান পরোক্ষভাবে শরীরকে উপকার করতে পারে।

গান মস্তিষ্ক ও সামাজিক সম্পর্কের জন্য ভালো

গান গাওয়ার সময় মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ একসঙ্গে কাজ করে। এর মধ্যে রয়েছে শব্দ বোঝা, ভাষা, আবেগ এবং শরীরের নড়াচড়ার সঙ্গে যুক্ত অংশ।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত দলবদ্ধভাবে গান গাওয়া বয়স্কদের একাকীত্ব কমাতে এবং মানসিক অবস্থার উন্নতি করতে সাহায্য করেছে।

এছাড়া গান মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে পারে, যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে বলা যায়, গান গাওয়া শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি শরীর ও মনের জন্য একটি ইতিবাচক অভ্যাস। গান গাওয়ার উপকারিতা প্রমাণ করে যে নিজের পছন্দের গান গাওয়া হতে পারে স্ট্রেস কমানোর সহজ ও আনন্দদায়ক একটি উপায়।

তাই আপনি শাওয়ারে, গাড়িতে কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে যেখানেই গান করুন না কেন, মন খুলে গাইতে পারেন। কারণ একটি ছোট্ট গানও আপনার মন ও শরীরকে ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গান গাওয়া কেন ভালো লাগে? জানুন স্বাস্থ্যের উপকারিতা

Update Time : ০৯:৫১:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

অনেকেই লক্ষ্য করেছেন, একা ঘরে গান গাওয়া, গাড়িতে প্রিয় গান চালিয়ে গলা মেলানো কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে কারাওকেতে গান করার পর মন অনেক ভালো লাগে। কিন্তু এই ভালো লাগার পেছনে শুধু আনন্দ নয়, রয়েছে বৈজ্ঞানিক কারণও।

গবেষণা বলছে, গান গাওয়ার উপকারিতা শুধু মানসিক প্রশান্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি শরীরের হরমোন, স্নায়ুতন্ত্র এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে গান গাওয়ার সময় মানুষের শরীর ও মস্তিষ্কে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে তা নিয়ে গবেষণা করছেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, গান গাওয়া স্ট্রেস কমাতে, মন ভালো করতে এবং মানুষের মধ্যে সামাজিক সংযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।

গান গাওয়া কমায় মানসিক চাপ

গান গাওয়ার অন্যতম বড় উপকারিতা হলো এটি শরীরের স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা কমাতে পারে। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, একা গান গাওয়া কিংবা দলবদ্ধভাবে গান করার পর মানুষের লালার নমুনায় কর্টিসলের পরিমাণ কমে যায়।

আরও পড়ুন  ডায়াবেটিস না থাকলেও খাবারের পর রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ জরুরি

এর পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো গান গাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাস। গান করার সময় দীর্ঘ সময় ধরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে হয়, যা শরীরের ভেগাস নার্ভকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে।

ভেগাস নার্ভ শরীরের বিশ্রাম ও হজম প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। এটি হৃদস্পন্দন ধীর করতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শরীরকে শান্ত অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

তাই গান গাওয়ার জন্য বড় কোনো মঞ্চ প্রয়োজন নেই। শাওয়ারে একা গান করা কিংবা গাড়িতে বসে প্রিয় গান গাওয়াও একই ধরনের প্রশান্তি দিতে পারে।

গান গাওয়া শরীরের প্রাকৃতিক ব্যথানাশক বাড়াতে পারে

গান গাওয়ার সময় শরীরে এন্ডোরফিন নামের একটি হরমোন নিঃসৃত হতে পারে, যা প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, গান গাওয়া, নাচ এবং ড্রাম বাজানোর মতো কার্যক্রমের পর মানুষের ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা বেড়েছে। তবে শুধু গান শোনার ক্ষেত্রে একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন  শিশু সবজি খেতে চায় না? অভ্যাস বদলাবে ৬ সহজ কৌশলে

এছাড়া গান গাওয়ার সঙ্গে অক্সিটোসিন হরমোনের সম্পর্ক নিয়েও গবেষণা হয়েছে। এই হরমোন মানুষের মধ্যে বিশ্বাস ও সামাজিক বন্ধন তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

যদিও অক্সিটোসিনের প্রভাব নিয়ে সব গবেষণার ফল একই নয়, তবে একসঙ্গে গান গাওয়ার পর মানুষ সাধারণত বেশি আনন্দিত এবং অন্যদের সঙ্গে বেশি সংযুক্ত অনুভব করেন।

গান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে

গান গাওয়ার উপকারিতা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।

একটি ছোট গবেষণায় ক্যানসার রোগী ও তাদের যত্ন নেওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে গান গাওয়ার সেশন আয়োজন করা হয়। এতে দেখা যায়, গান করার পর তাদের মেজাজ ভালো হয়েছে এবং লালার মধ্যে কিছু রোগ প্রতিরোধকারী উপাদানের পরিবর্তন দেখা গেছে।

গবেষকরা বলছেন, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণা। তবে দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত স্ট্রেস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করতে পারে, তাই স্ট্রেস কমানোর মাধ্যমে গান পরোক্ষভাবে শরীরকে উপকার করতে পারে।

আরও পড়ুন  অঙ্কুরিত আলু-পেঁয়াজ-রসুন খাওয়া নিরাপদ? জানুন সত্য

গান মস্তিষ্ক ও সামাজিক সম্পর্কের জন্য ভালো

গান গাওয়ার সময় মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ একসঙ্গে কাজ করে। এর মধ্যে রয়েছে শব্দ বোঝা, ভাষা, আবেগ এবং শরীরের নড়াচড়ার সঙ্গে যুক্ত অংশ।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত দলবদ্ধভাবে গান গাওয়া বয়স্কদের একাকীত্ব কমাতে এবং মানসিক অবস্থার উন্নতি করতে সাহায্য করেছে।

এছাড়া গান মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে পারে, যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে বলা যায়, গান গাওয়া শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি শরীর ও মনের জন্য একটি ইতিবাচক অভ্যাস। গান গাওয়ার উপকারিতা প্রমাণ করে যে নিজের পছন্দের গান গাওয়া হতে পারে স্ট্রেস কমানোর সহজ ও আনন্দদায়ক একটি উপায়।

তাই আপনি শাওয়ারে, গাড়িতে কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে যেখানেই গান করুন না কেন, মন খুলে গাইতে পারেন। কারণ একটি ছোট্ট গানও আপনার মন ও শরীরকে ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।