ঢাকা ১০:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

মুখের ভালো ব্যাকটেরিয়া সুস্থ রাখতে যে খাবারগুলো খাবেন

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৭:৫৮:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫২৫

সঠিক খাবার মুখের ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

মুখের ভালো ব্যাকটেরিয়া শুধু দাঁত ও মাড়ির জন্য নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত। আমাদের মুখে প্রায় ৭০০ ধরনের ব্যাকটেরিয়ার পাশাপাশি ভাইরাস, ছত্রাক ও অন্যান্য অণুজীবের বসবাস। এদের মধ্যে কিছু ক্ষতিকর, আবার কিছু ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর জীবাণুকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তাই শুধু দাঁত পরিষ্কার রাখাই নয়, প্রতিদিনের খাবারও মুখের মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।

অতিরিক্ত চিনি মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার জন্য খাবার হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে Streptococcus mutans চিনি ভেঙে অ্যাসিড তৈরি করে, যা দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে ক্যাভিটি তৈরি করতে পারে। সাদা পাউরুটি, বিস্কুট, কেক ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত কার্বোহাইড্রেটও মুখে সহজে চিনিতে পরিণত হতে পারে। তাই ঘন ঘন মিষ্টি খাবার ও চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণের বদলে পূর্ণ শস্য, ডাল, শাকসবজি ও সম্পূর্ণ ফল বেছে নেওয়া ভালো।

মুখের ভালো ব্যাকটেরিয়া ধরে রাখতে সবুজ শাকসবজিও গুরুত্বপূর্ণ। পালং শাক, কেল, বিটরুট ও মূলাজাতীয় খাবারে নাইট্রেট থাকে, যা মুখের কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে নাইট্রাইটে রূপান্তর করে। পরবর্তী ধাপে এটি শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে, যা রক্তনালির কার্যক্রম ও রক্তচাপের জন্য উপকারী। রসুনেও অ্যালিসিন নামের একটি যৌগ রয়েছে, যা দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে।

চা, ফল ও কিছু উদ্ভিজ্জ খাবারে থাকা পলিফেনলও মুখের জন্য উপকারী হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, চায়ের পলিফেনল ক্যাভিটি ও মাড়ির রোগের সঙ্গে যুক্ত কিছু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি এবং দাঁতে প্লাক জমার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। গাঢ় রঙের বেরিজাতীয় ফলেও পলিফেনল রয়েছে। ক্র্যানবেরির কিছু উপাদান দাঁতের প্লাক তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্রম কমাতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

চিজ ও ফারমেন্টেড খাবারও মুখের মাইক্রোবায়োমের জন্য উপকারী হতে পারে। চিজ চিবানোর সময় লালা উৎপাদন বাড়ে, যা মুখের অতিরিক্ত চিনি পরিষ্কার করতে এবং ব্যাকটেরিয়া তৈরি অ্যাসিডকে কিছুটা নিরপেক্ষ করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে কেফিরের মতো ফারমেন্টেড খাবারে থাকা উপকারী অণুজীব কিছু ক্ষতিকর মুখের জীবাণুর বৃদ্ধি ও আঠালো বায়োফিল্ম তৈরির প্রবণতা কমাতে পারে। তবে কোনো একটি খাবারকে ‘সুপারফুড’ হিসেবে দেখার চেয়ে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সবশেষে, মুখের ভালো ব্যাকটেরিয়া বজায় রাখতে খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত দাঁত ব্রাশ ও ফ্লসিং অপরিহার্য। দিনে নিয়মিত দাঁত ও জিহ্বা পরিষ্কার করলে দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত জীবাণু কমাতে সাহায্য করে। তাই অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে শাকসবজি, সম্পূর্ণ ফল, ডাল, পূর্ণ শস্য, স্বাস্থ্যকর প্রোটিন ও পরিমিত ফারমেন্টেড খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। সুস্থ মুখের জন্য মূল কথা হলো—শুধু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া কমানো নয়, উপকারী অণুজীবের জন্যও একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করা।

জনপ্রিয় সংবাদ

দীর্ঘসময় ইতালির ক্ষমতায় থাকা মেলোনিকে মোদীর শুভেচ্ছা, বার্তায় যা লিখেছেন

মুখের ভালো ব্যাকটেরিয়া সুস্থ রাখতে যে খাবারগুলো খাবেন

Update Time : ০৭:৫৮:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুখের ভালো ব্যাকটেরিয়া শুধু দাঁত ও মাড়ির জন্য নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত। আমাদের মুখে প্রায় ৭০০ ধরনের ব্যাকটেরিয়ার পাশাপাশি ভাইরাস, ছত্রাক ও অন্যান্য অণুজীবের বসবাস। এদের মধ্যে কিছু ক্ষতিকর, আবার কিছু ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর জীবাণুকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তাই শুধু দাঁত পরিষ্কার রাখাই নয়, প্রতিদিনের খাবারও মুখের মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।

অতিরিক্ত চিনি মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার জন্য খাবার হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে Streptococcus mutans চিনি ভেঙে অ্যাসিড তৈরি করে, যা দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে ক্যাভিটি তৈরি করতে পারে। সাদা পাউরুটি, বিস্কুট, কেক ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত কার্বোহাইড্রেটও মুখে সহজে চিনিতে পরিণত হতে পারে। তাই ঘন ঘন মিষ্টি খাবার ও চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণের বদলে পূর্ণ শস্য, ডাল, শাকসবজি ও সম্পূর্ণ ফল বেছে নেওয়া ভালো।

আরও পড়ুন  শিশু আবু সাঈদের মৃত্যুতে সিলেটে হামে মৃত্যু স্পর্শ করল শতকে

মুখের ভালো ব্যাকটেরিয়া ধরে রাখতে সবুজ শাকসবজিও গুরুত্বপূর্ণ। পালং শাক, কেল, বিটরুট ও মূলাজাতীয় খাবারে নাইট্রেট থাকে, যা মুখের কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে নাইট্রাইটে রূপান্তর করে। পরবর্তী ধাপে এটি শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে, যা রক্তনালির কার্যক্রম ও রক্তচাপের জন্য উপকারী। রসুনেও অ্যালিসিন নামের একটি যৌগ রয়েছে, যা দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে।

চা, ফল ও কিছু উদ্ভিজ্জ খাবারে থাকা পলিফেনলও মুখের জন্য উপকারী হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, চায়ের পলিফেনল ক্যাভিটি ও মাড়ির রোগের সঙ্গে যুক্ত কিছু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি এবং দাঁতে প্লাক জমার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। গাঢ় রঙের বেরিজাতীয় ফলেও পলিফেনল রয়েছে। ক্র্যানবেরির কিছু উপাদান দাঁতের প্লাক তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্রম কমাতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন  নীরব ঘাতক প্রোস্টেট ক্যানসার, সচেতন না হলে বাড়তে পারে ঝুঁকি

চিজ ও ফারমেন্টেড খাবারও মুখের মাইক্রোবায়োমের জন্য উপকারী হতে পারে। চিজ চিবানোর সময় লালা উৎপাদন বাড়ে, যা মুখের অতিরিক্ত চিনি পরিষ্কার করতে এবং ব্যাকটেরিয়া তৈরি অ্যাসিডকে কিছুটা নিরপেক্ষ করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে কেফিরের মতো ফারমেন্টেড খাবারে থাকা উপকারী অণুজীব কিছু ক্ষতিকর মুখের জীবাণুর বৃদ্ধি ও আঠালো বায়োফিল্ম তৈরির প্রবণতা কমাতে পারে। তবে কোনো একটি খাবারকে ‘সুপারফুড’ হিসেবে দেখার চেয়ে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন  জয়া আহসানের ফিটনেস রহস্য: চমকপ্রদ ডায়েট ও লাইফস্টাইল জানুন

সবশেষে, মুখের ভালো ব্যাকটেরিয়া বজায় রাখতে খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত দাঁত ব্রাশ ও ফ্লসিং অপরিহার্য। দিনে নিয়মিত দাঁত ও জিহ্বা পরিষ্কার করলে দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত জীবাণু কমাতে সাহায্য করে। তাই অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে শাকসবজি, সম্পূর্ণ ফল, ডাল, পূর্ণ শস্য, স্বাস্থ্যকর প্রোটিন ও পরিমিত ফারমেন্টেড খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। সুস্থ মুখের জন্য মূল কথা হলো—শুধু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া কমানো নয়, উপকারী অণুজীবের জন্যও একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করা।