ঢাকা ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ঈদযাত্রায় গাজীপুর মহাসড়কে বাড়ছে যানবাহনের চাপ

মহাসড়কে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ বেড়েছে

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গাজীপুরের মহাসড়কগুলোতে ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে ঘরমুখী মানুষের চাপ। সোমবার সকাল থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীসংলগ্ন শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে হাজার হাজার শ্রমিক বাড়ির পথে রওনা হচ্ছেন। বিশেষ করে তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে ছুটি শুরু হওয়ায় সড়কে যাত্রী ও পরিবহনের চাপ বেড়েছে। সকাল থেকে বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে প্রায় ৫ হাজার ৬০০ কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে সোমবার প্রায় ৪২ শতাংশ কারখানায় ঈদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কারখানার মধ্যে দুই হাজারেরও বেশি তৈরি পোশাক কারখানা রয়েছে, যেখানকার শ্রমিকেরা দলবেঁধে বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন।

শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আরও প্রায় ৪৫ শতাংশ কারখানায় মঙ্গলবার ছুটি ঘোষণা করা হবে। ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় মহাসড়কে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ আরও কয়েক গুণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, সোমবার বিকেলের পর থেকেই মহাসড়কে চাপ বাড়তে পারে। কারণ অধিকাংশ শ্রমিক কারখানা ছুটির পর সরাসরি বাসস্ট্যান্ড ও মহাসড়কে এসে জড়ো হবেন। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আগাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সকাল থেকেই গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা, টঙ্গী, ভোগড়া ও চন্দ্রা এলাকায় যানবাহনের চাপ বাড়তে দেখা গেছে। এসব এলাকায় বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। ফলে কিছু স্থানে ধীরগতিতে যান চলাচল করলেও দীর্ঘ যানজট হয়নি।

মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে বিশেষ করে বাসস্ট্যান্ড ও ইউটার্ন এলাকায় যানবাহনের চাপ বেশি দেখা গেছে। যাত্রী ওঠানামা এবং সড়কের পাশে থেমে থাকা কিছু যানবাহনের কারণে সাময়িক ধীরগতি তৈরি হয়। তবে ট্রাফিক পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।

চান্দনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়া পোশাকশ্রমিক সুমি আক্তার বলেন, ঈদের সময় সাধারণত সড়কে অনেক ভোগান্তি হয়। কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত বড় কোনো যানজট দেখা যায়নি। যদিও বাসে উঠতে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে, তারপরও যাত্রা স্বস্তিদায়ক বলেই মনে হচ্ছে।

টঙ্গী থেকে ময়মনসিংহগামী যাত্রী মো. রুবেল মিয়া বলেন, পরিবহনগুলো স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি ভাড়া আদায় করছে। তারপরও সময়মতো বাস পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন। তবে বিকেলের পর পরিস্থিতি আরও চাপের হতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলাচলকারী দূরপাল্লার বাসচালক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, সকাল থেকেই যাত্রীর চাপ বাড়ছে। বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। তবে মহাসড়কের অধিকাংশ অংশে যান চলাচল এখনও স্বাভাবিক রয়েছে।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে হাইওয়ে পুলিশ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে। বিশেষ করে টঙ্গী, চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া ও চন্দ্রা এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে। এতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে পুলিশ।

হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো যানবাহন বিকল হলে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য রেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যাতে একটি গাড়ির কারণে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি না হয় সেজন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সড়কের পাশে অবৈধ পার্কিং বন্ধেও অভিযান চলছে।

মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে দেখা গেছে, অনেক যাত্রী পরিবার-পরিজন নিয়ে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ কেউ আবার ব্যক্তিগত গাড়িতে বাড়ির পথে রওনা দিয়েছেন। ফলে সকাল থেকেই সড়কে ঈদযাত্রার আমেজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এদিকে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মঙ্গলবার থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। কারণ অধিকাংশ কারখানা ওই দিন ছুটি দেবে। ফলে লাখো শ্রমিক একসঙ্গে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হলে মহাসড়কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদযাত্রায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের সড়কে নেমে পড়া। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল দেশের অন্যতম বড় কর্মসংস্থান কেন্দ্র হওয়ায় এখানকার সড়কগুলোতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। তাই আগাম পরিকল্পনা ছাড়া যানজট এড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে।

পুলিশ প্রশাসন যাত্রীদের আগেভাগে যাত্রা শুরু করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে নজরদারি চালানো হচ্ছে। কোথাও বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে যাত্রী ওঠানামা বন্ধে কাজ করছে ট্রাফিক বিভাগ। কারণ এসব অনিয়মের কারণে প্রায়ই যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে বাস থামিয়ে যাত্রী তোলা যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, কিছু পরিবহন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি ভাড়া নিচ্ছে। যদিও প্রশাসন বলছে, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

ঈদকে ঘিরে গাজীপুরের মহাসড়কগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ছাড়াও শিল্প পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। যাতে যাত্রীরা নিরাপদে ও স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সন্ধ্যার পর থেকে মহাসড়কে চাপ আরও বাড়বে। বিশেষ করে কারখানা ছুটির পর শ্রমিকেরা দলবেঁধে বাসস্ট্যান্ডে আসতে শুরু করলে পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে পারে। তাই এখন থেকেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।

এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আগামী দুই দিন গাজীপুরের মহাসড়কগুলোতে ব্যাপক চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবুও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ট্রাফিক বিভাগের সমন্বিত প্রস্তুতির কারণে এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করছেন যাত্রী ও সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে যোগদান

ঈদযাত্রায় গাজীপুর মহাসড়কে বাড়ছে যানবাহনের চাপ

Update Time : ১২:৪৫:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গাজীপুরের মহাসড়কগুলোতে ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে ঘরমুখী মানুষের চাপ। সোমবার সকাল থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীসংলগ্ন শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে হাজার হাজার শ্রমিক বাড়ির পথে রওনা হচ্ছেন। বিশেষ করে তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে ছুটি শুরু হওয়ায় সড়কে যাত্রী ও পরিবহনের চাপ বেড়েছে। সকাল থেকে বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে প্রায় ৫ হাজার ৬০০ কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে সোমবার প্রায় ৪২ শতাংশ কারখানায় ঈদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কারখানার মধ্যে দুই হাজারেরও বেশি তৈরি পোশাক কারখানা রয়েছে, যেখানকার শ্রমিকেরা দলবেঁধে বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন।

শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আরও প্রায় ৪৫ শতাংশ কারখানায় মঙ্গলবার ছুটি ঘোষণা করা হবে। ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় মহাসড়কে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ আরও কয়েক গুণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, সোমবার বিকেলের পর থেকেই মহাসড়কে চাপ বাড়তে পারে। কারণ অধিকাংশ শ্রমিক কারখানা ছুটির পর সরাসরি বাসস্ট্যান্ড ও মহাসড়কে এসে জড়ো হবেন। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আগাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা সমস্যা বাড়ছে: ১০ হাজার কোটি টাকায়ও মিলছে না সমাধান

সকাল থেকেই গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা, টঙ্গী, ভোগড়া ও চন্দ্রা এলাকায় যানবাহনের চাপ বাড়তে দেখা গেছে। এসব এলাকায় বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। ফলে কিছু স্থানে ধীরগতিতে যান চলাচল করলেও দীর্ঘ যানজট হয়নি।

মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে বিশেষ করে বাসস্ট্যান্ড ও ইউটার্ন এলাকায় যানবাহনের চাপ বেশি দেখা গেছে। যাত্রী ওঠানামা এবং সড়কের পাশে থেমে থাকা কিছু যানবাহনের কারণে সাময়িক ধীরগতি তৈরি হয়। তবে ট্রাফিক পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।

চান্দনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়া পোশাকশ্রমিক সুমি আক্তার বলেন, ঈদের সময় সাধারণত সড়কে অনেক ভোগান্তি হয়। কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত বড় কোনো যানজট দেখা যায়নি। যদিও বাসে উঠতে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে, তারপরও যাত্রা স্বস্তিদায়ক বলেই মনে হচ্ছে।

টঙ্গী থেকে ময়মনসিংহগামী যাত্রী মো. রুবেল মিয়া বলেন, পরিবহনগুলো স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি ভাড়া আদায় করছে। তারপরও সময়মতো বাস পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন। তবে বিকেলের পর পরিস্থিতি আরও চাপের হতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলাচলকারী দূরপাল্লার বাসচালক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, সকাল থেকেই যাত্রীর চাপ বাড়ছে। বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। তবে মহাসড়কের অধিকাংশ অংশে যান চলাচল এখনও স্বাভাবিক রয়েছে।

আরও পড়ুন  ঈদে জাহাজ ও লঞ্চের ভাড়া কমছে ১০ শতাংশ

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে হাইওয়ে পুলিশ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে। বিশেষ করে টঙ্গী, চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া ও চন্দ্রা এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে। এতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে পুলিশ।

হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো যানবাহন বিকল হলে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য রেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যাতে একটি গাড়ির কারণে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি না হয় সেজন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সড়কের পাশে অবৈধ পার্কিং বন্ধেও অভিযান চলছে।

মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে দেখা গেছে, অনেক যাত্রী পরিবার-পরিজন নিয়ে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ কেউ আবার ব্যক্তিগত গাড়িতে বাড়ির পথে রওনা দিয়েছেন। ফলে সকাল থেকেই সড়কে ঈদযাত্রার আমেজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এদিকে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মঙ্গলবার থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। কারণ অধিকাংশ কারখানা ওই দিন ছুটি দেবে। ফলে লাখো শ্রমিক একসঙ্গে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হলে মহাসড়কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদযাত্রায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের সড়কে নেমে পড়া। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল দেশের অন্যতম বড় কর্মসংস্থান কেন্দ্র হওয়ায় এখানকার সড়কগুলোতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। তাই আগাম পরিকল্পনা ছাড়া যানজট এড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে।

পুলিশ প্রশাসন যাত্রীদের আগেভাগে যাত্রা শুরু করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে নজরদারি চালানো হচ্ছে। কোথাও বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন  ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ইস্রাফীল

মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে যাত্রী ওঠানামা বন্ধে কাজ করছে ট্রাফিক বিভাগ। কারণ এসব অনিয়মের কারণে প্রায়ই যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে বাস থামিয়ে যাত্রী তোলা যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, কিছু পরিবহন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি ভাড়া নিচ্ছে। যদিও প্রশাসন বলছে, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

ঈদকে ঘিরে গাজীপুরের মহাসড়কগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ছাড়াও শিল্প পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। যাতে যাত্রীরা নিরাপদে ও স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সন্ধ্যার পর থেকে মহাসড়কে চাপ আরও বাড়বে। বিশেষ করে কারখানা ছুটির পর শ্রমিকেরা দলবেঁধে বাসস্ট্যান্ডে আসতে শুরু করলে পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে পারে। তাই এখন থেকেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।

এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আগামী দুই দিন গাজীপুরের মহাসড়কগুলোতে ব্যাপক চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবুও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ট্রাফিক বিভাগের সমন্বিত প্রস্তুতির কারণে এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করছেন যাত্রী ও সংশ্লিষ্টরা।