ঢাকা ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

লিভার সুস্থ রাখতে যে অভ্যাস বদলানো জরুরি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:৫৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৬

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়াম লিভার সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ছবি: সংগৃহীত

লিভার সুস্থ রাখার অভ্যাস শুধু অ্যালকোহল এড়িয়ে চলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেকেই মনে করেন, মদ্যপান না করলে লিভারের ক্ষতির ঝুঁকি নেই। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাসও ধীরে ধীরে লিভারের ক্ষতি করতে পারে, এমনকি যারা কখনও অ্যালকোহল পান করেন না তাদের ক্ষেত্রেও।

বর্তমানে লিভারের অন্যতম বড় সমস্যা হলো মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD)। আগে এটি নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার নামে পরিচিত ছিল। এই রোগের প্রধান কারণ শরীরে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমা হওয়া, যা শেষ পর্যন্ত লিভারে চর্বি হিসেবে জমতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার, সফট ড্রিংক, চিনি মেশানো পানীয়, ফাস্টফুড এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাস লিভারের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি। সমস্যা কোনো একদিনের খাবারে নয়, বরং বছরের পর বছর একই ধরনের খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।

চিনি মেশানো কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিংক বা মিষ্টি চা শরীরে দ্রুত অতিরিক্ত ক্যালোরি যোগ করে। তরল হওয়ায় এগুলো খাওয়ার পরও অনেক সময় পেট ভরা অনুভূতি হয় না। ফলে অজান্তেই প্রতিদিন শত শত অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে প্রবেশ করে, যা ধীরে ধীরে ওজন বাড়ানোর পাশাপাশি লিভারে চর্বি জমাতে ভূমিকা রাখে।

শুধু খাবার নয়, দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় জীবনযাপনও লিভারের জন্য ক্ষতিকর। আধুনিক জীবনযাত্রায় অফিসে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা, গাড়িতে চলাচল এবং বাড়ি ফিরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের সামনে সময় কাটানো খুবই সাধারণ বিষয়। এতে শরীরের ক্যালোরি খরচ কমে যায় এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতাও কমতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত হাঁটা, সাইক্লিং, জগিং, সাঁতার কিংবা হালকা ব্যায়ামের পরামর্শ দেন। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং লিভারের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের অভাব ক্ষুধা বাড়ায় এবং অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে অনেকেই মানসিক চাপ বা উদ্বেগের কারণে অপ্রয়োজনীয় খাবার খান, যা ধীরে ধীরে স্থূলতা ও ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভার সুস্থ রাখতে কোনো “ডিটক্স ড্রিংক” বা “লিভার ক্লিনজ” পানীয়ের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। বরং নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান, শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য, ডাল, বাদাম ও স্বাস্থ্যকর প্রোটিন খাদ্যতালিকায় রাখা অনেক বেশি কার্যকর।

যাদের ডায়াবেটিস, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত। কারণ ফ্যাটি লিভারের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। সময়মতো পরীক্ষা করলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লিভারকে সুস্থ রাখতে বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের ছোট ছোট ভালো অভ্যাস—চিনি কম খাওয়া, স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া, নিয়মিত হাঁটা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ—দীর্ঘমেয়াদে লিভারকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিকালে বাবার দাফন শেষে রাতে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থী

লিভার সুস্থ রাখতে যে অভ্যাস বদলানো জরুরি

Update Time : ০৮:৫৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

লিভার সুস্থ রাখার অভ্যাস শুধু অ্যালকোহল এড়িয়ে চলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেকেই মনে করেন, মদ্যপান না করলে লিভারের ক্ষতির ঝুঁকি নেই। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাসও ধীরে ধীরে লিভারের ক্ষতি করতে পারে, এমনকি যারা কখনও অ্যালকোহল পান করেন না তাদের ক্ষেত্রেও।

বর্তমানে লিভারের অন্যতম বড় সমস্যা হলো মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD)। আগে এটি নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার নামে পরিচিত ছিল। এই রোগের প্রধান কারণ শরীরে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমা হওয়া, যা শেষ পর্যন্ত লিভারে চর্বি হিসেবে জমতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার, সফট ড্রিংক, চিনি মেশানো পানীয়, ফাস্টফুড এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাস লিভারের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি। সমস্যা কোনো একদিনের খাবারে নয়, বরং বছরের পর বছর একই ধরনের খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।

আরও পড়ুন  শুধু রোদে নয়, বাসায় থেকেও হতে পারে হিট স্ট্রোক

চিনি মেশানো কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিংক বা মিষ্টি চা শরীরে দ্রুত অতিরিক্ত ক্যালোরি যোগ করে। তরল হওয়ায় এগুলো খাওয়ার পরও অনেক সময় পেট ভরা অনুভূতি হয় না। ফলে অজান্তেই প্রতিদিন শত শত অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে প্রবেশ করে, যা ধীরে ধীরে ওজন বাড়ানোর পাশাপাশি লিভারে চর্বি জমাতে ভূমিকা রাখে।

শুধু খাবার নয়, দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় জীবনযাপনও লিভারের জন্য ক্ষতিকর। আধুনিক জীবনযাত্রায় অফিসে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা, গাড়িতে চলাচল এবং বাড়ি ফিরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের সামনে সময় কাটানো খুবই সাধারণ বিষয়। এতে শরীরের ক্যালোরি খরচ কমে যায় এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতাও কমতে পারে।

আরও পড়ুন  কফি কি কোলেস্টেরল বাড়ায়? সত্যিটা জানুন সহজভাবে

বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত হাঁটা, সাইক্লিং, জগিং, সাঁতার কিংবা হালকা ব্যায়ামের পরামর্শ দেন। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং লিভারের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের অভাব ক্ষুধা বাড়ায় এবং অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে অনেকেই মানসিক চাপ বা উদ্বেগের কারণে অপ্রয়োজনীয় খাবার খান, যা ধীরে ধীরে স্থূলতা ও ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভার সুস্থ রাখতে কোনো “ডিটক্স ড্রিংক” বা “লিভার ক্লিনজ” পানীয়ের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। বরং নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান, শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য, ডাল, বাদাম ও স্বাস্থ্যকর প্রোটিন খাদ্যতালিকায় রাখা অনেক বেশি কার্যকর।

আরও পড়ুন  সাইকোজেনিক পলিডিপসিয়া: অতিরিক্ত পানি পান কেন হতে পারে বিপজ্জনক

যাদের ডায়াবেটিস, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত। কারণ ফ্যাটি লিভারের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। সময়মতো পরীক্ষা করলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লিভারকে সুস্থ রাখতে বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের ছোট ছোট ভালো অভ্যাস—চিনি কম খাওয়া, স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া, নিয়মিত হাঁটা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ—দীর্ঘমেয়াদে লিভারকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।