ঢাকা ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাকলা বিলে এক লাখ মাছের পোনা অবমুক্ত

শাকলা বিলে এক লাখ মাছের পোনা অবমুক্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার একটি বিলে এক লাখ মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের কাছাইট পূর্বপাড়া কবরস্থান ঘাটসংলগ্ন শাকলা বিলে এ পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি, দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়ানো এবং বিলের জলজ পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে এসব মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। এ সময় তিনি শাকলা বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওয়াহিদুর রহমান মজুমদার, সাবেক মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি জহিরুল হক খোকন, পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী কাউছার আহমেদ, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোস্তাফিজুর রহমানসহ স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, শাকলা বিলসংলগ্ন একটি নার্সারি পুকুরে প্রায় চার মাস আগে এক কেজি রুইজাতীয় মাছের রেণু মজুদ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ওই রেণু পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করা হয়।

চার মাসের ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যার পর সেখান থেকে প্রায় এক লাখ মাছের পোনা উৎপাদন করা হয়। উৎপাদিত এসব পোনা পরে শাকলা বিলে অবমুক্ত করা হয়েছে।

মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বিল ও জলাশয়ে পরিকল্পিতভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হলে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মাছের চাহিদা পূরণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

শাকলা বিলের মতো উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করার ফলে ভবিষ্যতে এখানে মাছের সংখ্যা ও উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে রুইজাতীয় মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তারের মাধ্যমে জলাশয়ের মাছের বৈচিত্র্যও বাড়তে পারে।

মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মাছের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করাও এ ধরনের কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। এতে একদিকে যেমন জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ সমৃদ্ধ হবে, অন্যদিকে স্থানীয় মৎস্যজীবীরাও উপকৃত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পাশাপাশি মাছের অবাধ বিচরণ ও প্রজননের পরিবেশ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য বিল ও জলাশয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার, কারেন্ট জাল ব্যবহার এবং প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার মতো কার্যক্রম বন্ধে স্থানীয়দের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন মৎস্য সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা থাকলে শাকলা বিলের মৎস্যসম্পদ আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব হবে।

শাকলা বিলে এক লাখ মাছের পোনা অবমুক্তের ফলে আগামীতে স্থানীয় বাজারে মাছের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে স্থানীয় মানুষের মাছের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি মৎস্যসম্পদের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

মাছের উৎপাদন বাড়লে স্থানীয় পর্যায়ে মাছের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি এবং বাজারে সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক জলাশয়ের সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

শাকলা বিলে এক লাখ মাছের পোনা অবমুক্তের এই উদ্যোগকে তাই স্থানীয় মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন ও সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাকলা বিলে এক লাখ মাছের পোনা অবমুক্ত

Update Time : ১০:৪৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার একটি বিলে এক লাখ মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের কাছাইট পূর্বপাড়া কবরস্থান ঘাটসংলগ্ন শাকলা বিলে এ পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি, দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়ানো এবং বিলের জলজ পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে এসব মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। এ সময় তিনি শাকলা বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওয়াহিদুর রহমান মজুমদার, সাবেক মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি জহিরুল হক খোকন, পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী কাউছার আহমেদ, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোস্তাফিজুর রহমানসহ স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন  বাণিজ্য সুরক্ষা: এলডিসি উত্তরণে সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, শাকলা বিলসংলগ্ন একটি নার্সারি পুকুরে প্রায় চার মাস আগে এক কেজি রুইজাতীয় মাছের রেণু মজুদ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ওই রেণু পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করা হয়।

চার মাসের ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যার পর সেখান থেকে প্রায় এক লাখ মাছের পোনা উৎপাদন করা হয়। উৎপাদিত এসব পোনা পরে শাকলা বিলে অবমুক্ত করা হয়েছে।

মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বিল ও জলাশয়ে পরিকল্পিতভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হলে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মাছের চাহিদা পূরণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুন  উৎসে কর তদারকি: হয়রানি না করার আহ্বান ঢাকা চেম্বারের, এনবিআরের নতুন নির্দেশনা

শাকলা বিলের মতো উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করার ফলে ভবিষ্যতে এখানে মাছের সংখ্যা ও উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে রুইজাতীয় মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তারের মাধ্যমে জলাশয়ের মাছের বৈচিত্র্যও বাড়তে পারে।

মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মাছের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করাও এ ধরনের কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। এতে একদিকে যেমন জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ সমৃদ্ধ হবে, অন্যদিকে স্থানীয় মৎস্যজীবীরাও উপকৃত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পাশাপাশি মাছের অবাধ বিচরণ ও প্রজননের পরিবেশ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য বিল ও জলাশয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার, কারেন্ট জাল ব্যবহার এবং প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার মতো কার্যক্রম বন্ধে স্থানীয়দের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন মৎস্য সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন  জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট: কলেজ শিক্ষার্থী আটক, যা জানা গেল

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা থাকলে শাকলা বিলের মৎস্যসম্পদ আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব হবে।

শাকলা বিলে এক লাখ মাছের পোনা অবমুক্তের ফলে আগামীতে স্থানীয় বাজারে মাছের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে স্থানীয় মানুষের মাছের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি মৎস্যসম্পদের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

মাছের উৎপাদন বাড়লে স্থানীয় পর্যায়ে মাছের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি এবং বাজারে সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক জলাশয়ের সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

শাকলা বিলে এক লাখ মাছের পোনা অবমুক্তের এই উদ্যোগকে তাই স্থানীয় মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন ও সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।