ঢাকা ০৫:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাংলাদেশ ইংল্যান্ড টেস্ট ২০২৭: দুর্দান্ত সুখবর, লর্ডসে খেলবে টাইগাররা Logo বড় আপডেট: কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নিয়ে নতুন বিতর্ক Logo নিট বিক্ষোভ: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হলে আলোচনা নয়, বিরোধীদের কঠোর অবস্থান Logo নীরবে বাড়ছে শিশুদের ফ্যাটি লিভার, সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা Logo অনুপ্রেরণাদায়ক পদযাত্রা: টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া হাঁটছেন ফাহিম Logo লিপস্টিকের রং দেখেই মিলতে পারে আপনার ব্যক্তিত্বের ইঙ্গিত Logo ডিজেল আমদানি প্রস্তাব স্থগিত: কেন বৈঠকে উঠল না ১৬ লাখ টনের অনুমোদন? Logo বর্ষায় বেশি ফেসওয়াশ? ত্বকের উজ্জ্বলতা হারাচ্ছেন না তো! Logo ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁস হলে দ্রুত যে ৮টি কাজ করবেন Logo পেটের মেদ কমাতে গ্রিন টির সঙ্গে খাবেন যেসব খাবার

পেটের মেদ কমাতে গ্রিন টির সঙ্গে খাবেন যেসব খাবার

শুধু গ্রিন টি নয়, সঠিক খাবার ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসেই কমতে পারে পেটের মেদ।

পেটের অতিরিক্ত মেদ কমাতে অনেকেই প্রতিদিন গ্রিন টি পান করেন। তবে শুধু গ্রিন টি খেলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না বলে জানিয়েছেন ভারতের পুষ্টিবিদ লাভনীত বাত্রা। তাঁর মতে, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং পেটের চর্বি কমাতে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদান যোগ করলে বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) ও হজমশক্তি উন্নত হতে পারে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে লাভনীত বাত্রার পরামর্শ তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, অনেকেই দ্রুত ওজন কমানোর আশায় একটি নির্দিষ্ট পানীয় বা খাবারের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু বাস্তবে কোনো একক খাবার বা পানীয় পেটের মেদ কমিয়ে দিতে পারে না। বরং সঠিক খাদ্য নির্বাচন, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুম একসঙ্গে মেনে চলাই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে কার্যকর।

যে ৭টি খাবার রাখতে পারেন খাদ্যতালিকায়

১. জিরা

জিরা শরীরের বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, এক চা-চামচ জিরা রাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি পান করা যেতে পারে। চাইলে জিরা ফুটিয়ে হালকা গরম অবস্থায়ও পান করা যায়।

২. মেথি দানা

মেথি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। রাতে এক চা-চামচ মেথি ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি পান করার পাশাপাশি ভেজানো দানাগুলো চিবিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকার অনুভূতিও মিলতে পারে।

৩. জোয়ান

জোয়ান হজমে সহায়তা করে এবং গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। খাবারের পর অল্প পরিমাণ জোয়ান চিবিয়ে খাওয়া কিংবা জোয়ান ফুটানো পানি পান করা উপকারী হতে পারে।

৪. দারুচিনি

দারুচিনি রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। আধা চা-চামচ দারুচিনি গুঁড়া গরম পানি, চা অথবা ওটস বা পোরিজের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

৫. হলুদ

হলুদে থাকা কারকিউমিন শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। পুষ্টিবিদের মতে, সকালে কুসুম গরম পানির সঙ্গে তাজা হলুদ, সামান্য গোলমরিচ এবং অল্প ঘি মিশিয়ে খেলে শরীরে হলুদের উপকারী উপাদান আরও ভালোভাবে শোষিত হতে পারে।

৬. মৌরি

মৌরি হজমশক্তি উন্নত করতে এবং শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। খাবারের পর এক চা-চামচ মৌরি চিবিয়ে খাওয়া অথবা সারাদিন মৌরি ভেজানো পানি পান করা যেতে পারে।

৭. ত্রিফলা

ত্রিফলা লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং চর্বির বিপাক প্রক্রিয়ায় সহায়ক হতে পারে। শুরুতে আধা চা-চামচ ত্রিফলা গুঁড়া কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে রাতে ঘুমানোর আগে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন লাভনীত বাত্রা। প্রয়োজন অনুযায়ী পরে ধীরে ধীরে এর পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।

শুধু এসব খাবার খেলেই কি পেটের মেদ কমবে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উপাদানগুলো স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে উপকারী হতে পারে। তবে এগুলোর কোনোটি একাই পেটের মেদ কমিয়ে দিতে পারে—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ওজন কমানোর জন্য প্রতিদিন ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ, আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত শরীরচর্চা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

পেটের মেদ কমাতে যা করবেন

  • প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করুন।
  • পর্যাপ্ত প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার খান।
  • অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে দিন।
  • প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
  • নিয়মিত একই সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন।

বিশেষজ্ঞের সতর্কতা

পুষ্টিবিদ লাভনীত বাত্রা বলেন, প্রত্যেক মানুষের শরীরের চাহিদা ও স্বাস্থ্যগত অবস্থা ভিন্ন। তাই কোনো ভেষজ উপাদান বা স্বাস্থ্যকর পানীয় নিয়মিত গ্রহণের আগে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, লিভার, কিডনি বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে নিজে থেকে এসব উপাদান গ্রহণ না করাই নিরাপদ।

সবশেষে মনে রাখতে হবে, ওজন কমানো একটি ধীর ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। কোনো একক খাবার নয়, বরং সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই পেটের মেদ কমানোর সবচেয়ে কার্যকর ও বৈজ্ঞানিক উপায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ ইংল্যান্ড টেস্ট ২০২৭: দুর্দান্ত সুখবর, লর্ডসে খেলবে টাইগাররা

পেটের মেদ কমাতে গ্রিন টির সঙ্গে খাবেন যেসব খাবার

Update Time : ০৩:৩৫:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

পেটের অতিরিক্ত মেদ কমাতে অনেকেই প্রতিদিন গ্রিন টি পান করেন। তবে শুধু গ্রিন টি খেলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না বলে জানিয়েছেন ভারতের পুষ্টিবিদ লাভনীত বাত্রা। তাঁর মতে, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং পেটের চর্বি কমাতে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদান যোগ করলে বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) ও হজমশক্তি উন্নত হতে পারে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে লাভনীত বাত্রার পরামর্শ তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, অনেকেই দ্রুত ওজন কমানোর আশায় একটি নির্দিষ্ট পানীয় বা খাবারের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু বাস্তবে কোনো একক খাবার বা পানীয় পেটের মেদ কমিয়ে দিতে পারে না। বরং সঠিক খাদ্য নির্বাচন, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুম একসঙ্গে মেনে চলাই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে কার্যকর।

যে ৭টি খাবার রাখতে পারেন খাদ্যতালিকায়

১. জিরা

জিরা শরীরের বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, এক চা-চামচ জিরা রাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি পান করা যেতে পারে। চাইলে জিরা ফুটিয়ে হালকা গরম অবস্থায়ও পান করা যায়।

২. মেথি দানা

মেথি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। রাতে এক চা-চামচ মেথি ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি পান করার পাশাপাশি ভেজানো দানাগুলো চিবিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকার অনুভূতিও মিলতে পারে।

৩. জোয়ান

জোয়ান হজমে সহায়তা করে এবং গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। খাবারের পর অল্প পরিমাণ জোয়ান চিবিয়ে খাওয়া কিংবা জোয়ান ফুটানো পানি পান করা উপকারী হতে পারে।

৪. দারুচিনি

দারুচিনি রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। আধা চা-চামচ দারুচিনি গুঁড়া গরম পানি, চা অথবা ওটস বা পোরিজের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

৫. হলুদ

হলুদে থাকা কারকিউমিন শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। পুষ্টিবিদের মতে, সকালে কুসুম গরম পানির সঙ্গে তাজা হলুদ, সামান্য গোলমরিচ এবং অল্প ঘি মিশিয়ে খেলে শরীরে হলুদের উপকারী উপাদান আরও ভালোভাবে শোষিত হতে পারে।

৬. মৌরি

মৌরি হজমশক্তি উন্নত করতে এবং শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। খাবারের পর এক চা-চামচ মৌরি চিবিয়ে খাওয়া অথবা সারাদিন মৌরি ভেজানো পানি পান করা যেতে পারে।

৭. ত্রিফলা

ত্রিফলা লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং চর্বির বিপাক প্রক্রিয়ায় সহায়ক হতে পারে। শুরুতে আধা চা-চামচ ত্রিফলা গুঁড়া কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে রাতে ঘুমানোর আগে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন লাভনীত বাত্রা। প্রয়োজন অনুযায়ী পরে ধীরে ধীরে এর পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।

শুধু এসব খাবার খেলেই কি পেটের মেদ কমবে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উপাদানগুলো স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে উপকারী হতে পারে। তবে এগুলোর কোনোটি একাই পেটের মেদ কমিয়ে দিতে পারে—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ওজন কমানোর জন্য প্রতিদিন ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ, আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত শরীরচর্চা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

পেটের মেদ কমাতে যা করবেন

  • প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করুন।
  • পর্যাপ্ত প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার খান।
  • অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে দিন।
  • প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
  • নিয়মিত একই সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন।

বিশেষজ্ঞের সতর্কতা

পুষ্টিবিদ লাভনীত বাত্রা বলেন, প্রত্যেক মানুষের শরীরের চাহিদা ও স্বাস্থ্যগত অবস্থা ভিন্ন। তাই কোনো ভেষজ উপাদান বা স্বাস্থ্যকর পানীয় নিয়মিত গ্রহণের আগে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, লিভার, কিডনি বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে নিজে থেকে এসব উপাদান গ্রহণ না করাই নিরাপদ।

সবশেষে মনে রাখতে হবে, ওজন কমানো একটি ধীর ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। কোনো একক খাবার নয়, বরং সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই পেটের মেদ কমানোর সবচেয়ে কার্যকর ও বৈজ্ঞানিক উপায়।