ঢাকা ০১:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

রাতের খাবার না খেলে কী হয়? বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

রাতের খাবার বাদ দিলে শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

রাতের খাবার না খেলে ওজন দ্রুত কমবে—এমন ধারণা অনেকের মধ্যেই রয়েছে। ব্যস্ত জীবন, অফিসের কাজ, যানজট কিংবা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের কারণে অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে রাতের খাবার এড়িয়ে যান। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঝে মধ্যে একদিন রাতের খাবার না খেলেও বড় সমস্যা নাও হতে পারে, কিন্তু এটি যদি প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহলে শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

রাতের খাবার শুধু দিনের শেষ খাবার নয়, এটি শরীরকে ঘুমের আগে প্রয়োজনীয় শক্তি ও পুষ্টি জোগায়। ঘুমের সময় দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা শরীর কোনো খাবার পায় না। তাই রাতের খাবার সুষম হলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় থাকে। পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে বসে রাতের খাবার খাওয়ার সামাজিক ও মানসিক উপকারিতাও রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, রাতের খাবার না খেলে শরীরের জৈবঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমে প্রভাব পড়তে পারে। অনিয়মিত খাবার গ্রহণের কারণে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস চলতে থাকলে হৃদ্‌স্বাস্থ্য, বিপাকক্রিয়া এবং সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে।

এছাড়া অনেক মানুষ দিনের সবচেয়ে বেশি সবজি ও পুষ্টিকর খাবার রাতেই খেয়ে থাকেন। তাই রাতের খাবার না খেলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেল ও আঁশ থেকে বঞ্চিত হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য নিয়মিত খাবার গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের খাবার না খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করতে পারে। এতে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, কাঁপুনি কিংবা শক্তির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন রাতের খাবার বাদ দেওয়া উচিত নয়।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য নিয়মিত ও সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে শুধু রাতের খাবার বাদ দেওয়ার পরিবর্তে পরিমিত খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুমের ওপর গুরুত্ব দেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এতে শরীর সুস্থ থাকবে এবং দীর্ঘমেয়াদে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমে আসবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের ক্ষমতার লড়াই: কার হাতে এখন আসল নিয়ন্ত্রণ?

রাতের খাবার না খেলে কী হয়? বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

Update Time : ১১:২৫:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

রাতের খাবার না খেলে ওজন দ্রুত কমবে—এমন ধারণা অনেকের মধ্যেই রয়েছে। ব্যস্ত জীবন, অফিসের কাজ, যানজট কিংবা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের কারণে অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে রাতের খাবার এড়িয়ে যান। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঝে মধ্যে একদিন রাতের খাবার না খেলেও বড় সমস্যা নাও হতে পারে, কিন্তু এটি যদি প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহলে শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

রাতের খাবার শুধু দিনের শেষ খাবার নয়, এটি শরীরকে ঘুমের আগে প্রয়োজনীয় শক্তি ও পুষ্টি জোগায়। ঘুমের সময় দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা শরীর কোনো খাবার পায় না। তাই রাতের খাবার সুষম হলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় থাকে। পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে বসে রাতের খাবার খাওয়ার সামাজিক ও মানসিক উপকারিতাও রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

আরও পড়ুন  ওজন কমানোর ট্যাবলেট ওয়েগোভি অনুমোদন দিল এফডিএ

গবেষণায় দেখা গেছে, রাতের খাবার না খেলে শরীরের জৈবঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমে প্রভাব পড়তে পারে। অনিয়মিত খাবার গ্রহণের কারণে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস চলতে থাকলে হৃদ্‌স্বাস্থ্য, বিপাকক্রিয়া এবং সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে।

এছাড়া অনেক মানুষ দিনের সবচেয়ে বেশি সবজি ও পুষ্টিকর খাবার রাতেই খেয়ে থাকেন। তাই রাতের খাবার না খেলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেল ও আঁশ থেকে বঞ্চিত হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য নিয়মিত খাবার গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন  ডায়াবেটিস না থাকলেও খাবারের পর রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ জরুরি

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের খাবার না খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করতে পারে। এতে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, কাঁপুনি কিংবা শক্তির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন রাতের খাবার বাদ দেওয়া উচিত নয়।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য নিয়মিত ও সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে শুধু রাতের খাবার বাদ দেওয়ার পরিবর্তে পরিমিত খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুমের ওপর গুরুত্ব দেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এতে শরীর সুস্থ থাকবে এবং দীর্ঘমেয়াদে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমে আসবে।

আরও পড়ুন  ডেঙ্গু চিকিৎসা সহজ করতে বেসরকারি হাসপাতালে বড় ছাড়ের প্রস্তাব