ঢাকা ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে স্বাস্থ্যঝুঁকি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:১৩:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • ৫২১

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন এখন একটি সাধারণ অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অনেকেই জ্বর, সর্দি-কাশি, মাথাব্যথা বা অ্যাসিডিটির মতো সমস্যায় সরাসরি ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খাচ্ছেন। কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। জ্বর ও ব্যথা কমাতে ব্যবহৃত প্যারাসিটামল সাধারণ একটি ওষুধ হলেও অতিরিক্ত সেবনে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। পাশাপাশি ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব এবং শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে।

ব্যথানাশক ওষুধ আইবুপ্রোফেন দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে পাকস্থলীতে আলসার, কিডনির সমস্যা এবং উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ে। অন্যদিকে অ্যাসপিরিন নিয়মিত সেবনে শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি দীর্ঘমেয়াদে হজমতন্ত্রের জন্যও ক্ষতিকর।

অ্যালার্জির জন্য ব্যবহৃত সেটিরিজিন অনেক সময় উপকারী হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত খেলে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া এবং মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ডায়রিয়ার জন্য ব্যবহৃত লোপেরামাইড অতিরিক্ত সেবনে কোষ্ঠকাঠিন্য, অন্ত্রের জটিলতা এবং হৃদযন্ত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এটি ভুলভাবে ব্যবহৃত হলে শরীরে টক্সিন আটকে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে।

অ্যাসিডিটির জন্য বহুল ব্যবহৃত ওষুধ ওমিপ্রাজল দীর্ঘদিন খেলে হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে প্রয়োজনীয় খনিজের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সাধারণ ওষুধও শরীরে দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। বিশেষ করে ছোট সমস্যা হলেও নিজে নিজে চিকিৎসা না করে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, সচেতনতা বাড়লে এই ধরনের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। ওষুধ যতই সাধারণ হোক না কেন, সঠিক ডোজ ও সঠিক ব্যবহারের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অপরিহার্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে যোগদান

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে স্বাস্থ্যঝুঁকি

Update Time : ০৪:১৩:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন এখন একটি সাধারণ অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অনেকেই জ্বর, সর্দি-কাশি, মাথাব্যথা বা অ্যাসিডিটির মতো সমস্যায় সরাসরি ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খাচ্ছেন। কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। জ্বর ও ব্যথা কমাতে ব্যবহৃত প্যারাসিটামল সাধারণ একটি ওষুধ হলেও অতিরিক্ত সেবনে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। পাশাপাশি ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব এবং শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে।

আরও পড়ুন  কানের টিউমারের লক্ষণ ও সতর্কতা | নীরবে বাড়ছে বিপদ, চিকিৎসকের পরামর্শ

ব্যথানাশক ওষুধ আইবুপ্রোফেন দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে পাকস্থলীতে আলসার, কিডনির সমস্যা এবং উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ে। অন্যদিকে অ্যাসপিরিন নিয়মিত সেবনে শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি দীর্ঘমেয়াদে হজমতন্ত্রের জন্যও ক্ষতিকর।

অ্যালার্জির জন্য ব্যবহৃত সেটিরিজিন অনেক সময় উপকারী হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত খেলে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া এবং মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ডায়রিয়ার জন্য ব্যবহৃত লোপেরামাইড অতিরিক্ত সেবনে কোষ্ঠকাঠিন্য, অন্ত্রের জটিলতা এবং হৃদযন্ত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এটি ভুলভাবে ব্যবহৃত হলে শরীরে টক্সিন আটকে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে।

আরও পড়ুন  হামের সংক্রমণ বেড়েছে ,বিগত দুই সরকারের ব্যর্থতায় পরিস্থিতি ভয়াবহ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অ্যাসিডিটির জন্য বহুল ব্যবহৃত ওষুধ ওমিপ্রাজল দীর্ঘদিন খেলে হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে প্রয়োজনীয় খনিজের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সাধারণ ওষুধও শরীরে দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। বিশেষ করে ছোট সমস্যা হলেও নিজে নিজে চিকিৎসা না করে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

আরও পড়ুন  হামের প্রকোপে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু: সারাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, সচেতনতা বাড়লে এই ধরনের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। ওষুধ যতই সাধারণ হোক না কেন, সঠিক ডোজ ও সঠিক ব্যবহারের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অপরিহার্য।