ঢাকা ১২:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo প্লাস্টিকের ব্যাগে বিশ্বকাপ ট্রফি? কুকুরেয়ার ভিডিওর আসল রহস্য Logo হুতিদের নৌ অবরোধ ঘোষণা: সৌদির জন্য বড় হুমকি, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা Logo ধূমপান ছাড়ার ৪ সহজ উপায়, জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ Logo চরমোনাই পীরের কড়া বার্তা: ইসলামের নামে একাধিক দল নিয়ে প্রশ্ন Logo ইয়ামালের প্রেমিকা ইনেস, এক রাতেই ফলোয়ারে চমক Logo এআই প্রযুক্তিতে পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ: ৭ পরিবর্তনে নতুন সম্ভাবনা Logo ঘুম না এলে রাতে করুন এই ৭ ব্যায়াম, মিলবে স্বস্তির ঘুম Logo ঘুমের অভাব কি ডায়াবেটিস ডেকে আনে? জানুন বিশেষজ্ঞদের মতামত Logo শিশুর লাশ উদ্ধার: আলমারিতে মরদেহ, গণপিটুনিতে নারী নিহত | চাঞ্চল্যকর ঘটনা Logo অর্জুন কাপুর-সাহিবা বালি: ভাইরাল ছবি ঘিরে নতুন চমক, প্রেমের জল্পনা

কাজুবাদাম আমদানিতে সুবিধা বাড়ায় চাপে দেশীয় উদ্যোক্তারা

কাজুবাদাম আমদানির বাড়তি সুবিধায় চাপে স্থানীয় কারখানা ও কৃষকরা।

কাজুবাদাম আমদানি সহজ হওয়ায় বাংলাদেশের দেশীয় উদ্যোক্তারা এখন বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন। দেশে গত কয়েক বছরে ছোট-বড় প্রায় ২০টি কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাত কারখানা গড়ে উঠেছে। পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত কাঁচা কাজুবাদাম সংগ্রহ করে এসব কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করা হতো। তবে আমদানিতে কম শুল্ক–কর এবং নতুন সুবিধা দেওয়ায় বিদেশি কাজুবাদামের দাপট বেড়ে গেছে। এতে স্থানীয় শিল্প প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।

বর্তমানে কাজুবাদাম আমদানিতে মোট শুল্ক–কর প্রায় ৪৬ শতাংশ। অন্যদিকে কাঠবাদাম ও আখরোটের মতো সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর পণ্যে শুল্ক–কর ৬২ শতাংশ। ফলে আমদানিকারকেরা কাজুবাদামে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। সম্প্রতি ‘হালকা আবরণযুক্ত’ কাজুবাদাম আমদানিতে নতুন করসুবিধা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। এই সুবিধার কারণে প্রতি কেজিতে প্রায় ১০১ থেকে ১০৭ টাকা পর্যন্ত করছাড় পাচ্ছেন আমদানিকারকেরা।

কেন চাপে পড়ছে দেশীয় শিল্প?

দেশীয় উদ্যোক্তারা কাঁচা কাজুবাদাম সংগ্রহ করে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা খাবার উপযোগী করে তোলেন। কাঁচা বাদামের খোসায় থাকা রাসায়নিক উপাদান দূর করতে বাষ্পে সেদ্ধ, শুকানো ও খোসা ছাড়ানোর মতো বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। উদ্যোক্তাদের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ কেজি কাঁচা বাদাম থেকে মাত্র এক কেজি ভালো মানের কাজুবাদাম পাওয়া যায়। এর মধ্যে আবার প্রায় ৩০ শতাংশ বাদাম ভাঙা থাকে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

  • দেশে বর্তমানে প্রায় ২০টি কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাত কারখানা রয়েছে
  • কয়েকটি কারখানা ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে
  • বেশির ভাগ কারখানা অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে
  • স্থানীয় উৎপাদন খরচ ১,২৫০ থেকে ১,২৮০ টাকা পর্যন্ত
  • বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১,১০০ থেকে ১,১৪০ টাকায়

অন্যদিকে আমদানিকৃত কাজুবাদামের খরচ তুলনামূলক কম। বিশেষ করে হালকা আবরণযুক্ত বাদামে খরচ আরও কম হওয়ায় আমদানিকারকেরা বেশি মুনাফা পাচ্ছেন। এতে দেশীয় উদ্যোক্তারা টিকতে পারছেন না।

কৃষকরাও পাচ্ছেন কম দাম

পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকেরাও এবার কাজুবাদামের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। বান্দরবানের রুমা এলাকার কৃষকরা জানিয়েছেন, গত বছর প্রতি মণ কাজুবাদাম সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এবার পাঁচ হাজার টাকার বেশি দাম উঠছে না। আগে কারখানাগুলো কাঁচা বাদাম কিনতে প্রতিযোগিতা করলেও এবার সেই চাহিদা কমে গেছে।

বড় বিনিয়োগও থমকে গেছে

দেশীয় এই শিল্পের সম্ভাবনা দেখে দেশের বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোও বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছিল। বিএসআরএম গ্রুপ চট্টগ্রামে কারখানা চালু করার পাশাপাশি নতুন প্রকল্পে ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। কাজী ফার্মস গ্রুপও বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু আমদানিতে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার পর এসব উদ্যোগ এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের দাবি কী?

উদ্যোক্তাদের দাবি, আমদানিতে মূল্য কারসাজি বন্ধ করতে হবে এবং স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে নীতিগত সহায়তা বাড়াতে হবে। না হলে বাংলাদেশে গড়ে ওঠা কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাত শিল্প আবারও পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হয়ে পড়বে। এতে ক্ষতির মুখে পড়বেন স্থানীয় কৃষক, উদ্যোক্তা ও শ্রমিকরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্লাস্টিকের ব্যাগে বিশ্বকাপ ট্রফি? কুকুরেয়ার ভিডিওর আসল রহস্য

কাজুবাদাম আমদানিতে সুবিধা বাড়ায় চাপে দেশীয় উদ্যোক্তারা

Update Time : ০৯:২৮:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
কাজুবাদাম আমদানি সহজ হওয়ায় বাংলাদেশের দেশীয় উদ্যোক্তারা এখন বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন। দেশে গত কয়েক বছরে ছোট-বড় প্রায় ২০টি কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাত কারখানা গড়ে উঠেছে। পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত কাঁচা কাজুবাদাম সংগ্রহ করে এসব কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করা হতো। তবে আমদানিতে কম শুল্ক–কর এবং নতুন সুবিধা দেওয়ায় বিদেশি কাজুবাদামের দাপট বেড়ে গেছে। এতে স্থানীয় শিল্প প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।

বর্তমানে কাজুবাদাম আমদানিতে মোট শুল্ক–কর প্রায় ৪৬ শতাংশ। অন্যদিকে কাঠবাদাম ও আখরোটের মতো সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর পণ্যে শুল্ক–কর ৬২ শতাংশ। ফলে আমদানিকারকেরা কাজুবাদামে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। সম্প্রতি ‘হালকা আবরণযুক্ত’ কাজুবাদাম আমদানিতে নতুন করসুবিধা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। এই সুবিধার কারণে প্রতি কেজিতে প্রায় ১০১ থেকে ১০৭ টাকা পর্যন্ত করছাড় পাচ্ছেন আমদানিকারকেরা।

কেন চাপে পড়ছে দেশীয় শিল্প?

দেশীয় উদ্যোক্তারা কাঁচা কাজুবাদাম সংগ্রহ করে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা খাবার উপযোগী করে তোলেন। কাঁচা বাদামের খোসায় থাকা রাসায়নিক উপাদান দূর করতে বাষ্পে সেদ্ধ, শুকানো ও খোসা ছাড়ানোর মতো বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। উদ্যোক্তাদের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ কেজি কাঁচা বাদাম থেকে মাত্র এক কেজি ভালো মানের কাজুবাদাম পাওয়া যায়। এর মধ্যে আবার প্রায় ৩০ শতাংশ বাদাম ভাঙা থাকে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

  • দেশে বর্তমানে প্রায় ২০টি কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাত কারখানা রয়েছে
  • কয়েকটি কারখানা ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে
  • বেশির ভাগ কারখানা অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে
  • স্থানীয় উৎপাদন খরচ ১,২৫০ থেকে ১,২৮০ টাকা পর্যন্ত
  • বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১,১০০ থেকে ১,১৪০ টাকায়

অন্যদিকে আমদানিকৃত কাজুবাদামের খরচ তুলনামূলক কম। বিশেষ করে হালকা আবরণযুক্ত বাদামে খরচ আরও কম হওয়ায় আমদানিকারকেরা বেশি মুনাফা পাচ্ছেন। এতে দেশীয় উদ্যোক্তারা টিকতে পারছেন না।

কৃষকরাও পাচ্ছেন কম দাম

পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকেরাও এবার কাজুবাদামের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। বান্দরবানের রুমা এলাকার কৃষকরা জানিয়েছেন, গত বছর প্রতি মণ কাজুবাদাম সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এবার পাঁচ হাজার টাকার বেশি দাম উঠছে না। আগে কারখানাগুলো কাঁচা বাদাম কিনতে প্রতিযোগিতা করলেও এবার সেই চাহিদা কমে গেছে।

বড় বিনিয়োগও থমকে গেছে

দেশীয় এই শিল্পের সম্ভাবনা দেখে দেশের বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোও বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছিল। বিএসআরএম গ্রুপ চট্টগ্রামে কারখানা চালু করার পাশাপাশি নতুন প্রকল্পে ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। কাজী ফার্মস গ্রুপও বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু আমদানিতে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার পর এসব উদ্যোগ এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের দাবি কী?

উদ্যোক্তাদের দাবি, আমদানিতে মূল্য কারসাজি বন্ধ করতে হবে এবং স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে নীতিগত সহায়তা বাড়াতে হবে। না হলে বাংলাদেশে গড়ে ওঠা কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাত শিল্প আবারও পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হয়ে পড়বে। এতে ক্ষতির মুখে পড়বেন স্থানীয় কৃষক, উদ্যোক্তা ও শ্রমিকরা।